অর্ধ শতাব্দীর স্বাধীন দেশে স্বাধীনতার বিপক্ষের রাজনীতি থাকতে পারে না –তথ্যমন্ত্রী

চট্টগ্রাম, ১৬ অগ্রহায়ণ (১ ডিসেম্বর) : তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছর পর দেশে আর স্বাধীনতার বিপক্ষের রাজনীতি থাকতে পারে না। তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে স্বাধীনতার পক্ষের রাজনীতি ও স্বাধীনতার বিপক্ষের রাজনীতি। যারা আমাদের স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করে না তাদের অনেকেই বিএনপির নেতৃত্বের জোটে সম্পৃক্ত।

২০ দলীয় জোটের মধ্যে অনেক দল আছে, যাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশকে একটি তালেবানি রাষ্ট্রে রূপান্তর করা। যাদের অনেকেই আফগানিস্তান থেকে ট্রেনিং নিয়ে ঘুরে এসেছেন। স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছর পর দেশে স্বাধীনতার বিপক্ষের রাজনীতি থাকতে পারে না। ‘আমাদের দেশে এমন হওয়া উচিত সরকারি দল হবে স্বাধীনতার পক্ষে বিরোধী দলও হবে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি’ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি সেজন্য ন্যাপ মোজাফফর ও কমিউনিস্ট পার্টি-সহ যারা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির দল আছে তাদের আরো শক্তি সঞ্চয় করা প্রয়োজন।

শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে মুক্তিযুদ্ধের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংগঠক, মুক্তিযুদ্ধকালীন যৌথ গেরিলা বাহিনীর প্রধান সংগঠক, ন্যাপ প্রধান অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ এর নাগরিক শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজনীতি ও বিএনপি প্রসঙ্গে এসময় আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান আরো বলেন, ‘জিয়াউর রহমান রাজনীতিতে বণিকায়ন ও দূর্বৃত্তায়ন করেছিলেন।

যারা রাজনীতি করতো তাদের হাত থেকে রাজনীতিটাকে ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। আর সেটিকে আরো পূর্ণতা দিয়েছিল স্বৈরশাসক এরশাদ। একেবারে ষোলকলা পূর্ণ করেছিল বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর। এভাবেই রাজনীতি যে একটা ব্রত সেটা হারিয়ে গেল। এটা একটি দেশের জন্য এবং সমাজের জন্য আমি মনে করি প্রচন্ড দুঃখজনক।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কে কত টাকা দলের ফান্ডে দিতে পারল তাকে দলের মনোনয়ন দেয়া হবে এবং তারা অনেকে এমপি হয়েছিলেন। এভাবে রাজনীতিকে বণিকায়ন করা হলো। রাজনীতিতে দূর্বৃত্তায়ন করা হলো। ১৯৭৯ সালে কিভাবে নির্বাচন হয়েছিল সেটা আমাদের সবার মনে আছে নিশ্চয়। চট্টগ্রামের জামালখান সড়কে কিভাবে খোলা কিরিচ উঁচিয়ে ভোটের আগের দিন মানুষের মাঝে ভীতির সঞ্চার করেছিল যাতে কেউ ভোট দিতে না যান।’

অধ্যাপক মোজাফফরের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনীতি একটা ব্রত। রাজনীতি মানুষের কল্যাণের জন্য, সমাজ পরিবর্তনের জন্য, সমাজের অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো এবং দেশ বিনির্মাণের জন্য হচ্ছে রাজনীতি। দেশের ইতিহাসে একজন কিংবদন্তির নাম অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অনন্য অবদান রেখেছেন তিনি। তার অসামান্য অবদান ছিল মুক্তিযুদ্ধে, তিনি রাজনীতিকে ব্রত হিসেবে নিয়েছিলেন এবং সে জন্য তিনি আরাম-আয়েশ ত্যাগ করেছিলেন। তিনি চাইলে মন্ত্রী ও অনেক বিত্ত-বৈভবের মালিক হতে পারতেন।

তিনি বলেন, রাজনীতি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়, রাজনীতি মন্ত্রী এমপি হওয়ার জন্য নয়। দেশ পরিবর্তন করতে হলে সমাজ পরিবর্তন করতে হলে দলকে ক্ষমতায় নিতে হয়। রাজনীতি হচ্ছে দেশ ও সমাজ পরিবর্তনের জন্য। আমি যেই কর্মসূচিতে বিশ্বাস করি যে মূল্যবোধে বিশ্বাস করি যে রাজনৈতিক চেতনায় বিশ্বাস করি সেটিকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য হচ্ছে রাজনীতি। এটি আজকে রাজনীতিবিদরা ভুলে গেছেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জীবনে সংসার পেতেছিলেন, কিন্তু সংসার করেননি। তখনকার যারা রাজনীতিতে ছিলেন তারা এভাবেই দেশের এবং সমাজের জন্য রাজনীতিকে ব্রত হিসেবে নিয়েছিলেন। আজকে রাজনীতিবিদরা এটি ভুলে গেছেন। রাজনীতিকে একটি ব্রত সেটা মানুষও এখন মনে করেন না।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজনীতিকে ব্রত হিসেবে নিয়েছেন। আমাদের মনে আছে, ৮১ সালে বাংলাদেশে পদার্পণ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ১৯ বার তাকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তিনি বারবার মৃত্যু উপত্যকা থেকে ফিরে এসেছেন। কখনো বিচলিত হননি বরং বারবার মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসে তিনি আরো দীপ্ত পদভারে মানুষের সংগ্রামের কাফেলাকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। আজকের তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ নতুন উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার জামালপুরে কমিউনিস্ট পার্টির পদযাত্রায় হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই সমীচীন হয়নি।

অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ নাগরিক শোকসভা কমিটি আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ন্যাপের প্রেসিডিয়াম সদস্য আইভি আহমদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, নঈম উদ্দিন চৌধুরী, ন্যাপের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক ইসমাঈল হোসেন প্রমূখ।

পোষ্টটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *