আগামী ১২ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন

অনলাইন ডেস্ক : আগামী ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনকে ঘিরে নেতৃত্ব নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক জল্পনা কল্পনা। পছন্দের ব্যক্তিকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বে আনতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীদের কর্মী সমর্থক শুভাকাক্সিক্ষরা। তবে সম্ভাব্য এসব প্রার্থীদের অনেকেই এখনো প্রার্থী হওয়া না হওয়া নিয়ে মুখ খোলেননি। যদিও এসব প্রার্থীদের কমপক্ষে একজন সভাপতি প্রার্থীর পক্ষে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণাকে ভাইরাল করতে অর্থের বিনিময়ে বুশ করানোর কৌশল গ্রহণ করতে দেখা গেছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাধারণ সম্পদকের দুটি পদে ব্যক্তিগতভাবে আগ্রহী এবং এখনও সিদ্ধান্ত নেননি এমন প্রায় এক ডজন নেতার পক্ষে প্রচারণা শুরু হয়েছে। এই প্রচারণায় সভাপতি পদে প্রায় হাফ ডজন প্রবীনের নাম সামনে এলেও সাধারণ সম্পাদক পদে একজন বাদে সবাই নবীন। এক্ষেত্রে সাধারণ সম্পাদক পদে আশি ও নব্বইয়ের দশকের ছাত্রনেতারাও প্রার্থী হতে তৎপর হয়ে উঠেছেন।

এখন পর্যন্ত সভাপতি পদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রচারণায় নাম এসেছে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্ঠামন্ডলীর সদস্য ও সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি, সাবেক সফল স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক এমপি। তাকে সভাপতি হিসেবে দেখার আগ্রহ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার পক্ষে তার কিছু তরুণ সমর্থককে প্রচারণা চালাতে দেখা যায়।

তিনি সাতক্ষীরা জেলার উন্নয়নের রূপকার। তার নেতৃত্বেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। জেলা পর্যায়ের আরো একটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠান নলতা ম্যাটস।

প্রচারণা শুরু হয়েছে, জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য মুনসুর আহমেদের পক্ষে। তারপক্ষে কর্মী সমর্থকরা দোয়া ও সমর্থন চেয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থেকে সংসদ সদস্য এবং জেলা পরিষদের প্রশাসকও ছিলেন। তিনি গত প্রায় অর্ধ শতক আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন।

প্রচারণা চলছে, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে। তিনি দলের জেলা সভাপতি ছিলেন। এছাড়া সাতক্ষীরা-১ আসন (তালা-কলারোয়া) এর সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তার হাত দিয়ে সাতক্ষীরা বাইপাস সড়ক, টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, কপোতাক্ষ খনন প্রকল্পসহ দৃশ্যমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ হয়।

প্রচারণা চলছে, সাতক্ষীরা সদর আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবির পক্ষে। তিনি সাতক্ষীরা সদর আসন থেকে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলামের পক্ষে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা শুরু হলেও তারপক্ষের কেউ কেউ তাকে সভাপতি প্রার্থী হওয়ার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে। মো. নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগে দীর্ঘ সময় ধরে সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন এবং বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে জনসেবা করছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হতে ফেসবুকে ব্যাপক তৎপরতা চলছে দলের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবুর পক্ষে। তিনি এই প্রজন্মের তরুণদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদের প্রচারণায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তিনি সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ছিলেন জেলা যুবলীগেরও সাধারণ সম্পাদক।

সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা শুরু হয়েছে, নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী গণ-আন্দোলনে নেতা এবং পঁচাত্তর পরবর্তী জেলায় পুনরায় ছাত্রলীগের কার্যক্রম শুরু করতে সংগঠকের ভূমিকা পালনকারী শেখ সাহিদ উদ্দিনের নাম। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক। তিনি চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ক্লিনহার্ট অপারেশনে যৌথবাহিনীর হাতে চরম নির্যাতনের শিকার হন। তিনি একজন ত্যাগি নেতা হিসেবে পরিচিত।

একই পদে প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা শুরু হয়েছে, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফিরোজ কামাল শুভ্রর পক্ষে। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি সৈয়দ কামাল বখত সাকির পুত্র।

সাধারণ সম্পাদক পদে প্রচারণার কথা শোনা যাচ্ছে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ আবু আহমেদের পক্ষে। তিনি সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক কালের চিত্র পত্রিকার সম্পাদক। সাতক্ষীরার ভূমিহীন আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে বলে প্রচারণায় বলা হয়েছে।

সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নাম এসেছে, জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শেখ হারুণ অর রশিদের। তিনি একজন সার্বক্ষণিক রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে দলের কর্মকান্ডে নিবেদিত বলে প্রচারণায় বলা হয়েছে। তিনি ছিলেন জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলস সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক।

এদিকে যাদের নামে প্রচারণা শুরু হয়েছে তাদের অধিকাংশের রয়েছে ধারাবাহিক রাজনৈতিক কর্মকান্ডের গৌরবোজ্জ্বল অতীত। তাদের রয়েছে ব্যাপক সুখ্যাতি। তাদের কারো কারো হাত ধরে জেলার উন্নয়ন হয়েছে। আবার কেউ কেউ চরম দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে অর্থ সম্পদ গড়ে তুলতে তৎপর রয়েছেন।

স্কুল কলেজ মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগ ও এমপিও বাণিজ্য, প্রাইমারী স্কুলের পিয়ন নিয়োগ বাণিজ্য, বিভিন্ন অফিস আদালতে কমিশন বাণিজ্য, হাসপাতালের ল্যাব থেকে কমিশন বাণিজ্য, রেজিস্ট্রি অফিস-পাসপোর্ট অফিস-বিআরটিএ-সেটেলমেন্ট অফিসে ভাই ভগ্গর আত্মীয় স্বজনদের কমিশন বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য, ধান-চাল ক্রয়ে কমিশন খাওয়া, বিরোধপূর্ণ জমাজমি দখল, টিআর-কাবিখা লোপাটে পারদর্শীতার অভিযোগ। রয়েছে পায়খানা-প্রস্রাববের বাথরুম থেকে তোলার অভিযোগ। টাকার বিনিময়ে জঙ্গি-জামাতকেও আওয়ামী লীগ বানানোর অভিযোগ। রাজনীতিকে ওয়ান টাইম ব্যবসা হিসেবে নিয়ে আখের গোছাতে ব্যস্ত বলে প্রাচারও রয়েছে।

পোষ্টটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *