1. altafbabu1@gmail.com : news :
  2. altafbabu1@gmail.com : Satkhira Times : Satkhira Times
July 17, 2024, 2:25 am
Title :
সাতক্ষীরায় সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু বলতে কিছু নেই, সকলেই সমান: এমপি আশু আন্দোলনের নামে মুক্তিযুদ্ধ অবমাননাকারীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি সন্তান কমান্ডের বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ডিবি গার্লস হাইস্কুলে বিশেষ সভা সর্বজনীন পেনশন স্কিম বিষয়ে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত দেবহাটায় আরইআরএমপি প্রকল্পের নারীদের সঞ্চিত অর্থের চেক ও সনদপত্র বিতরণ দেবহাটায় সুদমুক্ত ঋনের চেক, হুইল চেয়ার ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ খুলনায় বৃক্ষমেলা শুরু তালা বাজার বণিক সমিতির সহ-সভাপতি রানাকে সাময়িক বহিষ্কার সাতক্ষীরার তালায় ডাকাত রিয়াজুল গ্রুপের প্রধান রিয়াজুল ইসলাম গ্রেপ্তার বসন্তপুর নদীবন্দর পরিদর্শন করলেন বিআইডব্লিউটি ও ভূ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা

আজ ২০ আগস্ট বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী

  • আপডেট সময় Saturday, August 20, 2022

ন্যাশনাল ডেস্ক : ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান ছিনতাই করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যাওয়ার পথে নিহত হন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান। এই দিন পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের উদ্দেশ্যে একাত্তরের ২০ আগস্ট করাচির মাশরুর বিমানঘাঁটিতে বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে একটি টি-৩৩ প্রশিক্ষণ বিমান ছিনতাই করেন মতিউর রহমান। বিমানটির নবীন পাইলট ছিলেন পাঞ্জাবি রাশেদ মিনহাজ। অনুশীলনের জন্য কন্ট্রোল টাওয়ারের ক্লিয়ারেন্স পেয়ে তিনি বিমানটি নিয়ে ২৭ নম্বর রানওয়েতে যেতে ৪ নম্বর ট্যাক্সি ট্র্যাক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। মতিউর রহমান তখন ফ্লাইট সেফটি কর্মকর্তা। তিনি তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে দ্রুত সেখানে গিয়ে রাশেদ মিনহাজকে থামার সংকেত দেন।

রাশেদ মিনহাজ বিমানের ক্যানোপি তুলে মতিউর রহমানকে জিজ্ঞাসা করেন, কী হয়েছে? তখন মতিউর রহমান লাফ দিয়ে ককপিটে উঠে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। এরপর ভারতের উদ্দেশে রওনা দেন। একপর্যায়ে মিনহাজ বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হলে সিন্ধুর বেদিনে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে মতিউর রহমান শহীদ হন।

১৯৪১ সালের ২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার ১০৯, আগা সাদেক রোডের “মোবারক লজ”-এ জন্মগ্রহণ করেন মতিউর রহমান। তার পৈতৃক নিবাস নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার রামনগর গ্রামে। যা এখন মতিনগর নামে পরিচিত। ৯ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন ৬ষ্ঠ। তার বাবা মৌলভী আবদুস সামাদ, মা সৈয়দা মোবারকুন্নেসা খাতুন। ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে ষষ্ঠ শ্রেণী পাস করার পর সারগোদায় পাকিস্তান বিমান বাহিনী পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন। ডিস্টিংকশনসহ মেট্রিক পরীক্ষায় সাফল্যের সাথে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন।

১৯৬১ সালে তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৬৩ সালে রিসালপুর পি,এ,এফ কলেজ থেকে পাইলট অফিসার হিসেবে কমিশন লাভ করেন। কমিশন প্রাপ্ত হবার পর তিনি করাচির মৌরিপুর (বর্তমান মাসরুর) এয়ার বেজ এর ২ নম্বর স্কোয়ার্ডন এ জেনারেল ডিউটি পাইলট হিসাবে নিযুক্ত হন। এখানে তিনি টি-৩৩ জেট বিমানের উপর কনভার্সন কোর্স সম্পন্ন করেন এবং ৭৫.৬৬% নম্বর পেয়ে উর্ত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি এফ-৮৬ স্যাবর জেট এর উপরেও কনভার্সন কোর্স করেন এবং ৮১% নম্বর পেয়ে উর্ত্তীর্ণ হন। বৈমানিক কনভার্সন কোর্স এ ভালো ফলাফলের ভিত্তিতে তাকে পেশোয়ারে (১৯ নং স্কোয়ার্ডন) এ পোস্টিং দেয়া হয়।

১৯৬৫ তে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় ফ্লাইং অফিসার অবস্থায় কর্মরত ছিলেন। এরপর মিগ কনভার্সন কোর্সের জন্য পুনরায় সারগোদায় যান। সেখানে ১৯৬৭ সালের ২১ জুলাই তারিখে একটি মিগ-১৯ বিমান চালানোর সময় আকাশে সেটা হঠাৎ বিকল হয়ে গেলে দক্ষতার সাথে প্যারাসুট যোগে মাটিতে অবতরণ করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ইরানের রানী ফারাহ দিবার সম্মানে পেশোয়ারে অনুষ্ঠিত বিমান মহড়ায় তিনি ছিলেন একমাত্র বাঙালি পাইলট। রিসালপুরে দু’বছর ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টর হিসাবে কাজ করার পর ১৯৭০ এ বদলি হয়ে আসেন জেট ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টর হয়ে।

মতিউর রহমান একাত্তরের প্রথমার্ধ থেকে ছুটিতে বাংলাদেশেই ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি প্রতিরোধযুদ্ধেও অংশ নেন। পরে বয়োজ্যেষ্ঠদের চাপে সপরিবার পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যেতে বাধ্য হন। ৯ মে করাচি পৌঁছে মতিউর লক্ষ করেন বাঙালি কর্মকর্তাদের সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। তাঁকেও প্রশিক্ষণের দায়িত্ব না দিয়ে দেওয়া হয় ফ্লাইট সেফটি কর্মকর্তার দায়িত্ব। এ অবস্থায় মতিউর একটি প্রশিক্ষণ বিমান নিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চিন্তা করতে থাকেন। কিন্তু এর আগে পিআইএর একটি বিমান হাইজ্যাকের পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় বাঙালি পাইলটদের আকাশে উড্ডয়নের অনুমতি বাতিল করা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2021 satkhiratimes24.com
Theme Customized By BreakingNews