1. altafbabu1@gmail.com : news :
  2. altafbabu1@gmail.com : Satkhira Times : Satkhira Times
December 7, 2021, 9:46 am
Title :
বীর মুক্তিযোদ্ধা এমপি রবিকে ঝাউডাঙ্গায় পুনরায় নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান মো. আজমল উদ্দীনের ফুলের শুভেচ্ছা খুলনা টুটপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ আছাদুল হককে জেলা থ্রি-হুইলার মালিক সমিতির ফুলেল শুভেচ্ছা দেবহাটায় ভূমিহীন কৃষক নেতা সাইফুল্লাহ লস্করের মৃত্যু বার্ষিকী পালিত সাতক্ষীরায় উপকূলের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত গবেষনা কেন্দ্রের যাত্রা শুরু মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিগাঁথা ৬ ডিসেম্বর: ঐতিহাসিক দেবহাটা মুক্ত দিবস ৬ ডিসেম্বর কলারোয়া পাকিস্থানী হানাদার মুক্ত দিবস কলারোয়ায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধানের বীজ ও সার বিতরণ কলারোয়ায় অভ্যন্তরীন আমন মৌসুমে খাদ্যশস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন মুস্তফা লুৎফুল্লাহ এমপি পড়াশোনা শেষ করে শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণদের উদ্যোক্তা হতে হবে- প্রধানমন্ত্রী

করোনা : ইতিবাচক সিদ্ধান্তের প্রত্যাশায়-ড. মোস্তফা হাসান

  • আপডেট সময় Wednesday, May 26, 2021

গত ১৪ মাসের বেশি সময় ধরে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, বন্ধ আছে। এ এক নিষ্ঠুর, অসহনিয় বাস্তবতা। আমরা জানি, এখনো করোনা সংক্রমণের হার ৮ শতাংশের উপরে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ভারতীয় ধরণ সংক্রমণের হার বাড়ছে।

ঢাকায় বারডেমে ধরা পড়েছে ব্লাক ফাঙ্গাস এর ২টি কেস। কিন্তু তার মধ্যেও লকডাউন মেনে বা উপেক্ষা করে চলছে বাস, ট্রেন, লঞ্চ, অফিস-আদালত, হোটেল-মার্কেট, বাজার-ঘাট ইত্যাদি। চলছে কল-কারখানা। ঝুঁকি তো আছেই, প্রায় সর্বত্রই। কিন্তু শিক্ষা-খাত ছাড়া এভাবে আর কোন খাতে এত হতাশায় নেই।

প্রায় ৪ কোটি ছাত্রছাত্রী, তাদের পরিবার, শিক্ষকমণ্ডলী সবাই যন্ত্রণাকাতর হয়ে পড়েছে। ধৈর্যের বাঁধ ভাঙতে বসেছে। হৃদয়ের রক্তক্ষরণ থামছে না কিছুতেই। সরকারী শিক্ষকরা হয়তো বেতন পেয়ে আর্থিকভাবে সুরক্ষিত, কিন্তু বেসরকারি শিক্ষকরা আছেন চরম বিপর্যয়ে। আমরা যারা বেতন পাচ্ছি তারাও কি শান্তিতে আছি? মোটেই তা নয়।

ঘরে বাইরে দেখে শুনে মনে হচ্ছে পড়াশুনা ক্রমশই শিকেয় উঠছে। ছাত্র-ছাত্রিদের বড় একটা অংশ ড্রপ আউটের ঝুঁকিতে পড়েছে। পড়াশুনার উপর একটা হতাশা, বিতৃষ্ণা ও চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে তাদের মধ্যে। অনলাইনের সুবিধা ব্যবহার করতে পারছে মাত্র ৪০-৫০ শতাংশ ছাত্রছাত্রী।

অন লাইনে পরীক্ষা নিলে এই হার খুব বেশি বাড়বে বলে মনে হয় না। মফস্বল বা গ্রামের অবস্থা সত্যিই হতাশাজনক। অন লাইনে এতদিন কিছু ক্লাস চল্লেও ছাত্র-ছাত্রিদের উৎসাহে ভাটা পড়েছে কমাস ধরেই।

এসব ক্লাস নোট সংরক্ষণ করা, প্রিন্ট নেয়া, ডকুমেন্ট সেভ করা- এসব পারছে আরও কম ছাত্রছাত্রি। পরীক্ষা না হলে এই বিকল্প ব্যবস্থা ফেল করতে বাধ্য।

অন্যদিকে, সুনির্দিষ্ট কোন এসাইন্মেন্ট না থাকায়, স্কুল-কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয় খোলার, পরীক্ষা হবার কোন তারিখ না থাকায় নিতান্ত অলস দিন যাপন করছে ছেলেমেয়েরা। মেয়েদের বাল্য বিয়ের ঝুঁকি বাড়ছে, বাড়ছে কিশোর অপরাধসহ সাইবার ক্রাইম। পরিবারের আর্থিক অনটনে মফস্বলের অনেকেই নানা কাজে জড়িয়ে পড়ছে।

সামর্থ্যবানদের অনেকেই অনলাইনে গেম খেলা, জুয়া বা নিষিদ্ধ সাইটে ভ্রমন, লাগাতার ফেসবুকিং, অসামাজিক হয়ে পড়া, আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়া, মানসিক বিপর্যয়ে আত্মহত্যা প্রবনতা বৃদ্ধি পাওয়া, এমনতর হাজার সমস্যায় পড়ছে। আমাদের আগামী প্রজন্ম এভাবে ধ্বংস হয়ে যেতে দিতে পারিনা আমরা।

তাহলে উপায় কী? আমার মনে হয় বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আগে থেকে ঠিককরা শতর্কতার পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করে পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সব শেষে স্কুল খুলে দেয়ার ঘোষণা এখনই করা উচিত। MSS ও BSS এর ফাইনাল পরিক্ষা, HSC ও SSC পরিক্ষার বাবস্থা করা,

পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ছাত্রছাত্রীদের গুচ্ছ ভিত্তিক ক্লাস করা, সিলেবাস ও সেমেস্টারের সময় কমিয়ে আনা, ক্লাস এর সংখ্যা কমিয়ে আনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও ছাত্রাবাসে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি অবলম্বন করা, কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করে, ইত্যাদি – যা করলে ঝুঁকি কম থাকে সেটা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া উচিত।

বুধবার শিক্ষামন্ত্রণালয় এব্যাপারে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে জানি। সরকারের উচিত নির্দিষ্ট তারিখ দেয়া যে কবে কোন প্রতিষ্ঠান খুলবে। ছাত্র-ছাত্রীদের টীকার ব্যাপারে তেমন কন অগ্রগতি হয় নি। এটাতে নজর দিতে হবে।

গার্মেন্টস যদি চলতে পারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলবে না কেন। সমস্যা থাকবে তার সমাধানের ব্যবস্থা নিতে হবে। বিসিএস পরীক্ষা তো হয়েছে, মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা হয়েছে তাহলে অন্যগুলোও খোলার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দরকার। এই খাতকে অবহেলা করা চলবে না।

আশা করি ‘সম্পূর্ণ ঝুঁকি মুক্ত করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার’ নীতি থেকে সরে এসে কিছুটা ঝুঁকি নিয়ে হলেও খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া এখন সময়ের দাবী। আর টীকার সংস্থান হওয়া মাত্রই শিক্ষাখাতকে গুরুত্ব দিয়ে উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে, আরও ক্ষতি হওয়ার আগে আমাদের পরিস্থিতি বিবেচনায় একটা নতুন ইতিবাচক অবস্থানে দাঁড়াতেই হবে। সুড়ঙ্গের শেষে এবার আশার আলো দেখতে চাই। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

……………………………………………………

লেখক- ড. মোস্তফা হাসান, অধ্যাপক ও প্রাক্তন চেয়ারম্যান

সমাজকর্ম বিভাগ, প্রাক্তন ডিন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2021 satkhiratimes24.com
Theme Customized By BreakingNews