‘কয়লাতলা ও অন্যান্য গল্প’ বইয়ের প্রকাশনা উৎসব

কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের নতুন গল্পগ্রন্থ ‘কয়লাতলা ও অন্যান্য গল্প’। লেখকের সাম্প্রতিক সময়ে লেখা দশটি গল্পের সঙ্কলন এ গল্পগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে অন্যপ্রকাশ থেকে।

বইটিতে ব্যক্তি, সমাজ ও জনজীবনের নানা সমস্যা, টানাপোড়েন আর প্রেম-ভালোবাসার চালচিত্র নিবিড়ভাবে ফুটে উঠেছে।

একাত্তরের গৌরব আর মহিমা বাঙালিদের কীভাবে স্পর্শ করেছিল, তাদের জাগিয়েছিল এমনকি গ্রামেও সেই চিত্রায়ণের পাশাপাশি এ সময়ের শহরের জীবন আর কর্পোরেট দুনিয়ার লোভ ও নানা ফন্দিফিকিরের কথা গল্পগুলোতে উঠে এসেছে।

‘কয়লাতলা ও অন্যান্য গল্প’ গ্রন্থটির প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। বুধবার শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। গ্রন্থ বিষয়ে আলোচনা করেন গবেষক-প্রাবন্ধিক মফিদুল হক, দৈনিক কালের কণ্ঠ-র সম্পাদক ও কথাশিল্পী ইমদাদুল হক মিলন, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হবীবুল্লাহ সিরাজী ও প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. তাবারক হোসেন ভূঁঞা।

১৮ জানুয়ারি ছিল সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের ৬৯তম জন্মদিন। প্রকাশনা উৎসবের এ আয়োজনের পাশাপাশি অনেকেই এ শিক্ষাবিদ লেখকের জন্মদিনের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

এ আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন সম্প্রতি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক মোহিত কামাল ও কবি কাজী রোজী, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্সের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান শায়খ প্রমুখ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অন্যপ্রকাশের পরিচালক আবদুল্লাহ নাসের। অনুভূতি প্রকাশ করে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, আমি বাংলাদেশের কথ্য ভাষায় লিখি।

আমার প্রত্যেকটি গল্পের পেছনে একটি বাস্তবতা থাকে। আমাদের চারপাশে এত গল্প আছে যে একজীবনে লিখে তার ভগ্নাংশও শেষ করা যাবে না। আমাদের গল্প বলার ঐতিহ্যে ফিরে যেতে হবে।

ড. আনিসুজ্জামান বলেন, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম মৌলিকতায় অনন্য। তার লেখায় পরাবাস্তবতার ছাপ আছে। এক ধরনের ক্ষোভ, শঙ্কার কথা থাকে। তার চিত্রকল্পের দিকটি খুবই সমৃদ্ধ। পাঠকের মনকে আকৃষ্ট করে।

মফিদুল হক বলেন, এক গভীর ব্যঞ্জনা থাকে তার লেখায়। বিশেষ করে গল্পের সমাপ্তিতে। সাধারণ মানুষের যে দুঃখ বেদনা কষ্ট, সেটা তিনি গভীরভাবে অনুভব করেন।

ইমদাদুল হক মিলন বলেন, আমি পাঠক হিসেবে বলব, বাংলা সাহিত্যের সব ভালো গল্প পড়েছি। সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এ সময়ের শ্রেষ্ঠতম গল্পলেখক। তার লেখনভঙ্গিটাই অন্যরকম। একবার গল্পের ভেতর ঢুকে গেলে আর বেরুনো যায় না।

বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, অধ্যাপক মনজুরুল ইসলাম সাধারণ ভাষায় কথা বলেন এবং বলতে পারেন। এই বইয়ের ‘চাঁদের খাঁচা’ গল্পটি পড়েছি। যেখানে মুক্তিযুদ্ধের সময়ের নানা টানাপোড়েন এক ভিন্নমাত্রা পেয়েছে।

‘কয়লাতলা ও অন্যান্য গল্প’ প্রকাশ করেছে অন্যপ্রকাশ। ১৬৮ পৃষ্ঠার বইটির মূল্য ৩৮০ টাকা। প্রচ্ছদশিল্পী সব্যসাচী হাজরা।

পোষ্টটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *