বিশ্ববাজারে স্থান করে নেবে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা: (বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯) : দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গন নিয়ে রাষ্ট্রের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘আমাদের লক্ষ্য শুধু চলচ্চিত্রের স্বর্ণ যুগে পৌঁছানোই নয়, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ছায়াছবির একটি স্থান দখল করা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর গড়ে দেয়া ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক আগ্রহে ও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো বলে আমার দৃঢ়বিশ্বাস।’
বুধবার বিকেলে ঢাকায় সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি’র নবনির্বাচিত পরিষদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন। সমিতি’র সভাপতি মিশা সওদাগর, সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানসহ ২১ সদস্যের নির্বাহী পরিষদ, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল করিম, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (চলচ্চিত্র ও প্রশাসন) জাহানারা বেগম প্রমুখ সভায় যোগ দেন।
‘আমাদের দেশের অনেক ছবি আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে পুরস্কার পেয়েছে, সমাদৃত হয়েছে এবং হচ্ছে, অর্থাৎ চলচ্চিত্রের যে বন্ধাত্ব্য, সেটি কেটে গেছে; তবুও চলচ্চিত্রের স্বর্ণের যুগে পৌঁছাতে আমাদের আরো অনেকে কাজ করতে হবে’ বলেন তথ্যমন্ত্রী।
‘তবে, আসল কথা গত বছরের তুলনায় এই বছর চলচ্চিত্রের গতিশীলতা এসেছে এবং অনেক নতুন নতুন প্রযোজক, পরিচালকও এই ক্ষেত্রে যোগ দিচ্ছে, এবং পুরনো পরিচালক, যারা উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছেন, তারাও আবার নতুনভাবে ছবি নির্মাণ করার কথা চিন্তা করে কাজ শুরু করেছে’ বলেন ড. হাছান।
আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক বলেন, ‘চলচ্চিত্র শিল্পকে সুরক্ষা দেবার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা অনেকগুলো ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছেন। তারমধ্যে চলচ্চিত্রের কর্মচাঞ্চল্যমুখর  এফডিসি’র দৈন্যদশা কাটিয়ে তোলার জন্যে আমরা ইতোমধ্যে অনেকগুলো প্রকল্প নিয়েছি। নতুন ভবন হবে, সেখানে অনেক কিছু থাকবে, সেখানে প্রায় ৩২২ কোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হয়েছে।
প্রকল্প পরামর্শক নিয়োগে টেন্ডার আহ্বান করা এবং প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়েছে, যেগুলো অনেকদিন ধরে হয়নি।  আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে আমরা আশা করছি সেখানে নতুন ভবন নির্মাণ হবে, সমস্ত আধুনিক ও বিশ্বমানের সুবিধাদি সেখানে থাকবে।’
‘গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একশ একর জমির ওপর নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু ফিল্মসিটির প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন হয়ে সেখানে এখন স্যুটিং হয়’ জানিয়ে মন্ত্রী আরও জানান, ‘আমরা বঙ্গবন্ধু ফিল্মসিটিকে একটি বিশ্বমানের ফিল্মসিটিতে রূপান্তর করার জন্য একটি বড়, প্রায় হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছি। আমি চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিকে বলবো, সেখানে গিয়ে একবার ঘুরে এলে আমাদের গণমাধ্যম বন্ধুরা সেখানে যাবেন, তাহলে সেটি আবার প্রচার পাবে, অনেকেই সেখানে যায়, আমিও যেতে পারি সাথে।’
‘বাংলাদেশে চলচ্চিত্র অনুদানে আমরা কিছু পরিবর্তন এনেছি, যাতে করে আরো কিছু ছবি নির্মিত হয়’ উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘প্রথমত অনুদানের অংক ছিল পাঁচ কোটি টাকা, এবছর আমরা সেটিকে দশ কোটি টাকায় উন্নীত করে দ্বিগুণ করেছি। শর্টফিল্মের জন্য ছিল ষাট লক্ষ টাকা সর্বোচ্চ, সেটিকে আমরা পঁচাত্তর লক্ষ টাকায় উন্নীত করেছি। আগে দেখা যেত অনুদানের ছবি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সিনেমা হলে মুক্তি পেত না।
আমরা এখন কিছু বাধ্যবাধকতা আনছি যে, অনুদান নিয়ে ছবি বানালে সেটি হলে মুক্তি দিতে হবে। তাহলেই অনুদান নিয়ে ছবি বানিয়ে সেটি অন্য কারো কাছে বিক্রি করে ফেলা বন্ধ হবে। তবে অবশ্যই কিছু অনুদান আর্ট লেভেলে দিতে হবে। আর্ট ফিল্ম সবসময় ব্যবসা করতে পারে না, কিন্তু আর্ট ফিল্ম হওয়ারও প্রয়োজন আছে।’
বিশ্বব্যাপী সিনেপ্লেক্সের প্রসার ও একক সিনেমা হল বন্ধ হবার ধারার কথা উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, ‘   ভারতেও গত কয়েক বছরে একক পর্দার অনেকগুলো সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেছে। আবার সিনেপ্লেক্সগুলো চলছে এবং নতুন করে গড়ে উঠছে। আমাদের দেশে এর মাঝে সামাজিক চলচ্চিত্র না হয়ে অন্য ধরণের চলচ্চিত্র হচ্ছিল। যে কারণে সাধারণ দর্শক বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণি চলচ্চিত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। সেই অন্ধত্ব কেটে গেছে। আমাদের দেশে গত কয়েক বছর ধরে ভালো চলচ্চিত্র হচ্ছে এবং পরিবার পরিজন নিয়ে দেখার মতো সুন্দর ভালো ছবি হচ্ছে।’
বন্ধ সিনেমা হল পুণরায় চালুর বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে বেশ কয়েক দফা আলোচনা ও আন্ত:মন্ত্রণালয় বৈঠকের কথা জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হলগুলোকে আধুনিকায়নের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ দেয়ার প্রাথমিক কাজ হয়েছে, আমরা আশা করছি, আগামী কয়েক মাস পর একটি সমাধানে পৌঁছাতে পারবো,  যাতে করে স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ দিয়ে বন্ধ হওয়া হল আবার চালু করা যায়, কিংবা হলগুলোর আধুনিকায়ন হয়।’
এছাড়া, ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে আগামী বছরের মধ্যে অনেকগুলো সিনেপ্লেক্স হবে এবং দেশের অন্যান্য শহরগুলোতেও সিনেপ্লেক্স হতে যাচ্ছে, জানান ড. হাছান। তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের রুচির পরিবর্তন হয়ে গেছে। আগে মানুষ শুধু সিনেমা দেখতে যেত, এখন সিনেমার সাথে ‘আউটিং’ও যুক্ত।
কারণ, আর্থিক সামর্থ্য বাড়ার কারণে আমাদের রুচির পরিবর্তন হয়েছে। আগে যে ধরণের চেয়ারে বসে মানুষ সিনেমা দেখতো, এখন সে ধরণের চেয়ারে বসে মানুষ সিনেমা দেখতে চায় না। এসব দিক বিবেচনায় এনেই সিনেমা হলগুলোকে আধুনিকিকায়ন করার জন্য আমরা সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।এছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলাগুলোতে তথ্য কেন্দ্র নির্মাণ করবো। সেগুলোর সাথে একটি করে হল থাকবে।’
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি’র নির্বাহী সদস্যদের মধ্যে রোজিনা, রুবেল, সুব্রত, অঞ্জনা, আলীরাজ, অরুণা বিশ্বাস, ডিপজল, আরমান, জয় চৌধুরী, ইমন, জাকির, জেসমিন প্রমুখ সভায় অংশ নেন।

পোষ্টটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *