বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর রাষ্ট্র ফ্রান্স। ইউরোপ তথা পুরো পৃথিবীতে কয়েকযুগ ধরে আধিপত্য বজায় রাখছে ফ্রান্স। অর্থনেতিক,রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক আধিপত্য সবসময় ধরে রাখার চেষ্টা করেছে দেশটি৷ তবে বিগত বছর খুব একটা ভালো যায়নি ফ্রান্সের। ২০২৫ সালে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টায় রত ম্যাক্রো সরকার। প্যারিস সবসময় ম্যাক্রোর সাথে সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব বজায় রেখেছে।
চলমান সংকটসমূহ পাড়ি দিয়ে নিজেদের আরো বেশি শক্তিশালী করতে চায় বিগ-৫ এর অন্তর্ভুক্ত দেশটি। বিশ্বশক্তির অন্যতম কেন্দ্র ফ্রান্স গ্রীষ্মকালীন প্যারিস অলিম্পিক এবং নটরডেম ক্যাথেড্রাল পুনরায় চালু করে নিজ সক্ষমতার জানান দেয়। বিগত ১৪ই ডিসেম্বর ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ফ্রানকোস বাইরুস সরকার পুনর্গঠনের ঘোষণা দেন যা ফ্রান্সের রাজনীতির বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত। ভারত মহাসাগর থেকে উৎপন্ন ঘূর্ণঝড় সিডো এর আঘাতে ফ্রান্সে কমপক্ষে একশজন মানুষ মৃত্যুবরণ করেন এবং প্রায় ৪০০০ মানুষ আহত হন এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। এই প্রাকৃতিক দূর্যোগ ফ্রান্সের বর্তমান মেয়াদের সরকারকে সংকট ও প্রতিযোগিতার মুখে ঠেলে দেয়।
ফ্রান্সের রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তির অন্যতম উদাহরণ হল এই গ্রীষ্মকালীন প্যারিস অলিম্পিক এবং নটরডেম ক্যাথেড্রাল পুনরায় চালু করা।এটি সাংস্কৃতিক এবং ভ্রমণের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়। ইউরোপীয়ান পার্লামেন্ট নির্বাচনে দুই শক্তিধর রাষ্ট্র ফ্রান্স ও জার্মানের শাসক পার্টির ভিত কাপিয়ে দেয় রক্ষণশীল পপুলিস্ট দলের নেতারা। রক্ষণশীল নেতা জ্যা-লাক-মেলাঞ্চন এর কাছে মাথা নত করেনি ফ্রান্স।এইদিক থেকে জাতীয় সমাবেশের প্রথম রাউন্ড জিতে যায় বামপন্থী রক্ষণশীল দলগুলো।
জুলাইয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডেও রক্ষণশীল দলগুলো জিতে গেলে আত্মবিশ্বাসহীন সরকারের ভিত্তি নড়ে ওঠে বিগত ডিসেম্বরে। ১৯৩৪ সালের পর চারজন ভিন্ন ভিন্ন প্রধানমন্ত্রী ম্যাটিগননের সরকারি বাসভবনে একে অপরের সফলতার স্বীকৃতি প্রদান করে ভিন্ন ভিন্ন সময় প্রবেশ এবং প্রস্থান করে। তারপর সেই সরকারপ্রধানরা কোন বাজেট ছাড়াই বর্তমান সংকটগুলোর সুষ্ঠু সমাধান করেন। যাইহোক প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোর সিদ্ধান্ত জাতীয় সংসদে প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলে। ভারসাম্য পুনরুদ্ধার এবং রাজনৈতিক দৃশ্য পরিস্কার করার পরিবর্তে এটি সৃষ্টি করেছে বিভক্তি যা ফ্রান্সকে টুকরো টুকরো করে ফেলে দেওয়ার মতো।যার ফলে প্রধানমন্ত্রী বাইরু সরকার নানা প্রতিযোগিতার মুখে পতিত হয়েছে।
৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ আইভরিয়ান রাষ্ট্রপতি আলসেন আওতারা ঘোষণা দিয়েছেন যে আইভরি কোস্ট থেকে ফ্রান্সের সৈন্য প্রত্যাহার করা হতে পারে জানুয়ারি ২০২৫ থেকে। এই প্রত্যাহার দেখে আফ্রিকান রাষ্ট্র শাদও দ্রুত প্রস্থান করতে পারে এই বছরে। এই প্রস্থানের ফলে জিবুতি ও গ্যাবন ছাড়া অন্য দেশে শুধু প্রতীকী উপস্থিতি থাকতে পারে ফ্রান্সের যা ফ্রান্সের বৈশ্বিক আধিপত্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। এসব দেশে ফ্রান্সের সামরিক উপস্থিতি বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে প্রভাব রেখে আধিপত্য ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রভাব বজায় রাখতে পারে ফ্রান্স।
……………………………………
মোঃ ওসমান গনি শুভ, সাবেক কলা অনুষদ নির্বাহী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাব।







