1. manobchitra@gmail.com : news :
  2. altafbabu1@gmail.com : Satkhira Times : Satkhira Times
April 13, 2021, 7:58 am

মরিচ্চাপ নদীর প্রবল জোয়ারে আশাশুনি সদর প্লাবিত

  • আপডেট সময় Wednesday, March 31, 2021

এম.এম সাহেব আলী, আশাশুনি প্রতিনিধি : দেশ যখন উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে তখন সাতক্ষীরার আশাশুনি সদর বাজার ভাসছে নদীর জোয়ারের পানিতে। এ অবস্থায় আশাশুনি সদরের বাজারে ব্যবাসায়ীসহ ক্রেতারা রয়েছে চরম দূভোর্গে দেখার কেউ নেই।

আশাশুনির সদর বাজারের রক্ষা বাঁধ নির্মাণ না করায় গত দুইদিনে মরিচ্চাপ নদীর প্রবল জোয়ারে পানি বাজারে ভিতরে প্রবেশ করে আশাশুনি থানা ও উপজেলা সড়ক তলিয়ে অন্যান্য সড়কেও পানি ঢুকে পড়ে। এতে বিভিন্ন দোকানের মালামাল নষ্ট হওয়া সহ আশাশুনি হাইস্কুল ও থানা পুকুর প্লাবিত হয়েছে। সকল সড়কগুলি পানিতে ডুবে থাকায় বিভিন্ন যানবাহন চলাচলের চরম বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচলের সময় ময়লা পানি ছিটকে পথচারিদের গায়ে লেগে জামাকাপড় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে তারা জরুরি কাজে এসে ময়লা জামাকাপড় গায়ে থাকা অবস্থায় অফিস আদালতে ঢুকতে না পেরে বাড়িতে ফিরে যেতে হচ্ছে। এমতাবস্থায় সব মিলিয়ে আশাশুনি সদর ইউনিয়নবাসি রয়েছে চরম দূভোর্গে। এব্যাপারে এলাকাবাসী বলছে দেশ স্বাধীনের পর থেকে আশাশুনিতে তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি।

সবসময় অবহেলিত উন্নয়ন বঞ্চিত থাকে আশাশুনি উপজেলা। এরপরেও যেটুকু উন্নয়ন হয়েছিলো তা এখন মরিচ্চাম নদীর জোয়ারের পানিতে ভাসছে। এদিকে সদরের জেলেখালী ও দয়ারঘাট রিং বাধ ভেঙে খোলপেটুয়া নদীর পানি প্রবল গতিতে ঢুকে পড়লে ৪ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। ভেসে যায় বাড়ির আসবাবপ্রত্র, হাজার হাজার বিঘা মৎস্যঘের ও পুকুর সহ বিভিন্ন ফসলী জমি।

এতে কোটি টাকার ক্ষতিগ্রস্থ হয় এলাকাবাসী। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের গাফিলতিতে গত প্রায় বছর খানেক আগে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে আশাশুনি দয়ারঘাট ও জেলেখালীতে ওয়াপদা বেড়িবাধ ভেঙে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়। পানিবন্দি হয়ে পড়ে হাজার হাজার মানুুষ। তারা মানবেতর জীবন যাপন করছিলো। এব্যাপারে সরকারের পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও সাতক্ষীরা ০৩ আসনের সংসদ সদস্য সহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।

এরপর ক্ষতিগ্রস্থ মানুষকে স্বার্তনা দিয়ে বলেন যত দ্রুত হোক এলাকার মানুষের জানমাল রক্ষায় টেকসই বেড়িবাধ নির্মাণ করা হবে। কিন্তু প্রায় বছর পার হতে গেলেও এখনও পর্যন্ত সেই ভাঙন কবলিত ভেড়িবাধ নির্মাণ করা হয়নি। কাজের সাথে কথার সাথে বাস্তবে কোন মিল না থাকায় বারবারই নদীর পানিতে হাবুডুবু খেলতে হচ্ছে আশাশুনির মানুষের।

মূল বাধটি নির্মাণ না করায় উপজেলা চেয়ারম্যান আ’লীগের সভাপতি এ বি এম মোস্তাকিম ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক স.ম সেলিম রেজা মিলনসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন ঘের মালিকরা মিটিং করে নিজেরা অর্থ দিয়ে ও অন্যান্যদের কাছ থেকে অর্থ জোগাড় করে উপজেলা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে এলাকাবাসিকে সাথে নিয়ে শ্রমিক দিয়ে ও মানুষের স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বিকল্প রিংবাধ দিয়ে পানিবন্দি সদর ইউনিয়নবাসির উদ্ধার করা সহ এলাকা রক্ষা করেন।

কিন্তু মঙ্গলবার দুপুরে খোলপেটুয়া নদীর প্রবল জোয়ারের চাপে নির্মানাধীন রিংবাধটি ভেঙে আবারও ৪ গ্রাম প্লাবিত হয়। হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। ভেসে যায় কোটি টাকার সম্পদ। গত দুইদিন পানিবন্দি মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে। আবারও এলাকা রক্ষায় উপজেলা চেয়ারম্যান এ বি এম মোস্তাকিম ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান স.ম সেলিম রেজা মিলন সহ বিভিন্ন গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ভাঙন রিংবাধ আটকানোর চেষ্টা করছে।

দুদিন ব্যাপি নিজেদের অর্থে ও এলাকার মানুষের স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এব্যাপারে স্থায়ী টেকসই ওয়াপদা বেড়িবাধ নির্মাণের ব্যাপারে সরকারের জরুরি উদ্যেগ গ্রহনের দাবি উপজেলাবাসীর। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার মানুষ ত্রান চায় না, চায় অবিলম্বে স্থায়ী টেকসই ওয়াপদা বেড়িবাধ। এলাকাবাসী প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2019 Breaking News
Theme Customized By BreakingNews