সাতক্ষীরা জেলা আ’লীগের কাউন্সিলে সম্পাদক পদে আলোচনায় সাবেক ছাত্রনেতা শেখ সাহিদ উদ্দীন

স্টাফ রিপোর্টার : ২০০২ সালের ক্লিনহাট অপারেশনে নির্যাতনে শিকার ৮০’র দশকের সাবেক তুখোড় ছাত্রলীগ নেতা শেখ সাহীদ উদ্দিন আলোচনায় আছেন। সিনিয়র ও ক্লিন ইমেজের মানুষ হিসেবে পরিচিত সাহীদ উদ্দিন বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। তিনি ইতোপূর্বে কয়েকটার্ম সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

এবার কাউন্সিলকে ঘিরে তাকে নিয়ে গুঞ্জন উঠেছে তিনি এবার নেতৃত্বে আসবেন এমনটি দাবী করেছেন সাতক্ষীরার সাবেক ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতৃবৃন্দ।

সূত্র জানায়, আগামী ১২ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল। কাউন্সিলকে ঘিরে নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত। ফেসটুন-পোষ্টার ও তোরণে ছেয়ে গেছে সাতক্ষীরা শহর। তবে এবারের কাউন্সিলে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন নেতৃত্ব আসছে ? না কি পুরাতন নেতৃত্বকেই নতুন করে দ্বায়িত্ব দেওয়া হবে এ নিয়ে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে দলের মধ্যে।

তবে ৮০ দশকের ছাত্র-নেতারা বলছেন প্রধান দুটি পদের মধ্যে যে কোন একটি অথবা দু’টি পদেই পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে তবে সেটি নির্ভর করছে দলের সভানেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার উপর। তিনি যেটা চাইবেন সেটিই তারা মেনে নেবেন।

৮০ দশকের ছাত্র নেতাদের মধ্যে যারা সাধারন সম্পাদক হিসাবে লড়ছেন তাদের অনেকেই প্রধানমন্ত্রী দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করে মাঠে জোর-সোরে কাজ করছেন। তবে সাধারন সম্পাদক প্রার্থী হিসাবে প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন ৮০ দশকের তুখড় ছাত্র নেতা জেলা আওয়ামী লীগের দুই দুই বারের যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক শেখ সাহিদ উদ্দীন।

তিনি দলের জেলা কমিটির সকল সদস্য, কাউন্সিলর, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারন সম্পাদক সহ তৃণমুলের নেতা-কর্মীদের সব সময় যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। ৮০ দশকের ছাত্র নেতা-কর্মীদের নিয়ে জেলা ভিত্তিক একটি শক্তিশালি প্লাটফর্ম গড়ে তুলেছেন।

২০১৩ সালে জামায়াত-বিএনপির তান্ডব সহ ২০ দলীয় রাজনৈতিক সহিংসতার সময় সাহসিকতার সাথে প্রতিরোধে রাজপথে থেকে মিছিল-মিটিং করেছেন। সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্থ্য এবং আহত ও নিহত পরিবারের লোকজনের খোজ খবর নিয়েছেন। অর্থনৈতিক ভাবে একটু দূর্বল হলেও ত্যাগী নেতা হিসাবে দলের সকলের কাছে দুঃসমায়ের কান্ডারি হিসেবে পরিচিত।

সাতক্ষীরা জেলায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করে প্রতিষ্ঠিত করার পেছনে শেখ সাহিদ উদ্দীনের অবদান অনেক। তিনি ১৯৮৩ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সহযোগিতায় বাই-সাইকেল চালিয়ে বিভিন্ন উপজেলা সদরে গিয়ে নেতা-কর্মী সংগ্রহ করে ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে সুসংগঠিত করেছেন সাতক্ষীরায়।

শেখ সাহিদ উদ্দীন ১৯৮৫ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ কর্তৃক সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক হন। ১৯৮৮ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচিত হন। ৯২সালে দ্বিতীয় বারের মত জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ৯৪ সালে সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৯৮ সালে সাতক্ষীরা জেলা যুবলীগের আহবায়ক নির্বাচিত হন। ২০০৫ সালে সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন-সাধারন সম্পাদকের পদ পান। ২০১৫ সালে পুনারায় দ্বিতীয় বারের মত সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক হন।

শেখ সাহিদ উদ্দীন ১৯৮৩ সালে স্বৈরাচার সামরিক সরকার এরশাদের বিরুদ্ধে গন আন্দোলনে ছাত্র নেতাদের নিয়ে সাতক্ষীরার প্রেক্ষাপটে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেন। তৎকালিন তুখোড় এই ছাত্র নেতা ১৯৮৫ সালে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার আহবায়ক এবং পরবর্তিতে ১৯৮৮ সালে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য পরিষদের আহবায়ক নির্বাচিত হন।

সে সময় তিনি এরশাদ বিরোধী সর্বাত্বক আন্দোলন করতে গিয়ে বার বার গ্রেফতার ও পুলিশী নির্যাতনের শিকার হন তালার কৃতি সন্তান শেখ সাহিদ উদ্দীন। তিনি ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া বিরোধী আন্দোলনে বার বার কারাবরণ করেন এবং পুলিশী নির্যাতনের শিকার হন। ২০০২ সালে সেনাবাহিনীর ক্লিনহাট অপারেশনে তিনি গ্রেফতার হয়ে নির্যাতনে শিকার হন। পরবর্তীতে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার আর্থিক সাহায্যে ভারত থেকে উন্নত চিকিৎসা গ্রহন করে সুস্থ্য হয়ে দেশে ফেরেন।

সেই থেকে অদ্যবধি তিনি প্রত্যেকটি গনতান্ত্রিক,জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদ বিরোধী আন্দোলনে মাঠে থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দলকে উজ্জিবিত করে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

এব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা আ’লীগ নেতা জে এম ফাত্তা, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ আলী সুমন ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এজাজ আহম্মেদ স্বপন জানান, আ’লীগের সভানেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা এবার নতুন পুরাতন মিলিয়ে নেতৃত্বকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। সেক্ষেত্রে সাবেক ছাত্র ও যুবলীগ নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে আসার সুযোগ আছে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

এদিকে, ১২ ডিসেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে সাধারন সম্পাদক প্রার্থী হিসাবে জেলার সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মী, দলীয় কাউন্সিলর, ডেলিগেট, সুভানুধ্যায়ী সহ সকলের দোয়া এবং আশির্বাদ কামনা করেছেন।

পোষ্টটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *