সৈয়দাবাদ এএস মনিরুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ তিন শিক্ষক এবং ১১ জন শিক্ষার্থীকে হামলা-মারধরের অভিযোগ উঠেছে। রোববার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় গোপীনাথপুর শহীদ বাবুল উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে নকলে সহযোগিতা না করার কারণে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আহত চার শিক্ষার্থীকে কসবা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও আহত পরীক্ষার্থী সোনিয়া আক্তার, সাবেকুর নাহার তন্নী জানায়, গোপীনাথপুর শহীদ বাবুল উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে রোববার ইংরেজী দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা চলছিল। পরীক্ষা চলাকালে গোপীনাথপুর শহীদ বাবুল উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষার্থীদের নকলে সহযোগিতা না করার অভিযোগ এনে ওই কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীরা সৈয়দাবাদ এএস মনিরুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী মনসুর খান সহকারী শিক্ষক তাইজুল ইসলাম(ব্যবসাশিক্ষা), আতিকুর রহমান(বিজ্ঞান) ও আজহারুল ইসলাম (শরীরচর্চা) শিক্ষককে মারধর করেন। এ সময় শিক্ষকদের রক্ষা করতে গিয়ে ওই বিদ্যালয়ের ১১ পরীক্ষার্থী আহত হয়।

পরীক্ষা কেন্দ্রে এমন বর্বর হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে আহত সোনিয়া আক্তারের মা লুৎফা বেগম জানান, মেয়েকে পরীক্ষা দেয়ার জন্যে পরীক্ষা কেন্দ্রে পাঠিয়েছি। পরীক্ষা উপলক্ষে মেয়ের পেছনে অনেক শ্রম, ঘাম ঝরেছে। আহত হওয়ার জন্যে পরীক্ষা কেন্দ্রে পাঠাইনি। আগামী দিনে বাকি পরীক্ষাগুলো দিতে পারবে কিনা জানি না। এ নিয়ে বেশ শঙ্কায় আছি। আমি এ বর্বর হামলার ঘটনা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

সৈয়দাবাদ এএস মনিরুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী মনসুর খান জানান, হঠাৎ করে কিছু বুঝে উঠার আগেই গোপীনাথপুর শহীদ বাবুল উচ্চ বিদ্যালয় একদল পরীক্ষার্থী আমিসহ তিন সহকারী শিক্ষকের ওপর হামলা চলায়। এ সময় হামলাকারীরা ওই কেন্দ্রে (গোপীনাথপুর শহীদ বাবুল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে) আমাদের বিদ্যালয়ের প্রায় ১০-১১ জন পরীক্ষার্থীকে তারা পিটিয়ে আহত করে। এটি লজ্জাজনক ও অপ্রত্যাশিত। এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। আহত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আসিফ খান এবং রানা ভূইয়াকে কসবা এবং সোনিয়া আক্তার ও সাবেকুর নাহার তন্নীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কসবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেনসহ থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ঘটনার সত্যতা শিকার করে গোপীনাথপুর শহীদ বাবুল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জহিরুল ইসলাম জানান, আমি লজ্জিত। আলী মনসুর স্যারও ওই কেন্দ্রের সহকারী কেন্দ্র সচিব ছিলেন। এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনা আমার বিদ্যালয়ে ঘটেছে। এর জন্য শিক্ষক হিসেবে আমি ব্যর্থ হয়েছি। এ ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

কসবা ইউএনও মাসুদ উল আলম জানান, গোপীনাথপুর শহীদ বাবুল উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে ওই কেন্দ্রের পরিক্ষার্থী ছাড়াও সৈয়দাবাদ এএস মনিরুল হক উচ্চ বিদ্যালয় ও বীনাউটি সাতগ্রাম অ্যাডভোকেট হারুন অর রশিদ খান উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এরমধ্যে নকল সরবরাহ নিয়ে গাপীনাথপুর শহীদ বাবুল উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসি পরিক্ষার্থীরা সৈয়দাবাদ এএস মনিরুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে। এ ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

এ ঘটনায় চার শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি জানান, এরমধ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপের পাশপাশি এলাকাভিত্তিক সামাজিক বিচারের ব্যবস্থা করা হবে।

এদিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কসবা থানার ওসি লোকমান হোসেন বলেন, উভয়পক্ষের কাছ থেকে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।