প্রাকৃতিক বিপর্যয় যেন কাটছেই না অস্ট্রেলিয়ায়। দাবানলের মধ্যেই দেশটির পূর্ব উপকূলীয় এলাকাগুলোতে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বন্যা।
ডেইলি মেইলে’র তথ্যানুযায়ী, সিডনিতে গত দু’দিনের গড়ে দুই মাসের সমান বৃষ্টিপাত হয়েছে। যা বিগত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতবলে ধারণা করা হয়েছে। এতে ওই এলাকায় কয়েক মাস ধরে চলা দাবানলের আগুন প্রায় নিভে গেছে। এছাড়া প্রবল বর্ষণে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম জনবসতিপূর্ণ রাজ্য নিউ সাউথ ওয়েলসের জলাধারগুলোও ফের ভরে উঠেছে।

দেশটির স্থানীয় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রোববার ৪শ’ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এর ফলে সোমবার সকাল থেকে দেশটির সব পরিবহন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। সিডনির বিভিন্ন এলাকায় বন্যার কারণে দেড় লাখ বাড়িঘর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এক সপ্তাহের জন্য সেখানকার সব স্কুল-কলেজ বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছেন।

এদিকে নিউ সাউথ ওয়েলস ও পার্শ্ববর্তী ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যে ঝড়ের সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নিউ সাউথ ওয়েলস জরুরী পরিষেবা মন্ত্রী ডেভিড এলিয়ট গাড়ি চালকদের বন্যার সতর্কতা দিয়ে রাস্তা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া ক্রমাগত পানিবৃদ্ধির কারণে বন্যা ও ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে নিউ সাউথ ওয়েলস ফায়ার সার্ভিসের সিডনি সদর দফতর।

এর আগে, শনিবার বিকেলে একটি ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ে দেশটির পশ্চিম উপকূলে। যদিও এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে তীব্র ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেও দেশটিতে দাবানল অব্যাহত রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বুরো অব মেটিরিয়োলজি জানিয়েছে, সোমবার সকাল পযর্ন্ত রাজ্যের অন্তত ৩৩টি জায়গায় এখনো জ্বলছে দাবানলের আগুন। তবে এর তীব্রতা অনেকটাই কম। ধারণা করা হচ্ছে এসব অঞ্চলের দিকেই ধীরে ধীরে বৃষ্টিপাত এগিয়ে যাচ্ছে।

গত কয়েক বছর ধরে তীব্র খরায় ভুগেছে নিউ সাউথ ওয়েলস। এতে পানি সংকটে ভুগতে শুরু করে অস্ট্রেলিয়ার রাজ্যটি। তবে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের কারণে পানির অভাব পূরণ হতে যাচ্ছে। সিডনির পানির চাহিদার বেশিরভাগই আসে ওয়ারাগাম্বা বাঁধ থেকে। বৃষ্টিপাতে বাঁধটির ৭০ শতাংশ এরইমধ্যে পূরণ হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হয়।

দেশটিতে আরো বৃষ্টিপাত প্রয়োজন বলে জানিয়েছে আবহাওয়াবিদ জেন গোল্ডিং। তিনি বলেন, আমি জানি কিছু কৃষক আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। আমাদের যেটা দরকার তা হচ্ছে, আরো বৃষ্টিপাত। বৃষ্টিস্বল্পতায় মাটির এত গভীর পর্যন্ত শুকিয়ে গেছে যে, বৃষ্টির ধারা আরো চলা দরকার।