ঢাকা, ৫ চৈত্র (১৯ মার্চ) : ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (NDRCC) সকাল ১১ টা পর্যন্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণের জন্য এ পর্যন্ত দেশে ৬ লাখ ৩১ হাজার ৫ শত ৩৮ জনকে স্ক্রিনিং করা হয়েছে।

তন্মধ্যে ৩টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৩ লাখ ১১ হাজার ৮ শত ২৩ জন, দু’টি সমুদ্রবন্দরে ৮ হাজার ২ শত ৮৫ জন, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট ও বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশনে ৭ হাজার ২৯ জন এবং অন্যান্য চালু স্থলবন্দরসমূহে ৩ লাখ ৪ হাজার ৪ শত ১ জনকে স্ক্রিনিং করা হয়েছে।

দেশে ১৮ মার্চ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৫৮ জন, এর মধ্যে ৩৫ জন ছাড়প্রাপ্ত। বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ২৩ জন ভর্তি আছেন। এর মধ্যে ঢাকায় ১৯ জন ও অন্যান্য বিভাগে ৪ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৫ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে। ঢাকার বাইরে এ সংখ্যা শূন্য। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর), এখন পর্যন্ত এ বছরে COVID-19 সন্দেহে ১৪ জন রোগীকে এবং ১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে।

এ পর্যন্ত সারাদেশে ৬ হাজার ৩ শত ৯৩ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইন করা হয়। যার মধ্যে ১ হাজার ৪ শত ২২ জন ছাড়প্রাপ্ত। এছাড়া দেশে হাসপাতালগুলোতে কোয়ারেন্টাইন অবস্থানরত রোগীর সংখ্যা ৭৮ জন।

এছাড়া মোট ৪ জনকে আইসোলেশানে রাখা হয়েছে। তার মধ্যে ১ জন কোভিড-১৯ প্রমাণিত।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে ইতোমধ্যে সরকার নিম্নরূপ পদক্ষেপ নিয়েছে : বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক কোভিড-১৯ মোকাবেলায় জনস্বার্থে আইনের প্রয়োগ বিষয়ে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারী করা হয়েছে।

সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন ২০১৮ এর বিভিন্ন ধারা, উপধারা প্রয়োজনে প্রয়োগ করা হতে পারে বলে গনবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালনায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসমূহ, সমুদ্রবন্দরসমূহ ও স্থলবন্দরসমূহে বিদেশ থেকে আগত সকল যাত্রীর তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে; সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইতালিতে ও সৌদি আরবে কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন।

সিঙ্গাপুরে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি রোগীর অবস্থার উন্নতি হয়নি; ইতালিসহ ইউরোপের অন্যান্য আক্রান্ত দেশ হতে আগত প্রবাসী বাংলাদেশিদের হযরত শাহ্‌জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরনের পর তাদের আশকোনা হজ ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং ডকুমেন্টেশন শেষে তাদের গৃহ কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং গৃহ কোয়ারেন্টাইনে করণীয় নির্দেশনা প্রদান করে তাদের নিজ নিজ বাড়িতে পাঠানো হয়েছে; সার্কভুক্ত দেশের সরকার প্রধানগণ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রয়াসে ভিডিও কনফারেন্স করেছেন; অন এরাইভেল ভিসায় বাংলাদেশে আগত দুইজনকে বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
#