আলতাফ হোসেন বাবু : সাতক্ষীরায় নোভেল করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সাংবাদিকবৃন্দের সাথে জরুরী মতবিনিময় ও পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শুক্রবার রাত ৮টায় সাতক্ষীরা সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে উক্ত মতবিনিময় ও পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল’র সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান পিপিএম (বার), সাতক্ষীরা ৩৩বিজিবি অধিনায়ক লে.ক. খন্দকার গোলাম মহিউদ্দীন, সিভিল সার্জন ডা: হোসাইন শাফায়েত, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম।

করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সাংবাদিকবৃন্দের সাথে জরুরী মতবিনিময় ও পর্যালোচনা সভায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন সারা বিশ্ব এবং বাংলাদেশে একটা কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

এবং করোনা ভাইরাস আজকে বাংলাদেশে যেভাবে এগিয়ে এসেছে, সেখান থেকে আমাদের উত্তরনের জন্য এই জেলার সকল স্তরের জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তারা রয়েছে সকলে মিলে এ পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য এবং উত্তরনের জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

ইতিমধ্যে যে সকল লোক বিদেশ থেকে এসেছে এদেশে তার অধিকাংশই ভারত থেকে এসেছে। এবং আমাদের জানা তথ্যমতে এর বাইরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থেকেও লোক এসেছে। তাদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনের বিষয়ে সরকার যে নির্দেশনা দিয়েছে সে নির্দেশনা আমরা বাস্তবায়ন করে চলেছি ।

তবে এখনো অনেকেই এই হোম কোয়ারেন্টাইনের বাইরে রয়েছে। যেহেতু তালিকাটি আমরা পেয়েছি আমরা এটি নিয়ে কাজ করছি, জেলা পুলিশ কাজ করছে। সকলে সম্মিলিতভাবে কাজ করছে। যারাই যেখানে রয়েছে তাদেরকে আমরা ১৪দিন ঘরে থাকার অনুরোধ জানিয়েছি নির্দেশনা দিয়েছি।

এবং যারা অমান্য করছে, তাদের আমরা আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি বিধান করেছি। এরই মধ্যে এই আইন অমান্য করার কারনে কোয়ারেন্টাইন শর্ত অমান্য করার কারনে বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে ইতিমধ্যে জরিমানা করা হয়েছে।

এবং এই সুযোগে যারা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ঘটাচ্ছে, তাদেরও কিন্তু আইনের আওতায় নিয়ে আশা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫লাখ টাকারও বেশি জরিমানা করা হয়েছে গতকাল এবং আজকে।

এখানে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য পাশাপাশি আমরা জেলার সার্বিক করোনা পরিস্থিতি্ উত্তরনের জন্য এবং এটানিয়ে কাজ করার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে আমরা মনিটরিং টিম গঠন করেছি এডিসিদের মাধ্যমে।

পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা অত্যন্ত স্বক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এসিল্যান্ডরা কাজ করছে। এখানে জেলা পুলিশ এবং থানায় যে সমস্ত অফিসার ইনচার্জরা রয়েছে তারা কিন্তু এক যোগে কাজ করছে।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা কাজ করছে।পোশাপাশি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে এবং উপজেলা পর্যায়ে সকল স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা তারা অত্যন্ত নিবেদিত ভাবে এ করোনা পরিস্থিতি উত্তরনের জন্য আমাদের সাথে সম্বন্নতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

আমরা বিশ্বাস করি যে আমরা সকলে সম্মিলিত ভাবে যদি চেষ্টা করি, তবে এই অবস্থা থেকে উত্তরন ঘটাতে পারবো। আমরা বীরের জাতি, আমরা প্রমান করেছি ১৯৭১সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে নিরস্ত্র বাঙালী যুদ্ধো করে সে আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলো।

ঠিক এর চেয়ে একটা ভয়াবহ দূর্যোগ পরিস্থিতিতে সারা বিশ্ব এবং আমরাও তার বাইরে নই। আমরা জানি যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে এবং ধিরস্থিতভাবে তিনি যে দিক নির্দেশনা দিয়ে চলেছেন, এই দিক নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমরা সকলে এগিয়ে এসেছি এবং আমরা আরো দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাবো।

আপনাদেরকে আমি অনুরোধ জানাবো, আপনারা কেউ আতংকিত হবেন না। কেউ ভিতসন্ত্রস্ত হবেন না। এই মুহুত্তে সবচেয়ে বেশি যেটি গুরুত্বপূর্ণে সেটি হলো বিদেশ থেকে যারা এসেছেন, তারা অবশ্যই ১৪দিন ঘরের ভেতর থাকবে।

বাইরের কারোর সাথে দেখা করবেনা। এবং ঘরের মানুষের সংস্পর্শে এড়িয়ে চলবেন। এই বিষটি যারা এসেছে তারাকে খেয়াল রাখতে হবে, পাশাপাশি যারা রয়েছেন আপনাদেরও নজরদারি করতে হবে।

কারণ প্রত্যেকে যদি আমরা সম্মিলিত ভাবে আমরা না করি, তবে কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা অনেকটা কঠিন হবে। এই পরিস্থিতিতে আপনারা ধর্যের পরিচয়দেন সাহসের পরিচয়দেন আমরা সকলে ধোর্য-সাহস এবং ঐক্যবদ্ধ ভাবে এই পরিস্থিতির উত্তরন ঘটাতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ।