বিশেষ প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় গত ২৪ ঘন্টায় বিদেশ ফেরত আরো নতুন ২৯১ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়েছে। এনিয়ে গত ৭ দিনে বিদেশ ফেরত সাতক্ষীরার ৬৯০ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে। এছাড়া সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল আইসোলেশানে রয়েছেন এক জন।

এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ৫৫ জন, আশাশুনি উপজেলায় ৪৬ জন, দেবহাটা উপজেলায় ২৫ জন, কালিগঞ্জ উপজেলায় ১২৪ জন, কলারোয়া উপজেলায় ২৪৪ জন, শ্যামনগর উপজেলায় ১০২ জন ও তালা উপজেলায় ৯৩ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে।

তবে, বিদেশ থেকে আগত লোকের সংখ্যা গত ১ মার্চ থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত ৯ হাজার ৩২৪ জন। এর মধ্যে হোম কোয়ারেন্টাইনের বাইরে রয়েছে ৮ হাজার ৬ শ’ ৩৩ জন।

তবে, সাতক্ষীরা জেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রন কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, বিদেশ থেকে আসা সকল প্রবাসীদেরকে ইতিমধ্যে হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ।

ভোমরা ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ সরকার বলেন, সাতক্ষীরার ভোমরা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দুই দেশে আটকে থাকা পাসপোর্ট যাত্রীর আসা-যাওয়া স্বাভাবিক রয়েছে। যদিও দু দেশেই নতুন করে কোন পাসপোর্ট যাত্রীকে প্রবেশাধিকার না থাকায় যাত্রী সংখ্যা অনেক কমে গেছে।

এছাড়া ভারত সরকার কতৃক জনতা কারফিউ ঘোষিত হওয়ায় রবিবার ভোমরা বন্দর দিয়ে কোন মালামাল আমদানি ও রপ্তানি হয়নি বলে জানিয়েছেন ভোমরা বন্দর কতৃপক্ষের উপ পরিচালক মনিরুল ইসলাম।

এদিকে সাতক্ষীরা জেলার প্রতিটি উপজেলায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতামূলক অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রতিটি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি)

এবং সহকারী কমিশনারদের নেতৃত্ব বাজার মনিটরিং করা হয়, করোনা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ হয় এবং হোম কোয়ারেন্টিন অমান্য করায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা হয়।

সাতক্ষীরার সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে করোনা প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টিতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার প্রতি ইউনিয়নে মাইকিং করা হয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি), আজ বেলা আনুমানিক ২ঃ০০ ঘটিকায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার নিউমার্কেট এলাকার লাবণী সিনেমা হলে অভিযান চালানো হয়।

অভিযান কালে প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি সিনেমা দেখছিল। তাতক্ষণিকভাবে সিনেমা হলটি বন্ধ করা হয়। এবং সিনেমা প্রদর্শনীর সরঞ্জামাদি (মনিটর, সি.পি.ইউ এবং হার্ডডিস্ক) জব্দ করা হয়।

এছাড়া শহরের সংগীতা সিনেমা হলে অভিযানকালে সেটি বন্ধ ছিল। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সিনেমা হল ২টি বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিদেশ থেকে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন এমন ব্যক্তিদেরকে অমোচনীয় কালির সিল মারার কার্যক্রম চলমান রেখেছেন।

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সুলতানপুর বড় বাজার এবং ভোমরা পোর্ট বাজারে বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ স্বজল মোল্লা এবং ইন্দ্রজিৎ সাহা মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৫০০০ টাকা জরিমানা আদায় করে।

কালিগঞ্জ উপজেলায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য অস্বাভাবিক দ্রব্যমূল্যের অভিযোগ গ্রহণকারী ১২ টি টিম ১২ টি বড় বড় বাজারে অবস্থান করছে। আর ১২ টি ইউনিয়নে ১২ টি করোনা ফাইটিং টিম কাজ করছে।

মোট ২৪ টি টিমে প্রায় ১২০ জন অফিসার কাজ করছে। কালিগঞ্জ এর নাজিমগঞ্জ বাজার ও নলতা হাটখোলা বাজারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে অভিযান পরিচালনা করা হয়। ৫ টি মামলায় মোট ৪০০০০/- টাকা আদায় করা হয়।

তালা উপজেলায় হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতকরণে লাল নিশান দিয়ে চিহ্নিত করে দেয়া হয়েছে। যা ইতোমধ্যে হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। তালা উপজেলায়িতোমধ্যে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের কলবাড়ি বাজারে আইন অমান্য করে বিদেশ ফেরত ব্যক্তিকে নিজ কাঁকড়া আড়তে রাখায়, উপজেলা নির্বাহী অফিসার অভিযান চালিয়ে ১৫ দিনের জন্য কাঁকড়া আড়ত সিলগালা করে দিয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে গাবুরা, পদ্মপুকুর, নয়াবিকিসহ কয়েকটি বাজারে অভিযান চালিয়ে ৮৭,৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করে।

কলারোয়া উপজেলায় চায়ের দোকানে-হোটেলে আড্ডা, টিভি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি), কলারোয়া উপজেলার বাজারগুলোতে অভিযান চালিয়ে জানতে পারে দ্রব্যেমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আছে।

দেবহাটা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার, হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে ৫টি অভিযান পরিচালনা করেন। সবাই হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন।

আশাশুনি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার দ্রব্যমূল্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আশাশুনি, কাদাকাটি, মহিসপুর বাজারে অভিযান চালিয়ে ১০,৮০০ টাকা জরিমানা করে।