অনলাইন ডেস্ক : গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে দেশে নতুন আক্রান্ত হয়েছেন ১ জন। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪৯ জনে। গত ২৪ ঘন্টায় আরও ৪ জন সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে ১৯ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এমআইএস অডিটরিয়াম থেকে অনলাইন ব্রিফিংয়ে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এসব তথ্য জানান।

এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (এমআইএস) ডা. মো.হাবিবুর রহমান ও আইইডিসিআর’র প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক অনলাইন ব্রিফিংয়ে যুক্ত হয়ে দেশের করোনা পরিস্থিতি ও সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ে অবগত করেন।

ডা. ফ্লোরা বলেন, ‘আমরা গত ২৪ ঘন্টায় ১৫৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করিয়েছি। সর্বমোট ১ হাজার ৩৩৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা আছে এমন সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা ৪৯ জন। অর্থাৎ গত ২৪ ঘন্টায় নতুন ১ জন আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।

এই ৪৯ জনের মধ্যে ইতোপূর্বে ৫ জন আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ৪ জনের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমন না থাকে তারা সুস্থ হয়ে বাড়ি চলে গেছেন। মোট সুস্থ হয়েছেন ১৯ জন। এই মুহূর্তে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৫ জন।’

তিনি জানান, নতুন আক্রান্ত হয়েছেন যিনি একজন নারী। তার বয়স ২০ বছরের নীচে। তিনি কিভাবে আক্রান্ত হয়েছেন এ ব্যাপারে বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে। তিনি জানান, ২৮৬ জন আইসোলেশনে ছিল। এদের মধ্যে বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৬২ জন। গত ২৪ ঘন্টায় আইসোলেশনে গেছেন আরো ৬ জন।

তিনি জানান, ‘গত ২৪ ঘন্টায় যে ৪ জন সুস্থ হয়েছেন তাদের মধ্যে ১ জনের বয়স ৮০ বছর। আরও ২ জন আছেন ষাটোর্ধ। ৪ জনের মধ্যে ২ জন বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। এদের ২ জনের উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস ছিল। আর ২ জনের উচ্চ রক্তচাপ ও হাঁপানি ছিল। ৪ জনের মধ্যে ১ জন নার্সও রয়েছেন।’

বৈশ্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে আইইডিসিআরের পরিচালক বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী সারা বিশ্বে আক্রান্ত হয়েছে ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৮৩৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে সংযোজিত হয়েছে ৬৩ হাজার ১৫৯ জন। বিশ্বে মৃতের সংখ্যা ২৯ হাজার ৯৫৭। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে যুক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৪৬৪ জন।’

দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি জানান, দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বমোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ৭০৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৬২৪। দক্ষিণ এশিয়ায় মৃতের সংখ্যা ১৩৯। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে মৃত্যু হয়েছে ২৫ জন।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সব দেশেই এখন কোভিডের সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। আমরা যেসব পদক্ষেপ নিয়েছি, সেগুলো প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

তবে সবকিছুর সফলতা নির্ভর করবে জনগণ নির্দেশনা কতটুকু মেনে চলেছে তার ওপর। যেসব পরামর্শ দেয়া হয়েছে আমি অনুরোধ করব আমরা সকলেই যেন সেগুলো মেনে চলি। গত কয়েকদিন আক্রান্তের সংখ্যা কম হওয়ায় নিশ্চিন্ত হওয়ার কিছু নেই। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। আমরাও এর বাইরে নয়।’

তিনি সবাইকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানান। ডা. হাবিবুর রহমান জানান, করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা শহরের ৮টি হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ছাড়া সারাদেশে হাসপাতালগুলোতে আইসলেশন বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

তিনি জানান, ঢাকায় এখন ৬টি প্রতিষ্ঠানে করোনা টেস্ট হচ্ছে। ময়মনসিংহ ও রংপুরে আজকের মধ্যে টেস্ট করার জন্য ল্যাব প্রস্তুত হবে। রাজশাহীতে ২/১ দিনের মধ্যে পরীক্ষা শুরু হবে এবং বরিশাল ও সিলেটে ১ সপ্তাহের মধ্যে ল্যাব স্থাপন করা যাবে।

পরিচালক জানান, দেশে মোট কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে ৫৫ হাজার ৫৮৩ জনের। এরমধ্যে হোম কোয়ারেন্টাইনে ৫৫ হাজার ৩৬৯ জন এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন ২১৪ জন। এরমধ্যে ২৯ হাজার ৫৬০ জনকে কোয়ারেন্টাইন মুক্ত করা হয়েছে।

বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ২৬ হাজার ৩ জন। গত ২৪ ঘন্টায় ২ হাজার ৭৯০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে এবং কোয়ারেন্টাইনমুক্ত করা হয়েছে ৪ হাজার ১ জনকে।

তিনি জানান, দেশের ৬৪ জেলায় ৩২৩টি প্রতিষ্ঠানকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে ১৮ হাজার ৯২৩ জনকে সেবা দেয়া যাবে।

ডা. হাবিবুর রহমান জানান, এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থল, বিমান, নৌ ও সমুদ্র বন্দর দিয়ে আসা ৬ লাখ ৬৫ হাজার ২৬৬ জনকে স্কিনিং করা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় ২৮৩ জনকে স্কিনিং করা হয়েছে।

তিনি জানান, এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৭০টি পিপিই বিতরণ করা হয়েছে। মজুদ আছে আরও ৪১ হাজার ৯৩০টি। শিগগিরই আরও ১০ লাখ পিপিই হাতে আসবে।

এছাড়া এ পর্যন্ত ৯২ হাজার টেস্ট কীট সংগ্রহ করা হয়েছে। এরমধ্যে বিতরণ হয়েছে ২০ হাজার এবং ৭২ হাজার টেস্ট কীট হাতে রয়েছে।