মাহমুদুল হাসান শাওন, দেবহাটা : সাতক্ষীরার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মিষ্টি এন্টারপ্রাইজের মালিক ও জেলা কম্পিউটার সমিতির সভাপতি ফারুক-উল-ইসলামের সীমাহীন দূর্নীতির ফলে নির্মান শেষ হওয়ার আগেই ধ্বসে পড়তে শুরু করেছে দেবহাটা উপজেলার ভাঁতশালা সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নিমানাধীন চার তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবনের বিভিন্্ন অংশের দেয়াল।

হাজারো শিক্ষার্থীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তার বিষয়টির তোয়াক্কা না করে বরং সরকার নির্ধারিত এস্টিমেটের পরিবর্তে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি অতি নিন্মমানের ইট আর ইছামতি নদীর বালুর সাথে নামমাত্র সিমেন্ট ও খোয়ার পরিবর্তে ইটের গুড়ো (রাবিশ) মিশিয়ে

দায়সারাভাবে নির্মান কাজ চালানোর ফলেই ভবনের বিভিন্ন অংশের দেয়াল নির্মান শেষ হওয়ার আগেই ধ্বসে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষক শিক্ষার্থীরা।

ঠিকাদার ফারুক-উল-ইসলামের সীমাহীন দূর্নীতি-অনিয়মের ফলে একদিকে নামমাত্র অনিরাপদ ভাবেই নির্মান করা হচ্ছে বিদ্যালয়ের বহু কাঙ্খিত একাডেমিক ভবনটি। অপরদিকে জলে ডুবতে বসেছে ভবন নির্মানে সরকারের বরাদ্দকৃত ২ কোটি ৭৩ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা।

বিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা জানান, ১৯৭১ সালে বিদ্যালয়টি স্থাপিতের পর থেকে বহু প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে অদ্যবধি জরাজীর্ন ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলে আসছিলো।

দীর্ঘদিন ধরে ভাঁতশালা সহ আশেপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষ বিদ্যালয়টি জন্য উন্নত একটি একাডেমিক ভবন নির্মানে সরকারের কাছে দাবী জানালে বহু প্রতিক্ষার পর সাতক্ষীরা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় ২০১৯ সালের ৩রা মার্চ ভাঁতশালা সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চার তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মানসহ স্যানিটারী,

পানি সরবরাহ ও বৈদ্যুতিক কাজের জন্য ২ কোটি ৭৩ লক্ষ ৯০ হাজার ৬৫১ টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। বিদ্যালয়টির বর্তমান প্রধান শিক্ষক করিম উল্যাহর চাকুরীর মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে।

নির্মান কাজ শুরুর পর থেকেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক করিম উল্যাহ ও তার সহযোগী মাসুদ করিমের সাথে যোগসাজোসে ঠিকাদার ফারুক-উল-ইসলাম মোটা টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে ইটভাটা থেকে বাদ পড়া বৃষ্টিতে ভেজা অতি নিন্মমানের ইট, পাকশি কিংবা সিলেটের মোটা বালুর পরিবর্তে স্থানীয় ইছামতি নদীর লবনাক্ত চিকন বালু, খোয়ার পরিবর্তে ইটের গুড়া (রাবিশ) ও নামমাত্র সিমেন্ট মিশিয়ে নির্মান কাজ করতে থাকে।

এঘটনায় একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা ঠিকাদার ফারুক-উল-ইসলামের দূর্নীতির বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে দায়সারা ভাবে চলমান নির্মানকাজে বাঁধা দেন এবং দূর্নীতি না করে বরং সুষ্ঠভাবে কাঙ্খিত ভবনটি নির্মান করার জন্যও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করেন।

কিন্তু কর্তৃপক্ষের বাঁধার তোয়াক্কা না করে প্রধান শিক্ষকের সহযোগীতায় নির্মানকাজে সীমাহীন দূর্নীতি করতে থাকেন ঠিকাদার ফারুক-উল-ইসলাম। এমনকি কোন কারন ছাড়াই নানা অজুহাতে বিগত এক মাসেরও বেশী সময় ধরে নির্মান কাজ বন্ধ করে রেখেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি।

প্রায় প্রতিদিনই নির্মানাধীন ভবনের কোনও না কোন অংশের দেয়াল ধ্বসে পড়ছে বলে অভিযোগ করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন ও সরকারের বরাদ্দকৃত পৌনে তিন কোটি টাকার সুষ্ঠ ব্যবহার নিশ্চিতের জন্য দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজিয়া আফরীন ও জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামালের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থী ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা।

এব্যপারে অভিযুক্ত ঠিকাদার জেলা কম্পিউটার সমিতির সভাপতি ও মেসার্স মিষ্টি এন্টারপ্রাইজের মালিক ফারুক-উল-ইসলাম বলেন, যে দেয়াল গুলো ভেঙে পড়ছে সেগুলো মেরামত করে দেয়া হবে।  

দেবহাটা উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল গণি বলেন, নির্মানকাজে দূর্নীতি ও নির্মানাধীন ভবনের দেয়াল ধ্বসে যাওয়ার একাধিক অভিযোগ আমরা পেয়েছি। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য উদ্ধর্ত্তন কতৃপক্ষকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হবে।