আরিফুল ইসলাম আশা : নোভেল করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় মানুষের জন্য সাতক্ষীরায় আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত উপজেলা ও পৌরসভার অনুকূলে সর্বমোট ৮০০ টন চাল এবং ৩৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে এই বরাদ্দ থেকে উপজেলা ও পৌরসভার ৪২ হাজার ৫০০ পরিবারের মাঝে সরকারি ত্রাণ বিতরণ করা সম্পন্ন হয়েছে। বাকীগুলো বিতরণের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রতিটি উপজেলায় ইউনিয়ন ভিত্তিক দুস্থ ও সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের বাইরে থাকা গরীব মানুষের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।

ত্রাণসামগ্রী বিতরণের ক্ষেত্রে নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

এছাড়া করোনা পরিস্থিতিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যারা ওয়ার্ড-ইউনিয়ন পর্যায়ে তালিকাভুক্ত হতে সংকোচবোধ করছেন কিন্তু খাদ্য সংকট আছেন তাদের নাম, ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বারসহ এসএমএস এর মাধ্যমে সংগ্রহ করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক নিজে তাদের সাথে যোগাযোগ করছেন। রাতে গোপনে তাদের বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার শিরোনামে ঘরে ঘরে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ মোটরসাইকেল দল।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের মোবাইলে মেসেজের মাধ্যমে প্রাপ্ত ৫৭টি মধ্যবিত্ত পরিবারকে সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের নম্বরে এসএমএস থেকে প্রাপ্ত ৪৮১টি পরিবারসহ মোট ৫২১ পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর অফিসে ত্রাণ তহবিল খোলা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের ত্রাণ তহবিলে জেলা কৃষি বিভাগ তাদের ১ দিনের বেতন সমপরিমান

অর্থ ১,৩০,৮৩৫ টাকা সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তহবিলে এবং উপজেলা পর্যায়ে ৫৫,২৬৩ টাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ত্রাণ তহবিলে আর্থিক সাহায্য হিসেবে প্রদান করেছেন।

অন্যদিকে, গত ৪-৫ দিনে নারায়নগঞ্জ, মাদারিপুর এবং শরিয়তপুর থেকে সেখানে ঘোষিত লক ডাউনের মধ্যেও ১০ হাজারের মত মানুষ সাতক্ষীরা জেলাতে এসেছে।

এদের মধ্যে ১৮৭৬ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে এবং ৫৯৬৫ জনকে বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ১৬ জন, শ্যামনগর উপজেলায় ১০৭ জন, কালীগঞ্জ উপজেলায় ১৫৫৯ জন এবং আশশুনি উপজেলায় ০৩ জন ও দেবহাটা উপজেলায় ২৪ জন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রয়েছে।

জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল জেলার সংসদ সদস্যবর্গের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে জেলার পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে আলোচনা এবং পরামর্শ গ্রহণ করে করোনা মোকাবেলায় সর্বাত্মক কর্মসূচি বাস্তবাযন করে চলেছেন।

এছাড়া, জেলা সদরের সিনিয়র সিটিজেনদের সাথে নিয়মিত ফোনে খোঁজ নিচ্ছেন এবং তাদেরকে ঘরের বাইরে না যেতে বিশেষ অনুরোধ করছেন।

জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন, সরকারি ত্রাণের তালিকা এবং বিতরণে অনিয়ম স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং দুর্নীতি দমন আইনে মামলা করা হবে।