দীপক শেঠ, কলারোয়া প্রতিনিধি : কলারোয়ায় প্রেমের সম্পর্কের জেরে মেয়ের প্রেমিককে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মেয়েটির মা, দাদা রিয়াজউদ্দীন ও একই গ্রামের মৃত রহিম বকস দফাদারের ছেলে ইউপি সদস্য আব্দুল জলিলকে আটক করা হয়েছে।

তবে অভিযুক্ত মেয়েটির পিতাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা পলাতক রয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ১২নং যুগিখালী ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামে।

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের আদম ব্যাপারী নামে পরিচিত কামরুল ইসলামের দশম শ্রেনীতে পড়ুয়া মেয়ে ময়না খাতুনের (১৬) সাথে একই গ্রামের বজলু রহমান শেখের ছেলে জনি’র প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সেই সূত্র ধরে বুধবার গভীর রাতে মেয়েটির সাথে ওই ছেলেটি মোবাইল ফোনে কথা বলছিল।

এ সময় মেয়েটির পিতা কামরুল পাশের ঘর থেকে বিষয়টি বুঝতে পারে। পরে ওই রাতে মেয়েকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলে প্রথমে মেয়েটি অস্বীকার করে। এক পর্যায়ে বার বার জিজ্ঞাসাবাদে মেয়েটি ওই ছেলেটির নাম উল্লেখ করে বলে তাকে প্রায় সময় মোবাইল ফোনে সে বিরক্ত করে।

পরে মেয়েটির পিতা বিষয়টি পরিবারের সকল সদস্যদের জানায়। সকলের সিদ্ধান্তক্রমে মেয়েকে দিয়ে ওই রাতেই ছেলেটিকে তাদের বাড়িতে ডেকে এনে বেদম মারপিট করে হাত-পা ভাঙ্গাসহ মাথা থেতলে দিয়ে গুরুতর আহত করে।

ছেলেটির অভিভাবকরা জানতে পেরে আহত ছেলেকে উদ্ধার করে প্রথমে কলারোয়া হাসপাতালে পরে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার অবস্থা বেগতিক দেখে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ডাক্তাররা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। সে মোতাবেক বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনায় নিয়ে যাওয়ার পথিমধ্যে ছেলেটি মারা যায়।

এ বিষয়ে মেয়েটির পিতা কামরুল ইসলামের সাথে ০১৭১১-৩৭৯৪৯৩ নম্বর মোবাইল ফোনে বার বার যোগাযোগ করে বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি। আটককৃতদের বিষয়টি ওই এলাকার পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই তৌফিকুর রহমান নিশ্চিত করেছেন।

এ ব্যাপারে কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মুনীর-উল-গীয়াস জানান, বিষয়টি মোবাইল ফোনে জানতে পেরে তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনাস্থল পুলিশ পরিদর্শন করে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই অভিযুক্ত পরিবারের ৩ জনকে আটক করা হয়েছে বলে তিনি জানান।