অনলাইন ডেস্ক : গত ২৪ ঘন্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৭০৬ জন। বর্তমানে এ ভাইরাসে আক্রান্ত ১২ হাজার ৪২৫ জন। এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়েছেন ১৩০ জন। এ পর্যন্ত করোনামুক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৯১০ জন।

আজ দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন হেলথ বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য জানান। গতকালের চেয়ে আজ আক্রান্ত ৮৪ জন কম। গতকাল আক্রান্ত হয়েছিলেন ৭৯০ জন।

তবে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ১৩ জন মারা গেছেন।
ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, ‘করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৬ হাজার ৩৮২টি।

আগের দিন নমুনা সংগ্রহ হয়েছিল ৬ হাজার ৭৭১টি। নমুনা সংগ্রহ আগের দিনের তুলনায় ৩৮৯টি কম। গত ২৪ ঘন্টায় দেশের ৩৪টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৫ হাজার ৮৬৭টি।

আগের দিন পরীক্ষা হয়েছিল ৬ হাজার ২৪১টি। গতকালের চেয়ে নমুনা পরীক্ষা ৩৭৪টি কম। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৫১৩টি।

নমুনা পরীক্ষায় আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র যুক্ত হয়ে দেশে এখন করোনা পরীক্ষাগারের সংখ্যা ৩৪টি বলে তিনি জানান।

অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ১০৭ জনকে, এখন পর্যন্ত মোট আইসোলেশনের সংখ্যা ১ হাজার ৭৭১ জন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৪৩ জন, এখন পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ৯৫০ জন।

সারাদেশে আইসোলেশন শয্যা রয়েছে ৯ হাজার ৭৩৮টি। ঢাকার ভেতরে রয়েছে ৩ হাজার ৯৪৪টি। ঢাকা সিটির বাহিরে শয্যা রয়েছে ৫ হাজার ৬৯৪টি। আর দেশে আইসিইউ সংখ্যা রয়েছে ৩৪৯টি, ডায়ালাসিস ইউনিট রয়েছে ১০২টি রয়েছে বলে তিনি জানান।

নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন মিলে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ২ হাজার ৩৩১ জনকে। এখন পর্যন্ত মোট ২ লাখ ৪ হাজার ৩১ জনকে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে।

কোয়ারেন্টিন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ৯৬৭ জন, এখন পর্যন্ত মোট ছাড় পেয়েছেন ১ লাখ ৬৩ হাজার ৫২৮ জন। বর্তমানে মোট কোয়ারেন্টিনে আছেন ৪০ হাজার ৫০৩ জন।

সারাদেশের ৬৪ জেলা এবং সেখানকার উপজেলায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৬০১টি প্রতিষ্ঠান। এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে ৩০ হাজার ৬৩৫ জনকে কোয়ারেন্টাইন সেবা দেয়া যাবে বলে তিনি জানান।

অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, গত ২৪ ঘন্টায় ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) সংগ্রহ হয়েছে ৫০ হাজার ৬টি। বিতরণ হয়েছে ২৪ হাজার ৪৮০টি। এ পর্যন্ত সংগ্রহ ২০ লাখ ৬১ হাজার ৮৯০টি। বিতরণ হয়েছে ১৬ লাখ ১৪ হাজার ৮৮৪টি। বর্তমানে ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬টি পিপিই মজুদ রয়েছে।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘন্টায় হটলাইন নম্বরে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৪২২টি এবং এ পর্যন্ত প্রায় ৪২ লাখ ৪৭ হাজার ৩৬৭টি ফোন কল রিসিভ করে স্বাস্থ্য সেবা ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া মোবাইল ও ওয়েবসাইটে গত ২৪ ঘন্টায় ২৭ হাজার ৬৭৬ জন এবং এ পর্যন্ত ১৭ লাখ ২৩ হাজার ৫০ জনকে স্বাস্থ্য পরামর্শ ও চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, করোনাভাইরাস চিকিৎসা বিষয়ে এ পর্যন্ত ১৫ হাজার ৬৫৩ জন চিকিৎসক অনলাইনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। ২৪ ঘন্টায় আরও ১৫ জন চিকিৎসক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

এদের মধ্যে ৪ হাজার ৫০ জন স্বাস্থ্য বাতায়ন ও আইইডিসিয়ার’র হটলাইনগুলোতে স্বেচ্ছাভিত্তিতে সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘন্টা জনগণকে চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দিচ্ছেন।

ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, দেশের বিমানবন্দর, স্থল, নৌ ও সমুদ্রবন্দর দিয়ে গত ২৪ ঘন্টায় ৪১১ জনসহ সর্বমোট বাংলাদেশে আগত ৬ লাখ ৮০ হাজার ৩১২ জনকে স্কিনিং করা হয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি জানান, ৬ মে পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৩১০ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৭৬ হাজার ৯৯৮ জন। ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন ১৩৯ জন এবং এ পর্যন্ত ২ হাজার ৪২১ জন।

সারাবিশ্বে ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৭১ হাজার ৪৬৩ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৩৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭৭৩ জন। ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৪ হাজার ১০২ জন এবং এ পর্যন্ত ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫০৩ জন।

করোনাভাইরাসের সংক্রমন ঠেকাতে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলতে তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান।