অনলাইন ডেস্ক : গত ২৪ ঘন্টায় দেশে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৮৮৭ জন। এনিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ১৪ হাজার ৬৫৭ জন। একই সময়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৪ জন। এ নিয়ে দেশে ২২৮ জন মারা গেছেন। এছাড়া ২৪ ঘন্টায় দেশে করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হয়েছেন ২৩৬ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন মোট ২ হাজার ৬৫০ জন।

আজ দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন হেলথ বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য জানান।

গতকালের চেয়ে আজ ২৫১ জন বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল আক্রান্ত হয়েছিলেন ৬৩৬ জন। অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, দেশে করোনায় শনাক্ত বিবেচনায় মৃতের হার ১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং সুস্থতার হার ১৮ দশমিক ১০ শতাংশ।

ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, ‘করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৫ হাজার ৬৪২টি। আগের দিন নমুনা সংগ্রহ হয়েছিল ৫ হাজার ২৪৭টি। নমুনা সংগ্রহ আগের দিনের তুলনায় ৩৯৫টি কম।

গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজসহ দেশের ৩৬টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৫ হাজার ৭৩৮টি। আগের দিন নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ৫ হাজার ৪৬৫টি। গতকালের চেয়ে নমুনা পরীক্ষা ২৭৩টি বেশি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৬৫৭টি।

তিনি জানান, মারা যাওয়া ১৪ জনের মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী। বয়স বিশ্লেষণে ৪ জন নারীর মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১ জন এবং ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ২ জন।

১০ জন পুরুষের মধ্যে ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৪ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৩ জন এবং ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ১ জন।

অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ১৬৯ জনকে এবং আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৭১ জন। বর্তমানে মোট আইসোলেশনে আছেন ২ হাজার ১১৫ জন। আর এ পর্যন্ত আইসোলেশন থেকে মোট ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ১১৪ জন।

সারাদেশে আইসোলেশন শয্যা রয়েছে ৮ হাজার ৬৩৪টি; যা গতকালের চেয়ে ৪০টি বেশি। এ ছাড়া ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫শ’টি এবং ময়মনসিংহ নার্সিং ডারমেটরিতে আরও ২শ’টি আইসলেশন শয্যার প্রস্তুতি চলছে।

ঢাকা মহানগরীতে ২ হাজার ৯শ’টি। ঢাকা সিটির বাহিরে শয্যা রয়েছে ৫ হাজার ৭৩৪টি। আর দেশে আইসিইউ সংখ্যা রয়েছে ৩২৯টি, ডায়ালাসিস ইউনিট রয়েছে ১০২টি রয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন মিলে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ২ হাজার ২১৮ জনকে। এখন পর্যন্ত ২ লাখ ১০ হাজার ৬২৩ জনকে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে।

কোয়ারেন্টিন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ৯৭৯ জন, এখন পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ২০১ জন। বর্তমানে মোট কোয়ারেন্টিনে আছেন ৩৬ হাজার ৪২২ জন।

সারাদেশের ৬৪ জেলা এবং সেখানকার উপজেলায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৬১৫টি প্রতিষ্ঠান। এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে ৩০ হাজার ৯৫৫ জনকে কোয়ারেন্টাইন সেবা দেয়া যাবে বলে তিনি জানান।

অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, গত ২৪ ঘন্টায় ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) সংগ্রহ হয়েছে ২৭ হাজার ৯৯৫টি। বিতরণ হয়েছে ৩১ হাজার ৬শ’টি। এ পর্যন্ত সংগ্রহ ২১ লাখ ২১ হাজার ২৮৫টি। বিতরণ হয়েছে ১৭ লাখ ১০ হাজার ৮১৪টি। বর্তমানে ৪ লাখ ১০ হাজার ৪৭৩টি পিপিই মজুদ রয়েছে।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘন্টায় হটলাইন নম্বরে ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৬৯টি এবং এ পর্যন্ত প্রায় ৪৫ লাখ ২২ হাজার ৮৪৮টি ফোন কল রিসিভ করে স্বাস্থ্য সেবা ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, করোনাভাইরাস চিকিৎসা বিষয়ে এ পর্যন্ত ১৫ হাজার ৭০১ জন চিকিৎসক অনলাইনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। ২৪ ঘন্টায় আরও ১৫ জন চিকিৎসক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

এদের মধ্যে ৪ হাজার ৬৪ জন স্বাস্থ্য বাতায়ন ও আইইডিসিয়ার’র হটলাইনগুলোতে স্বেচ্ছাভিত্তিতে সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘন্টা জনগণকে চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দিচ্ছেন।

ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, দেশের বিমানবন্দর, স্থল, নৌ ও সমুদ্রবন্দর দিয়ে গত ২৪ ঘন্টায় ৬২৭ জনসহ সর্বমোট বাংলাদেশে আগত ৬ লাখ ৮২ হাজার ২৫৯ জনকে স্কিনিং করা হয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ৯ মে পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী ২৪ ঘন্টায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৫১৪ জন।

এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৯০ হাজার ৮০৮ জন। ২৪ ঘন্টায় মারা গেছেন ১৩০ জন এবং এ পর্যন্ত ৩ হাজার ২০৪ জন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ৯ মে পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী সারাবিশ্বে ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৯৫ হাজার ৮৪৫ জন।

এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৩৮ লাখ ৫৫ হাজার ৭৮৮ জন। ২৪ ঘন্টায় মারা গেছেন ৬ হাজার ৩৮৮ জন এবং এ পর্যন্ত ২ লাখ ৬৫ হাজার ৮৬২ জন।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলতে তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকা, রমজানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, বেশি বেশি পানি ও তরল জাতীয় খাবার, ভিটামিন সি ও ডি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, ডিম, মাছ, মাংস,

টাটকা ফলমূল ও সবজি খাওয়াসহ শরীরকে ফিট রাখতে নিয়মিত হালকা ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়।