অনলাইন ডেস্ক : দেশে গত ২৪ ঘন্টায় সর্বাধিক ১০ হাজার ৮৩৪টি নমুনা পরীক্ষায় ১ হাজার ৮৭৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এটি একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড।

এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশে এ পর্যন্ত এ ভাইরাসে মৃত্যুবরণ করেছেন ৪৫২ জন। করোনা আক্রান্ত ৩২ হাজার ছাড়িয়েছে। বর্তমানে এ ভাইরাসে শনাক্ত ৩২ হাজার ৭৮ জন রোগী রয়েছে।

আজ দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন হেলথ বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, করোনাভাইরাস আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৬ হাজার ৪৮৬ জন। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন সুস্থ হয়েছেন ২৯৬ জন। শনাক্ত বিবেচনায় দেশে করোনাভাইরাসে সুস্থতার হার ২০ দশমিক ২২ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪১ শতাংশ বলে তিনি জানান। গতকালের চেয়ে আজ ১৭৯ জন বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ হাজার ৬৯৪ জন।

নাসিমা সুলতানা জানান, ‘করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৯ হাজার ৯৭৭টি। আগের দিন নমুনা সংগ্রহ হয়েছিল ৯ হাজার ৯৯৩টি। গতকালের চেয়ে আজ ১৬টি নমুনা কম সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় ৪৭টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১০ হাজার ৮৩৪টি। আগের দিন নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ৯ হাজার ৭২৭টি।

গত ২৪ ঘন্টায় আগের দিনের চেয়ে ১ হাজার ১০৭টি বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৭৫টি।

তিনি জানান, মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ১৬ জন পুরুষ এবং ৪ জন নারী। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৮ জন, রংপুর বিভাগের ২ জন, সিলেট বিভাগের ১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগের ২ জন, রাজশাহী বিভাগের ২ জন এবং খুলনা বিভাগে ১ জন রয়েছেন।

২০ জনের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ১৫ জন, বাড়িতে মারা গেছেন ৪ জন এবং মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয় ১ জনকে।মৃত্যুবরণকারীদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায় যায়, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৩ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৮ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৩ জন এবং ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ২ জন রয়েছেন ।

অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ২৮৬ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৪ হাজার ৩০৫ জন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৪১ জন। এখন পর্যন্ত আইসোলেশন থেকে মোট ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ৬৯ জন। সারাদেশে আইসোলেশন শয্যা আছে ১৩ হাজার ২৮৪টি।

এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় সাত হাজার ২৫০টি এবং ঢাকার বাইরে আছে ছয় হাজার ৩৪টি। সারাদেশে আইসিইউ শয্যা আছে ৩৯৯টি। ডায়ালাইসিস ইউনিট আছে ১০৬টি।
নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন মিলে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ২ হাজার ৩২২ জনকে।

এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৬০ হাজার ৪১৬ জনকে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। কোয়ারেন্টিন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ৮৮ জন, এখন পর্যন্ত মোট ছাড় পেয়েছেন ২ লাখ ৫ হাজার ২৫৯ জন। বর্তমানে মোট কোয়ারেন্টিনে আছেন ৫৫ হাজার ১৫৭ জন। দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য ৬২৬টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সেবা দেয়া যাবে ৩১ হাজার ৮৪০ জনকে।

অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, কেন্দ্রীয় ঔষধাগার থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘন্টায় ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) এ পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে ২৪ লাখ ৬ হাজার ৪২৭টি। বিতরণ হয়েছে ২০ লাখ ৬১ হাজার ৩২টি।বর্তমানে ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৯৯৫টি পিপিই মজুদ রয়েছে।

গত ২৪ ঘন্টায় হটলাইন নম্বরে ২ লাখ ১৭ হাজার ২৮৩টি এবং এ পর্যন্ত প্রায় ৭২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৯৫টি ফোন কল রিসিভ করে স্বাস্থ্য সেবা ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি জানান, করোনাভাইরাস চিকিৎসা বিষয়ে এ পর্যন্ত ১৬ হাজার ১৪৪ জন চিকিৎসক অনলাইনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। ২৪ ঘন্টায় আরও ২১ জন চিকিৎসক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এদের মধ্যে ৪ হাজার ২১৫ জন স্বাস্থ্য বাতায়ন ও আইইডিসিয়ার’র হটলাইনগুলোতে স্বেচ্ছাভিত্তিতে সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘন্টা জনগণকে চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দিচ্ছেন।

ডা.নাসিমা সুলতানা জানান, দেশের বিমানবন্দর, নৌ, সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দর দিয়ে গত ২৪ ঘন্টায় আগত ১ হাজার ৩৭০ জনসহ সর্বমোট বাংলাদেশে আগত ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৬৭৫ জনকে স্কিনিং করা হয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২২ মে পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী ২৪ ঘন্টায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৯৩৪ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজার ১৫৯ জন। ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন ২০৭ জন এবং এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৩৪৭ জন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২২ মে পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী সারাবিশ্বে ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ২৮৪ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৪৯ লাখ ৮৩ হাজার ৪৭০ জন। ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৪ হাজার ৪৮২ জন এবং এ পর্যন্ত ৩ লাখ ২৭ হাজার ৭৩৮ জন।

আপনার সুস্থতা আপনার হাতে উল্লেখ করে করোনাভাইরাসের সংক্রমন ঠেকাতে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলতে তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান।
করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকা, রমজানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, বেশি বেশি পানি ও তরল জাতীয় খাবার, ভিটামিন সি ও ডি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, ডিম,

মাছ, মাংস, টাটকা ফলমূল ও সবজি খাওয়াসহ শরীরকে ফিট রাখতে নিয়মিত হালকা ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়। তিনি বলেন, ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ তা অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করে।