ঢাকা, ১৬ জ্যৈষ্ঠ (৩০ মে) : ‘বেগম খালেদা জিয়া দু’দফা ক্ষমতায় থেকেও জিয়াহত্যার বিচার না করা রহস্যজনক’ বলেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

আজ রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সমসাময়িক বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময়কালে ‘জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে বিএনপি মাজারে যায়, কিন্তু জিয়াহত্যার বিচার চায়না’ – এবিষয়ে মন্তব্য চাইলে মন্ত্রী একথা বলেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দুই দফায় দশবছর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, আরো একবার বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে একমাসের বেশি ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছিলেন। এটি সত্যিই রহস্যজনক যে জিয়াউর রহমান হত্যার বিচার তিনি করলেন না। সেকারণে জনগণের মনেও এটি প্রশ্ন যে, জিয়হত্যার বিচার করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে যাবে, এজন্যই কি তিনি বিচার করেননি!’

মন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের সুদক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণেই এখনো আশপাশের দেশ ও ইউরোপ-আমেরিকার চেয়ে আমাদের দেশে করোনায় আক্রান্তদের মৃত্যুহার অনেক কম, কিন্তু রুহুল কবির রিজভীসাহেব সহ বিএনপিনেতারা যেভাবে কথাবার্তা বলছেন, তাতে মনে হয়, তারা বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার উপদেষ্টার দায়িত্ব পেয়েছেন।’

বিএনপি’কে আশপাশের দেশসহ বিশ্বের দিকে তাকানোর অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানে করোনা সংক্রমণের হার আমাদের চেয়ে বেশি। ভারতে সংক্রমণ চীনকে ছাড়িয়ে গেছে। আর বেলজিয়ামে সংক্রমিতদের মৃত্যুহার ১৫ শতাংশ, বৃটেনে ১৪, যুক্তরাষ্ট্রে ৬, ভারতে ৩ দশমিক ২, পাকিস্তানে ২ এর বেশি আর আমাদের দেশে ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা যদি ভালো না হতো, তাহলে মৃত্যুহার ভারত-পাকিস্তানের মতো বা তার চেয়ে বেশি হতো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সার্বক্ষণিক মনিটরিং ও সংশ্লিষ্ট সকলের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই আমরা মৃত্যুহার কমিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছি।’

ড. হাছান আরো বলেন, ‘যাদের প্রয়োজন সেইসব মানুষকে খুঁজে খুঁজে ত্রাণ দেয়া হচ্ছে। কেউ চায়নি, কিন্তু মোবাইলে আড়াই হাজার টাকা করে পৌঁছে গেছে, দাবি না থাকা সত্ত্বেও কওমী মাদ্রাসাগুলো সহায়তা পেয়েছে, ঈদের আগে সহায়তা পৌঁছেছে মসজিদগুলোতেও।

সাংবাদিক, শিল্পীসহ বিভিন্ন পেশার অসহায় মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী সহায়তা দিচ্ছেন। আমি বিএনপি’কে একটু চক্ষু মেলিয়া আশপাশের দেশে কোথাও এমন ত্রাণ ও সহায়তা দেয়া হয়েছে কি না দেখতে অনুরোধ জানাই।’

করোনা মহামারি মোকাবিলায় উহানে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেবার সাথে সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের সুরক্ষার জন্য নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, চীনসহ অন্যান্য দেশ থেকে তখন যারাই এসেছেন, সবাইকে ‘হোম’ এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়।

দেশে আগত সকল পণ্যবাহী জাহাজকে বহির্নোঙরে রেখে সবার স্বাস্থ্যপরীক্ষা করে নিশ্চিত হবার পরই ভিড়তে দেয়া হয়েছে, স্থলবন্দরের জন্যও সেব্যবস্থা ছিল। এরপরও ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনারোগী শনাক্ত হয়, যেমন বিশ্বের অন্যান্য দেশও নানা পদক্ষেপ নিয়েছিল, কিন্তু কোনো দেশই করোনা থেকে মুক্ত থাকেনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্ব ও সময়োপযোগী বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত সব শংকা-আশঙ্কা মিথ্যে প্রমাণ করেছে। তিনি জানান, ‘করোনা থেকে সুরক্ষার জন্য সরকারি ছুটি ঘোষণার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ইতিহাসের বৃহত্তম ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেন।

সরকারের ব্যবস্থাপনায় ছয় কোটি মানুষ ত্রাণ ও আরো এক কোটি মানুষ নানা সহায়তা পেয়েছেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ পরিবারকে ত্রাণ দেয়া হয়েছে, যা অভাবনীয় এবং অন্য কোনো রাজনৈতিক দল তা করেনি ।

যেকারণে গত দু’মাসের বেশি প্রায় সবকাজ বন্ধ থাকার পরও পরম সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহ আর আমাদের চেষ্টায় একজন মানুষও অনাহারে মৃত্যুবরণ করেনি।’

আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ড. রোকেয়া সুলতানা, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন ও উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান এসময় উপস্থিত ছিলেন।