অনলাইন ডেস্ক : সাতক্ষীরা সদরে রিসোর্স সেন্টারের ডাটা এন্টি অপারেটর কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অফিস ফাঁকি দেয়াসহ প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় বৃত্তি এবং এ+ পাইয়ে দেওয়ার জন্য কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কাছ অর্থ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, ২০০৯ সাল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা পদ্ধতি চালু হয়। এটি কোমলমতি একজন শিক্ষার্থীর জীবনের প্রথম পাবলিক পরীক্ষা।

বিগত কয়েক বছর ধরে সাতক্ষীরার কয়েকজন শিক্ষকের যোগসাজসে এই জালিয়াত চক্র সদরের রিসোর্স সেন্টারের ডাটা এন্টি অপারেটর কামরুজ্জামান প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় বৃত্তি ও এ+ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

কামরুজ্জামান মাথাপ্রতি ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার পর যোগসাজে কৌশলে টেবুলেশন শীটে নাম্বার বাড়িয়ে দিয়ে তুলনামূলক কম মেধাবী শিক্ষার্থীদেরকে বৃত্তি ও এ+ পাইয়ে দিচ্ছে।

এমনকি যেসব শিক্ষকের কাছে এসব ছাত্র-ছাত্রীদের খাতা যাচ্ছে তাদের খুঁজে বের করে তাদের সাথেও এই জালিয়াতি চক্র কামরুজ্জামান যোগাযোগ করে নাম্বার বাড়িয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ফলে কয়েকবছর ধরে প্রকৃত মেধাবীরা জীবনের প্রথম পাবলিক পরীক্ষায় ধাক্কা খাচ্ছে, হচ্ছে চরম প্রতারণার শিকার। একই সাথে তারা হতাশ হয়ে শিক্ষা জীবনে পিছিয়ে পড়ছে, হারাচ্ছে মনোবল। এই প্রতারক চক্রের সাথে কয়েকজন শিক্ষকরা জড়িত বলে সূত্রে জানা গেছে।

প্রতারক এই জালিয়াত চক্র কামরুজ্জামান বেশ কয়েকবছর আগে থেকেই কৌশলে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে। বৃত্তি ও এ+ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কতিপয় কয়েকজন শিক্ষককের যোগসাজে কামরুজ্জামান প্রতিবছর লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

কামরুজ্জামান কৌশলে টেবুলেশন শীট পরিবর্তন করে বৃত্তি ও এ+ পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও করে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এক উপজেলার পরীক্ষার খাতা অন্য উপজেলার শিক্ষকরা দেখবে।

উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে অন্য উপজেলায় খাতা পাঠানোর সময় প্রতিটি পরীক্ষার খাতায় একটি কোর্ড নাম্বার বসবে, যা উপজেলা শিক্ষা অফিসে সংরক্ষণ থাকবে। পরবর্তী নাম্বার আসার পর উপজেলা ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কোর্ড নাম্বার অনুযায়ী প্রথমে ডাটা এন্ট্রি করে একটি খসড়া টেবুলেশন শীট তৈরী করবেন।

টেবুলেশন শীট তৈরীর সময় সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার , উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ছাড়া আর কেউ তা জানতে পারবে না। এটি চেক ক্রস চেক করে তাদের তিন জনের স্বাক্ষরে তা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠাতে হবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস উপজেলা শিক্ষা অফিসের ওই টেবুলেশন শীট প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে। সেখান থেকে প্রাপ্ত নাম্বারের ভিত্তিতে ফলাফল (ইউনিয়ন কোটা অনুযায়ী বৃত্তি ও এ+ সহ) ঘোষণা করা হবে।

প্রতারক চক্রটি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যখন টেবুলেশন শীট তৈরী হয় তখন কামরুজ্জামান কৌশলে নাম্বার বাড়ানোর ব্যবস্থা করে থাকে।

চলতি বছরও এই প্রতারণা জালিয়াত চক্র কামরুজ্জামান সহ কয়েকজন শিক্ষক প্রতারণার জাল ফেলে আসছে। ধরা না পড়লেও কামরুজ্জামান সহ কয়েকজন শিক্ষকের জেলাব্যাপী নেটওয়ার্ক।

তাবে সদর উপজেলার ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কামরুজ্জামান এই প্রতারণার চক্রের কাজের মূলহোতা বলে সূত্রে জানাগেছে। কয়েকজন জেলাব্যাপী এই প্রতারণার চক্রের কাজে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।

আর এই প্রতারণার চক্রের কাজে যারা বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল তাদেরকে বদলি করার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে তাদের নামে একেরপর এক নানা ধরণের মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে নানা ষড়যন্ত্র করতে থাকে কামরুজ্জামান।

প্রতারক চক্র কামরুজ্জামান কয়েকবছর আগে শিক্ষা অফিসের এক কর্মকর্তা সহ কয়েকজন শিক্ষক এবং বর্তমান তালা উপজেলার রিসোর্স সেন্টারে কর্মরত ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কৃঞ্চ নামে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে নানা ধরণের ষড়যন্ত্র করে।

গোপনে এমনকি কামরুজ্জামান তার অফিসের সহকারি ইন্সট্রাক্টর ইয়াছিন আলির বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করে।

সূত্রে আরও জানান রিসোর্স সেন্টারের ডাটা এন্টি অপারেটর কামরুজ্জামান তার নিজের জেলার সদরে যোগদান করার পর থেকে কামরুজ্জমানের বিরুদ্ধে তার অফিসের কাজে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে কামরুজ্জামানের ২ বার বদলীর অডার আসে।

এর মধ্যে প্রথম বার বদলি অডার আসে তালা উপজেলা যোগদান করা জন্য। পরে উপরের মহলের তদবিরে আবারও কামরুজ্জামান নিজের জেলার সদরে তার কর্মস্থলে যোগদান করেন। দ্বিতীয় বার আবারও কামরুজ্জামানের নামে বদলির অডার আসে।

কিন্তু উপরে মহলের তদবিরে তার নিজের জেলার সদরে বহাল থেকে যায় কামরুজ্জামান। নিজের জেলার সদরে তার কর্মস্থলে বহাল থাকায় আরও দিন দিন তার অফিসের নিয়মনীতি না মেনে কামরুজ্জামানের দুনীতি ও অনিয়মের কাজে লিপ্ত বেড়ে চলেছে।

কামরুজ্জামানের নানা অনিয়মের কাজে বেড়ে চলায় অতিষ্ট হয়ে উঠেছে তার অফিসের কর্মকর্তারা ও কর্মচারীরা এমনকি প্রাইমারী স্কুলের অনেকের শিক্ষকরা। কামরুজ্জামান দীর্ঘ একটানা কয়েকবছর ধরে নিজের জেলায় সদরে তার কর্মস্থলে বহাল থেকে জনপ্রতিনধিদের নাম ভাঙ্গিয়ে কামরুজ্জমান দাপটের সাথে চলে বেড়াই।

সে তার কর্মস্থলের কর্তৃপক্ষদের ও সহকর্মীদের তোয়াক্কা করে না, এমনকি তার অফিসের আইন কানুন কিছুই মানেন না । সে কর্মস্থলে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে অফিস ত্যাগ করে বাহিরে চলে যায় আর ইচ্ছেমত অফিসে আসে আর যায়।

প্রায় সময় অফিসের বাহিরে থাকে কামরুজ্জামান। কামরুজ্জামান অফিস ফাঁকি দিয়ে থানা কোর্ট আদালত করে বেড়াই ও পুরাতন চোরাই মোটরসাইকেল ক্রয় বিক্রয় করে বেড়াই।

আর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার পর অর্থের বিনিময়ে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় বৃত্তি এবং এ+ পাইয়ে দেওয়ার জন্য জেলার বিভিন্ন এলাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ও শিক্ষকদের ধারে ধারে ঘুরে বেড়াই। কামরুজ্জামান তার অফিসের এসব দুনীতি ও অনিয়ম করে টাকা পাহাড় বানিয়েছেন।

ইত্যেমধ্যে জমি ক্রয়ের জন্য বায়নাপত্র হিসেবে রসুলপুরের জনৈক মোস্তাফিজুর রহমান ব্যক্তির কাছে ১৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা প্রদান এবং অপরজনৈক ব্যক্তির কাছে ৫ লাখ টাকা প্রদান করেন বলে সূত্রে জানান। এছাড়াও তার নিজের বাড়িতে লাখ লাখ টাকা ব্যায়ে বিলাশ বহুল বাড়ি নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেছে।

সদর উপজেলার রিসোর্স সেন্টারের সহকারি ইন্সট্রাক্টর কর্মকর্তা ইয়াছিন আলি জানান কামরুজ্জামান অফিসে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে প্রায় সময় অফিসের বাহিরে থাকে এবং সে নিয়মিত অফিস করে না।

তার ইচ্ছেমত অফিসের বাহিরে যায় আর আসে। তবে এবিষয়ে সদরের রিসোর্স সেন্টারের ডাটা এন্টি অপারেটর কামরুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

অভিভাবক মহলের প্রত্যাশা যে এই প্রতারণার চক্রের কাজে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ডাটা এন্টি অপারেটর কামরুজ্জামান সহ জড়িত ব্যক্তিদের ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের আশু দৃষ্টি কামনা করেছেন।