স্টাফ রিপোর্টার : বর্তমান করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিকে বিবেচনায় এনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ৬৪ জেলায় ডিজিটাল কার্যক্রমকে জাতীয় তথ্য বাতায়ন এর মাধ্যমে নাগরিকদের কাছে উপস্থাপনের লক্ষ্যে অনলাইনে ডিজিটাল মেলা ২০২০ আয়োজন করেছে।

জেলা প্রশাসন স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ডিজিটাল কার্যক্রমের প্রেজেন্টেশন, ছবি, ভিডিও এবং প্রয়োজনীয় তথ্য অনলাইন প্লাটফর্ম জাতীয় তথ্য বাতায়নে সংযুক্ত করে এই মেলা উদযাপন করবে। ২৯ জুন সোমবার বেলা ১১টায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক অনলাইনে মেলার উদ্বোধন করবেন।

অনলাইনে ডিজিটাল মেলা সম্পর্কে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, মুজিব বর্ষ উদযাপন এর অংশ হিসেবে অনলাইন প্লাটফর্মে মুজিব কর্নার নামে একটি প্যাভিলিয়ন তৈরি করা হবে।

জেলা পর্যায়ে মেলা লিংকে প্রবেশ করে নাগরিকগণ স্থানীয় পর্যায়ের ডিজিটাল সকল কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হতে পারবেন এবং জেলার সকল ডিজিটাল কার্যক্রম টেক্সট প্রেজেন্টেশন ছবি এবং ভিডিওর মাধ্যমে উপস্থাপন করা হবে।

মেলা সম্পর্কিত প্রেস কনফারেন্স ও সেমিনার পর্বে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে এবং মেলার ভিডিও ক্লিপ মেলা উপস্থাপনের ভিডিও সেকশনে আপলোড করা হবে। এছাড়া মেলা সম্পর্কে স্থানীয় পর্যায়ে প্রচারণা করা হচ্ছে।

বিভিন্ন খাতে ডিজিটাল প্রশাসন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, ভূমি ই-মিউটেশন, বিআরটিএ, পোস্টাল বিভাগের সার্ভিস সমূহ, ই-পাসপোর্ট, পরিবেশ ও অন্যান্য সেবা খাত সরকারি সেবার ডিজিটাল পদ্ধতি সচিত্র তথ্য-উপাত্ত আপলোডের মাধ্যমে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে অনলাইন ডিজিটাল মেলায়।

জেলা প্রশাসক জানান,ডিজিটাল সেন্টার এবং পোস্ট ই-সেন্টার এর মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেয়ার পুরো প্রক্রিয়াকে অনলাইনের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হবে। ডিজিটাল সেন্টার এবং ই পোস্ট সেন্টার থেকে যে সকল সেবা দেয়া হয় তার তালিকা এবং সেবার মূল্য তালিকা উপস্থাপন করা হবে। এজেন্ট ব্যাংকিং এবং ই-কমার্স জনগণের নিকট সহজ ভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে এ সেবা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা হবে।

সেবা প্রদানকারী সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ প্যাভিলিয়নে তাদের সেবা ও সেবা প্রদান প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য উপস্থাপন করতে পারবেন। প্রত্যেক ডিপার্টমেন্টের জন্য ৪০ মিনিট জুমের মাধ্যমে জেলার দর্শনার্থীদের অনলাইনে যুক্ত করতে পারবেন। জেলার এক বা একাধিক ইউনিয়ন ও পৌর ডিজিটাল সেন্টারের সেবা উপস্থাপন করা হবে।

সরকারি-বেসরকারি যত ধরনের সেবার আবেদন অনলাইনে করা হয়েছে সব সম্পর্কে তথ্য উপস্থাপন করা হবে। জেলার এক বা একাধিক এজেন্ট ব্যাংকিং এবং রুরাল ই-কমার্স সম্বলিত ডিজিটাল সেন্টার উপস্থাপন করা হবে। মেলায় ডিজিটাল সেন্টারের নারী উদ্যোক্তাদের কার্যক্রম উপস্থাপনের ব্যবস্থা করা হবে।

স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর উদ্ভাবনী উদ্যোগ (বিদ্যালয় কার্যক্রম অটোমেশন, অভিভাবকদের নিকট এসএমএস প্রদান, অনলাইন শিক্ষার্থীদের বেতন সংগ্রহ, শেখানো কার্যক্রমে উন্নয়ন পদ্ধতি ব্যবহার) প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে।

এছাড়া অনলাইন ক্লাস কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট অনলাইন প্ল্যাটফর্মের শিক্ষাদান বিষয়ক উপস্থাপনা থাকবে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, বিসিক, বিএমইটি, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, পলিটেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট, টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ সহ সরকারের বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়ন মূলক প্রতিষ্ঠান এর ইনোভেটিভ উদ্যোগসমূহ যুবসমাজ সহ জনসাধারনকে জানানো হবে অনলাইনের মাধ্যমে।

জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্যোগ ও স্থানীয় পর্যায়ে স্টার্টআপ ও তরুণ উদ্ভাবকদের উদ্যোগে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে। স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন উদ্যোগ বিভিন্ন স্টার্টাপের বিবরণ, ছবি, ভিডিও প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে। স্থানীয় শিক্ষার্থী ও তরুণ উদ্ভাবকদের উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে। স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক সমস্যার সমাধান নিয়ে কোনো উদ্যোগ থাকলে প্রদর্শন করা হবে।

ইতিমধ্যে মেলায় অংশগ্রহণের লক্ষ্যে প্রেসব্রিফিং এবং সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় ক্যাবল টিভিতে স্ক্রল এর মাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলা সম্পর্কিত তথ্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্থানীয় পর্যায়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ সমূহ, ইনোভেশন, সাফল্যের গল্প, মেলার সকল কার্যক্রমের ছবি ও তথ্য অনলাইন পেইজে সংযুক্ত করা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।