অনলাইন ডেস্ক : আশাশুনির শীর্ষ সন্ত্রাসী লাকি বাহিনীর অত্যাচারে ৫০ হাজার মানুষ জিম্মি। আশাশুনিতে খুন, চাঁদাবাজি, চুরি, সন্ত্রাসী, নাশকতা, ঘেরলুট, পুলিশ এ্যাসল্ড সহ একাধিক মামলার আসামী এই আলাউদ্দিন লাকি। সাতক্ষীরা সন্ত্রাস দমন ট্রাইবুনাল থেকে সন্ত্রাস ৪/৯৩ নং মামলায় ৫ বছর দণ্ডপ্রাপ্ত ও হন তিনি। তার ভয়ংকর কর্মকান্ড খুলনার এরশাদ শিকদারকেও হার মানিয়েছে। জেলা পুলিশসহ সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীর তালিকায় রয়েছে তার নাম।

ইউপি নির্বাচনে নৌকার জনসভায় বোমা হামলাসহ আওয়ামীলীগ অফিসে ঢুকে প্রকাশ্যে জাতির জনক ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা হয়েছে লাকির নামে। ১৭/৫/২০২০ বুধবার সকালে সন্ত্রাসী লাকি বাহিনী মহিষকুড় আওয়ামীলীগ অফিসে ঢুকে বর্বর হামলা চালিয়ে জাতির জনক ও শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর করে এবং কৃষকলীগ নেতা রুস্তমের মাথায় চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কোপ মেরে মাথার হাড় ভেঙ্গে ফেলে।

এছাড়া উপজেলা নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করার জন্য প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা শ্রীউলা গ্রামের আব্দুল কাদেরকে বেধড়ক মারপিট করে। আবার দলীয় পদ পদবী না থাকলেও নিজেকে আওয়ামীলীগ নেতা দাবী করেন আলাউদ্দিন লাকি। (২ টি হত্যা)সহ ৩০টি মামলার অভিযোগ থাকা লাকির কাছে প্রশাসন অসহায়। যেখানে সেখানে মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের নামে চলানো হয় বর্বর শারীরিক -মানসিক নির্যাতন।

বিচারের নামে হাতুড়িপেটা করে হাত-পা ও পাঁজরের হাড় ভেঙ্গে দেওয়া হয়। এসব অপকর্মে লিপ্ত তার সহযোগী সশস্ত্র বাহিনী। আলাউদ্দীন লাকি ও তার বাহিনীর হাতে গত ১০ বছরে দুই শতাধিক মানুষ নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছে। পঙ্গুত্ব বরণ করেছে আরো অনেকে। ভয়ে-আতংকে সহায়-সম্বল রেখে পরিবার নিয়ে অন্যত্র পালিয়ে গেছে কয়েকশ পরিবার। আলাউদ্দীন লাকির সন্ত্রাসী বাহিনীর কাছে জিম্মি আশাশুনির ৫০ হাজার মানুষ।

দখল, চুরি, ঘের লুট, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র বাণিজ্য করে গড়ে তুলেছেন বিপুল অবৈধ সম্পদ। কে এই আলাউদ্দীন লাকি? সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের বাবর আলী সরদারের ৫ সবতানের দ্বিতীয় ছেলে আলাউদ্দীন লািক।এলাকাবাসী জানাই শীর্ষ সন্ত্রাসী আলাউদ্দিন লাকি এক সময় চুরি করে বেড়াতেন সেখান থেকে চোরের সরদার এবং পরবর্তীতে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ডাকাত বাহিনী গড়ে তোলে এলাকায় ত্রাস ও নিজের সন্ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করে চলেছে।

তার চাচা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ সরদারের হাত ধরে তার এই উত্থান হলে ও চাচার সম্পত্তির উপর নজর পড়ে পরবর্তীতে তার চাচার সাথে বেইমানি করে বর্তমানে চাচার সাথে বিরোধ চলে আসছে। তার বাবার মোট সম্পর্তি ছিলো আড়ায় বিঘা ও মাটির ঘর। সে এখন ৩৫ বিঘা জমির মালিক ও দুইতলা বাড়ি ।

বর্গা নিয়ে ঘের করেন আরো ১০০-১৫০ বিঘা। জমির হারির টাকা ১৩-১৫ হলে ও কাওকে সে হারি দেয় না এবং জোর করে দখলে রেখেছে পার্শবর্তী উপজেলার কালিগঞ্জে মুকুল চৌধুরী ও বিডি চৌধুর ৩০ বিঘা জমি এবং এলাকায় চুরি, ডাকাতি,ছিনটাই কর্মকান্ডের পরিকল্পনার মূলহোতা আলাউদ্দিন লাকি।বর্তমানে গড়ে তুলেছে এক ভয়ংকর সন্ত্রাসী বাহিনী।