স্টাফ রিপোর্টার : এ প্লাস প্রাপ্ত শারীরিক প্রতিবন্ধী সাজিয়া সুলতানার লেখাপড়ার সকল দায়িত্ব নিলেন আছিয়া বেগম স্মৃতি পাঠাগারের উপদেষ্টা ইঞ্জি: মোঃ মফিজুর রহমান ঢালী। অভাব ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সাজিয়া সুলতানার (১৭) সাফল্যকে আটকে রাখতে পারেনি।

সাতক্ষীরা সদরের আলীপুর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এবার এসএসসি পরীক্ষায় এ প্লাস পেয়ে সকলকে অবাক করে দিয়েছে। ছোটবেলা থেকে অসম্ভব মেধাবী তিন ফুট উচ্চতার সাজিয়া ভবিষ্যতে ডাক্তার হতে চায়। সে মোট ১১শ’ নম্বরের মধ্যে ১০৩৪ নম্বর পেয়েছে।

সাজিয়া পঞ্চম শ্রেণীতে বৃত্তি এবং জেএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়েছিল। তবে অভাবের কারণে যদি ডাক্তারী পড়তে না পারে তবে সে বিসিএস দিয়ে প্রশাসনিক ক্যাডারে যোগদিতে চায়।

সাজিয়ার মা শরীফা খাতুন জানান অদম্য প্রতিভার অধিকারী সাজিয়া জন্মগত ভাবে শারীরীক প্রতিবন্ধী হলেও জীবন যুদ্ধে সে অপ্রতিরোধ্য। সাজিয়া যখন খুব ছোট তার বাবা তার মা’ শরীফা খাতুনকে ছেড়ে অন্যত্র বিয়ে করে চলে যায়। এরপর থেকে তার মা’ই তার সব। তার নানা ও মামার আশ্রয়ে ১২জন পরিবারে তার মা তাকে নিয়ে থাকেন।

তার মা কোলে করে তাকে স্কুলে নিয়ে যাওয় আসা করতেন। এরইমধ্যে তিনি আনসার ভিডিপিতে নাম লেখান। ভোটের সময় ডিউটিতে তার যৎসামান্য আয় হয়। তার বাবা-ভাইয়ের সাহায্যে কোনরকম অভাব অনটনে দিন চলে।

পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পাওয়ার পর শত অভাব অনটনের মধ্যেও বাড়ি থেকে বেশ কিছু দূরে আলীপুর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তাকে ভর্তি করেন। এতদূর মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া আসার জন্য মা শরীফা খাতুন সাইকেল চালানো শেখেন। তিনি প্রতিদিন মেয়েকে সাইকেলে করে স্কুলে নিয়ে যাওয়া আসা করতেন।

সাজিয়া সুলতানার অসুহায়ত্বে সংবাদ প্রকাশের পরে তার লেখা পড়াসহ সকল দায়িত্ব দিলেন আছিয়া বেগম স্মৃতি পাঠাগারের উপদেষ্টা ও আলিপুর সেন্ট্রাল ফ্রেন্ডস ক্লাবের সভাপ্রতি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আলিপুর ঢালিপাড়া গ্রামের মৃত্যু ছলেমান ঢালীর ছোট পুত্র মানবতার ভাই খ্যাত প্রকৌঃ মোঃ মফিজুর রহমান ঢালী।