অনলাইন ডেস্ক : করোনায় দেশে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫২ জনে। একই সময়ে রোগী শনাক্ত হয়েছে ২৭৩৮ জন। নতুন শনাক্ত নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ৬২ হাজার ৪১৭ জনে।

রোববার করোনা সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

সবশেষ তথ্যানুযায়ী, দেশে করোনার নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৯.৫৭ শতাংশ, শনাক্তের বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১.২৬ শতাংশ এবং সুস্থতার হার ৪৪.৭২ শতাংশ।

তিনি বলেন, ঢাকা সিটিসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ও বাড়িতে উপসর্গ বিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৯০৪ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৭২ হাজার ৬২৫ জন।

তিনি আরো বলেন, সারাদেশে ৭১টি ল্যাব আছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৩ হাজার ৯৬৪টি। আগের নমুনাসহ মোট পরীক্ষা করা হয়েছে ১৩ হাজার ৯৬৪টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে আট লাখ ৪৬ হাজার ৬২টি।

নাসিমা সুলতানা জানান, ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৫৫ জনের মধ্যে ৩৭ জন পুরুষ ও নারী ১৮ জন। মৃতদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে নয় জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৩ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১৭ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে তিন জন ও শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে এক জন রয়েছেন।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ৪৪৯ জন ও আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৪৮৩ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে এসেছেন ৩০ হাজার ৮৭২ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৬ হাজার ৭১৫ জন।

এসময় করোনার ঝুঁকি এড়াতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে সবাইকে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো ‍দুর্যোগে শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে, তাদের প্রতি বিশেষ মনোযোগী হোন। নারীর প্রয়োজনের প্রতি বিশেষ অগ্রাধিকার দিন। মানসিকভবে উজ্জীবীত রাখার পথ নিজেকে খুঁজে নিতে হবে।

দেশে করোনা সংক্রমিত প্রথম রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। তার ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

প্রসঙ্গত, চীনের উহান থেকে বিস্তার শুরু করে গত চার মাসে বিশ্বের ২১৫টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে অজানা এই ভাইরাস। চীনে করোনার প্রভাব কমলেও বিশ্বের অন্য কয়েকটি দেশে মহামারি রূপ নিয়েছে।

করোনা মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। উপসর্গগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মত।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে ডেকে আনতে পারে মৃত্যু।