অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশে দিনকে দিন বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। গত মার্চের ৮ তারিখ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর দেশে করোনার বিস্তার কখনো কমেনি।

এরই মধ্যে দেশে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়িয়েছে। চলমান পরিস্থিতিতে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এ সংখ্যা দুইলাখে পৌঁছাবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

এমতাবস্থায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ৩ হাজার ২০১ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। যার ফলে দেশে মোট করোনা রোগী শনাক্ত হলো ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬১৮ জন।

একই সময়ে নতুন করে ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশে মোট মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৯৬ জনের। ৬৮টি পরীক্ষাগারে এসব নমুনা পরীক্ষা করা হয়। যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের মধ্যে ৩৩ জন পুরুষ ও ১১ জন নারী।

সোমবার করোনা সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

এ সময় বরাবরের মতোই বুলেটিনে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়।

নাসিমা সুলতানা ৬৮টি ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষার তথ্য তুলে ধরে জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৫ হাজার ২০১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ১৪ হাজার ২৪৫টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো আট লাখ ৬০ হাজার ৩০৭টি।

নতুন নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও তিন হাজার ২০১ জনের মধ্যে। ফলে শনাক্ত করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল এক লাখ ৬৫ হাজার ৬১৮ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ৪৪ জন। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে দুই হাজার ৯৬ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও তিন হাজার ৫২৪ জন। এতে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৭৬ হাজার ১৪৯ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন তাদের ১৭ জন ঢাকা বিভাগের, ১১ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, তিনজন রাজশাহী বিভাগের, দুইজন খুলনা বিভাগের, চারজন বরিশাল বিভাগের, তিনজন সিলেট বিভাগের, দুইজন রংপুর বিভাগের এবং দুইজন ময়মনসিংহ বিভাগের। ৩৫ জন মারা গেছেন হাসপাতালে এবং ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বাসায়।

বুলেটিনে আরো জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। রোগী শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪৫ দশমিক ৯৮ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৭ শতাংশ।

বুলেটিনে ডা. নাসিমা করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের আহ্বান জানান।

এর আগে রোববারের (১ জুন) বুলেটিনে জানানো হয়, দেশে চব্বিশ ঘণ্টায় আরো দুই হাজার ৭৩৮ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ পাওয়া গেছে।

এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৬২ হাজার ৪১৭ জন। এ সময়ের মধ্যে মারা গেছেন আরো ৫৫ জন। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দুই হাজার ৫২ জন।

রোববারের ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয়, দেশে করোনার নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৯.৫৭ শতাংশ, শনাক্তের বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১.২৬ শতাংশ এবং সুস্থতার হার ৪৪.৭২ শতাংশ।

নাসিমা রোববারের ব্রিফিংয়ে বলেন, ঢাকা সিটিসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ও বাড়িতে উপসর্গ বিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৯০৪ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৭২ হাজার ৬২৫ জন। সারাদেশে ৭১টি ল্যাব আছে।

এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৩ হাজার ৯৬৪টি। আগের নমুনাসহ মোট পরীক্ষা করা হয়েছে ১৩ হাজার ৯৬৪টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে আট লাখ ৪৬ হাজার ৬২টি।

নাসিমা সুলতানা জানান, ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৫৫ জনের মধ্যে ৩৭ জন পুরুষ ও নারী ১৮ জন। মৃতদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে নয় জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৩ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১৭ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে তিন জন ও শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে এক জন রয়েছেন।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ৪৪৯ জন ও আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৪৮৩ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে এসেছেন ৩০ হাজার ৮৭২ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৬ হাজার ৭১৫ জন।

প্রসঙ্গত, চীনের উহান থেকে বিস্তার শুরু করে গত চার মাসে বিশ্বের ২১৫টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। চীনে করোনার প্রভাব কমলেও বিশ্বের অন্য কয়েকটি দেশে মহামারি রূপ নিয়েছে।

দেশে করোনা সংক্রমিত প্রথম রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। তার ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

দেশে করোনায় সংক্রমিত প্রথম রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। তার ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

করোনায় মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট।

উপসর্গগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মত। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে ডেকে আনতে পারে মৃত্যু।