অনলাইন ডেস্ক : করোনায় দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ২৯২৮ জনে। একই সময়ে রোগী শনাক্ত হয়েছে ২২৭৫ জন। নতুন শনাক্ত নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৫৩ জন।

রোববার করোনা সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

নাসিমা সুলতানা বলেন, ঢাকা সিটিসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ও বাড়িতে উপসর্গবিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৭৯২ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন এক লাখ ২৩ হাজার ৮৮২ জন। দেশে করোনার নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২২.৫৭ শতাংশ, শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১.৩১ শতাংশ এবং সুস্থতার হার ৫৪.৪৪ শতাংশ।

তিনি আরও জানান, সারাদেশে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪৯ টি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩২ টি ল্যাব চালু আছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১০ হাজার ৪৪১ টি। মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১০ হাজার ৭৮ টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১১ লাখ ১১ হাজার ৫৫৭ টি।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৫৪ জনের মধ্যে ৪০ জন পুরুষ ও নারী ১৪ জন। তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০ জন, রাজশাহী বিভাগে সাতজন, বরিশাল বিভাগে একজন, খুলনা বিভাগে আটজন ও রংপুর বিভাগে তিনজন, সিলেট বিভাগে ছয়জন। হাসপাতালে মারা গেছেন ৪৮ জন, বাসায় ছয়জন।

মৃতদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে তিনজন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে সাতজন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১৭ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৫ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে আট জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে তিন জন রয়েছেন।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ৬৬৭ জন ও আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৭৩৭ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে এসেছেন ৪৭ হাজার ২২৬ জন। আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র নিয়েছেন ২৮ হাজার ৯৪ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৯ হাজার ১৩২ জন।

রাবরের মতোই বুলেটিনে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়।

উল্লেখ্য, চীনের উহান থেকে করোনা গত ছয় মাসে বিশ্বের ২১৫ টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে । চীনে করোনার প্রভাব কমলেও বিশ্বের অন্য কয়েকটি দেশে মহামারি রূপ নিয়েছে। দেশে করোনা সংক্রমিত প্রথম রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। তার ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

করোনায় মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। উপসর্গগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মত।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে ডেকে আনতে পারে মৃত্যু।