অনলাইন ডেস্ক : করোনায় দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসময় রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮৮৬ জন। রোববার করোনা সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৬৮৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ১১ লাখ ৮৯ হাজার ২৯৫টি। নতুন পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮৬৬ জনের। এনিয়ে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল দুই লাখ ৪০ হাজার ৭৪৬ জন। আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে আরও ২২ জনের।

ফলে ভাইরাসটিতে মোট মারা গেলেন ৩ হাজার ১৫৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৫৮৬ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৮৩৯ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ২২ জনের মধ্যে পুরুষ ১৭ জন ও নারী পাঁচজন। এদের মধ্যে ৩১ থেকে ৪০ বছরের দুজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের একজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের আটজন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের নয়জন এবং ৭১ থেকে ৮০ বছর বয়সসীমার রয়েছেন দুজন।

বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের রয়েছেন ৮ জন, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগের ৩ জন করে, রাজশাহীর ৪ জন, বরিশালে দুজন এবং রংপুর ও সিলেট বিভাগে একজন করে রয়েছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ২৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। এখন পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ২০ দশমিক ২৪ শতাংশ। আর রোগী শনাক্ত তুলনায় সুস্থতার হার ৫৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং মৃত্যুহার ১ দশমিক ৩১শতাংশ।

বরাবরের মতোই বুলেটিনে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়।

উল্লেখ্য, চীনের উহান থেকে করোনা গত ছয় মাসে বিশ্বের ২১৫টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে । চীনে করোনার প্রভাব কমলেও বিশ্বের অন্য কয়েকটি দেশে মহামারি রূপ নিয়েছে। দেশে করোনা সংক্রমিত প্রথম রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। তার ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

করোনায় মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট।

উপসর্গগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মত। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে ডেকে আনতে পারে মৃত্যু।