অনলাইন ডেস্ক : করোনায় দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩,১৮৪ জনে। একই সময়ে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১,৩৫৬ জন। নতুন শনাক্ত নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২,৪২,১০২।

সোমবার করোনা সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি জানান, করোনা ভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ হাজার ২৪৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ পর্যন্ত মোট ১১ লাখ ৯৩ হাজার ৫৪৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ১ হাজার ৬৬ জন। এতে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ৩৭ হাজার ৯০৫ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার ৩১ দশমিক ৯১ শতাংশের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত শনাক্তের হার ২০ দশমিক ২৮ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুহার এক দশমিক ৩২ শতাংশ।

নাসিমা সুলতানা জানান, এ পর্যন্ত ২ হাজার ৫০৪ জন পুরুষ এবং ৬৮০ জন নারী মৃত্যুবরণ করেছেন। ২৪ ঘণ্টায় যে ৩০ জন মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব দুজন, চল্লিশোর্ধ্ব ‌তিনজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব চারজন, ষাটোর্ধ্ব ১৪ জন, সত্তরোর্ধ্ব পাঁচজন, ৮০ বছরের বেশি বয়সী একজন এবং নব্বই বছ‌রের বেশি বয়‌সী।

বিভাগীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারী ৩০ জনের মধ্যে ১৫ জন ঢাকা বিভাগের, পাঁচজন চট্টগ্রাম বিভাগের, তিনজন রাজশাহী বিভাগের, চারজন খুলনা বিভাগের, সি‌লেট বিভা‌গের একজন, রংপুরের একজন ও ময়মনসিংহ বিভাগের একজন।

গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে আরও ৪৬৮ জনকে এবং এ পর্যন্ত আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে ৫২ হাজার ২৭৩ জন‌কে। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৩৬৩ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৪৪৮ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন ১৮ হাজার ৮২৫ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে ৯৯৯ জনকে, এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে চার লাখ ৪০ হাজার ১৩২ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন এক হাজার ৫১৪ জন, এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইন থেকে মোট ছাড় পেয়েছেন তিন লাখ ৮৫ হাজার ২৭৮ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৫৪ হাজার ৮৫৪ জন।

বরাবরের মতোই বুলেটিনে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়।

উল্লেখ্য, চীনের উহান থেকে করোনা গত ছয় মাসে বিশ্বের ২১৫টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে । চীনে করোনার প্রভাব কমলেও বিশ্বের অন্য কয়েকটি দেশে মহামারি রূপ নিয়েছে। দেশে করোনা সংক্রমিত প্রথম রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। তার ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

করোনায় মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। উপসর্গগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মত।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে ডেকে আনতে পারে মৃত্যু।