চট্টগ্রাম, ১৯ শ্রাবণ (০৩ আগস্ট) : তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ কোন না কোনভাবে দুর্দশায় পতিত। দুর্দশা লাঘবে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড গতিশীল রাখার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়েছে। এ অবস্থায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে একে অন্যের পাশে দাঁড়াতে হবে। কষ্ট ভাগা-ভাগী করে নিতে হবে।

মন্ত্রী আজ সার্কিট হাউজে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) নেতৃবৃন্দের সাথে মত বিনিময়কালে এ আহ্বান জানান। সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সিইউজে সভাপতি মোহাম্মদ আলী, সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইসলাম তাদের বিভিন্ন দাবী-দাওয়া তথ্যমন্ত্রীর নিকট তুলে ধরেন। সিইউজের বিভিন্ন ইউনিট প্রধান ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে যারা বেতন পাননা, চাকরিচ্যুত ও দীর্ঘদিন বেকার এ ৩ ক্যাটাগরিতে সাংবাদিকদের এককালীন অনুদান দিয়েছে। সারা দেশে প্রায় ১ হাজার ৫ শত সাংবাদিককে এর আওতায় এককালীন দশ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে।

অনুদান প্রদানের এ প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া কোভিড-১৯ এ যেসব সাংবাদিক মারা গেছে তাদের পরিবারকে এককালীন ৩ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এসব অনুদান অব্যাহত থাকবে। সিইউজে নেতৃবৃন্দের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনে সব পক্ষের সাথে আলোচনা করা হবে।

কোভিড-১৯ মোকাবেলায় সাংবাদিকদের সম্মুখ সারির যোদ্ধা অভিহিত করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ঝুঁকি নিয়ে সাংবাদিকরা কাজ করেছে এবং করছে। তাদের এ ত্যাগের কারনে কোন মিডিয়া বন্ধ হয়নি। বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রতিনিয়ত সংবাদ পরিবেশিত হয়েছে এবং হচ্ছে। কোভিডে আক্রান্ত ও মৃত্যু বরণকারী সাংবাদিকদের প্রতি মন্ত্রী এ সময় সহানুভূতি জ্ঞাপন করেন।

মন্ত্রী বলেন, করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি অনেক দেশের চেয়ে ভাল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বের কারনে জটিল এ পরিস্থিতি সুন্দরভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তিনি বলেন, কোভিড চিকিৎসায় প্রথমদিকে চট্টগ্রামে কিছুটা সংকট থাকলেও এখন কোন সংকট নেই। আইসিইউ বেড ও কোভিড জেনারেল বেড বর্তমানে পর্যাপ্ত সংখ্যক খালী রয়েছে। তারপরেও সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, অনেকে কেবল টিভিতে উঁকি দিয়ে সমালোচনা করে, একমুঠো চাল নিয়ে গরীব মানুষের পাশে দাঁড়ায়না। খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এ সময় তিনি বিরোধী দলের প্রতি আহŸান জানান।

অনুষ্ঠান শেষে স্ইিউজে নেতৃবৃন্দ আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন। পরে মন্ত্রী চট্টগ্রামের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। সিটি মেয়র আজম নাছির উদ্দিন, বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ, অতিরিক্ত ডিআইজি, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, সিভিল সার্জন, বিএমএ সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।