কালিগঞ্জ প্রতিনিধি : ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি, বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত আস্থাভাজন, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ মোঃ হযরত আলী মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ের গেজেড ভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও স্থানীয় প্রশাসন ও উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

হাজার হাজার মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে জানাযা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। ৬ আগষ্ট বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় কালিগঞ্জ সামাদ স্মৃতি মাঠ সংলগ্ন মরহুমের বাড়ীর সামনের রাস্তায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে কালিগঞ্জ থানা পুলিশের একটি চৌকস দল মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ডাঃ হযরত আলী’কে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অফ অনার প্রদান করেন কালিগঞ্জ থানার এস.আই ওয়াদ।

এসময় রাষ্ট্রীয় সালাম গ্রহণ করেন কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক রাসেল। এর আগে সংক্ষিপ্ত ভাবে বক্তব্য রাখেন কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সাঈদ মেহেদী, কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোজাম্মেল হক রাসেল, কালিগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ দেলোয়ার হুসেন, কালিগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম।

মরহুমের জামাতা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও তারালী ইউ.পি চেয়ারম্যান এনামুল হোসেন ছোট এর সঞ্চালনায় এসময় মরহুমের জীবন ও কর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে টেলিকনফারেন্স এর মাধ্যমে ঢাকা থেকে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন সাতক্ষীরা-০৪ আসনের সংসদ সদস্য, সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডাঃ আ.ফ.ম রুহুল হক, মরহুমের বড় পুত্র কাজী আলাউদ্দীন কলেজের প্রভাষক আকবার আহম্মেদ, মরহুমের শ্যালক সাতক্ষীরা জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আশরাফুর জ্জামান আশু, কালিগঞ্জ বিশিষ্ট সাহিত্যিক গাজী আজিজুর রহমান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আজিজ আহম্মেদ পুটু, কালিগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মাহাবুবুর রহমান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা সাবেক পৌর কমিশনার পাপা, মরহুমের মেজো পুত্র ডাঃ জাহিদ আহম্মেদ বিপুল, ছোটো পুত্র জাকির হোসেন টুটুল, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির কালিগঞ্জ শাখার সভাপতি শেখ আনোয়ার হোসেন, নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের নেতৃবৃন্দ, আলহাজ্ব আনিছুরজ্জামান খোকন, প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম, কালিগঞ্জ আহ্ছানিয়া মিশনের সাধারণ সম্পাদক নূর হোসেন সহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, মরহুমের আত্মীয় স্বজন, মুক্তিযোদ্ধা সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

জানাযা’র নামাজ পড়ান বাজারগ্রাম রহিমপুর এমদাদিয়া তালীমূল কোরআন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মুহ্তামিম পীর’এ কামেল, আলহাজ্ব মাওঃ অজীহূর রহমান। শেষে দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন নলতা জামে শাহী মসজিদের ঈমাম হযরত মাওঃ আশরাফুল ইসলাম আজিজী। এরপর মরহুমের দ্বিতীয় নামাজের জানাযা গ্রামের বাড়ী উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের হাড়দ্দাহ গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

৫ আগষ্ট বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটে ডাঃ হযরত আলী নিজ বাড়ীতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সংগঠিত করে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য সাহস যুগিয়ে অনুপ্রেরনা দিয়েছিলেন। যুদ্ধকালীন সময়ে অসুস্থ্য মুক্তিযোদ্ধাদের ভারতে চিকিৎসা সেবা দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর এলাকার তিনি একমাত্র ব্যক্তি, যিনি বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচার দাবী করেছিলেন। শুধু তাই নয় তিনি যেকোনো অন্যায় ও প্রতিবাদে ছিলেন স্বোচ্ছার। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারন করে মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি গভীর আস্থা রেখে দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি চিকিৎসা সেবায় মনোনিবেশ করেছিলেন।

সত্য ন্যায় ও নির্ভরতার মূর্তপ্রতি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হয়েও তিনি স্বেচ্ছায় সরকারী গেজেট ভুক্ত হননি। তার মত একজন মহান মানুষের মৃত্যুতে এলাকা সহ সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে।