অনলাইন ডেস্ক : করোনায় দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩,৪৩৮ জনে। একই সময়ে রোগী শনাক্ত হয়েছে ২,৯০৭ জন। নতুন শনাক্ত নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২,৬০,৫০৭। সোমবার করোনা সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১২ হাজার ৮৫৫টি এবং পরীক্ষা হয়েছে ১২ হাজার ৮৪৯টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১২ লাখ ৭৩ হাজার ১৬৮টি।

তিনি আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও দুই হাজার ৬৭ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন এক লাখ ৫০ হাজার ৪৩৭ জন। বুলেটিনে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে পুরুষ ৩৫ জন এবং নারী চারজন। মোট মৃতদের মধ্যে পুরুষ দুই হাজার ৭২১ জন (৭৯ দশমিক ১৪ শতাংশ) এবং নারী ৭১৭ জন (২০ দশমিক ৮৬ শতাংশ)।

গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে ১০ বছরের কম বয়সী একজন, ২০ বছরের বেশি বয়সী একজন, ত্রিশোর্ধ্ব একজন, চল্লিশোর্ধ্ব তিনজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১০ জন, ষাটোর্ধ্ব ১৩ জন, সত্তরোর্ধ্ব ছয়জন ও ৮০ বছরের বেশি বয়সী চারজন ছিলেন। ঢাকা বিভাগের ছিলেন ১২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের সাতজন, খুলনা বিভাগের ছয়জন, রাজশাহী বিভাগের আটজন, ময়মনসিংহ বিভাগের তিনজন, রংপুর বিভাগের একজন এবং বরিশাল বিভাগের দুইজন ছিলেন।

বরাবরের মতোই বুলেটিনে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়।

উল্লেখ্য, চীনের উহান থেকে করোনা গত ছয় মাসে বিশ্বের ২১৫টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। চীনে করোনার প্রভাব কমলেও বিশ্বের অন্য কয়েকটি দেশে মহামারি রূপ নিয়েছে। দেশে করোনা সংক্রমিত প্রথম রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। তার ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

করোনায় মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। উপসর্গগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মত।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে ডেকে আনতে পারে মৃত্যু।