এমএম সাহেব আলী, আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : আশাশুনির সীমান্তবর্তী চাম্পাফুলে এক প্রতারকের খপ্পরে পড়ে দেড় লক্ষাধিক টাকা খুইয়েছেন অসহায় এক মহিলাসহ অসংখ্য ব্যক্তি। স্থানীয় শালিসী বৈঠকে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে প্রতারনার বিষয়ে স্পষ্ট হওয়ার একপর্যায়ে প্রতারক শালিস প্রত্যাখান করে লাপাত্তা হয়।

শালিসদারদের লিখিত সিদ্ধান্তে জানাগেছে, আশাশুনি সীমান্তবর্তী চাম্পাফুলের মৃত বিপিন গাইনের পুত্র এলাকার চিহ্নিত প্রতারক পুলিন গাইন সময় অসময় বিভিন্ন অজুহাতে ও লাভের প্রলোভন দেখিয়ে পার্শবর্তী তারালী গ্রামের নূর ইসলাম গাজীর স্ত্রী সালেহা খাতুন সহ বিভিন্ন লোকের নিকট থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়।

কিন্তু টাকা ফেরৎ বা লাভের কোন খোজ না থাকায় ছালেহা খাতুন স্থানীয়ভাবে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিকট অভিযোগ করে। তার অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তি উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে গত ২৯ আগষ্ট এক সালিশ বৈঠক ডাকে।

উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে ও স্বাক্ষীদের বক্তব্যে পুলিন গাইন বিভিন্ন সময় ছালেহা খাতুনের নিকট থেকে লাভ ও বিভিন্ন রকম প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন তারিখে মোট ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা এবং ওই সালিশে উপস্থিত অন্যান্য ৩ জন ব্যক্তির নিকট থেকে ৫০ হাজার টাকা বিভিন্ন কায়দায় হাতিয়ে নেয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।

টাকা দিতে তালবাহানা করলে ভুক্তভোগীরা শালিস বৈঠকের ব্যবস্থা করে। উপস্থিত স্বাক্ষী ও উভয় পক্ষের বক্তব্যে প্রমান হয় প্রতারক পুলিন গাইন সালেহা খাতুনের নিকট থেকে ১ লক্ষ ৬০ হাজার ও অন্যান্যদের নিকট থেকে ৫০ হাজার টাকা বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে। বিষয়টি আচ করতে পেরে অহেতুক অজুহাতে শালিস বৈঠক ছেড়ে কৌশলে পুলিন গাইন লাপাত্তা হয়ে যায়।

পরে শালিসদাররা মুঠোফোনে তাকে সালিশে আসার আহবান জানালে পুলিন গাইন শালিসদারদের হাকিয়ে দিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে বলে জানাগেছে। এব্যাপারে ছালেহা খাতুন সহ ভুক্তভোগীরা প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শালিসী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি শেখ মনিরুল ইসলাম, আ’লীগ নেতা শেখ আলতাফ হোসেন, আবুল মোল্যা সহ কমপক্ষে ২০ জন গন্যমান্য ব্যক্তি।