মাহমুদুল হাসান শাওন, দেবহাটা : অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের ৭১ সদস্য বিশিষ্ট প্রস্তাবিত পূর্নাঙ্গ কমিটির তালিকা। গত ৮ সেপ্টেম্বর দেবহাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মুজিবর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির তালিকায় স্বাক্ষর পরবর্তী অনুমোদনের প্রস্তাবসহ সুপারিশ জানিয়ে  সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সাংসদ মুনসুর আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নজরুল ইসলামের কাছে প্রেরণ করেন।

এদিকে শুক্রবার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ ফারুক হোসেন রতন প্রস্তাবিত পূর্নাঙ্গ এ কমিটির তালিকা প্রকাশ করলে সেটি অনুমোদিত তালিকা ভেবে উপজেলাব্যাপী নেতাকর্মীদের মাঝে হৈ চৈ পড়ে যায়।

এরআগে বিগত বছরের ১লা ডিসেম্বর উৎসব মুখর পরিবেশে সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের অন্যতম উপদেষ্ঠা সাতক্ষীরা-০৩ আসনের সাংসদ অধ্যাপক ডা. আ.ফ.ম রুহুল হক এমপি, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনাঞ্চল) এসএম কামাল হোসেনসহ সাতক্ষীরা জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে দেবহাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন হয়।

ওই সম্মেলনে দেবহাটা উপজেলার ২৩১ জন কাউন্সিলর ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সেসময়ে ১০১ ভোট পেয়ে আলহাজ্ব মুজিবর রহমান পুনরায় সভাপতি এবং ১৪৫ ভোট পেয়ে মনিরুজ্জামান মনি পুনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

কিন্তু সম্মেলন পরবর্তী সময়ে দেশে মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রকোপ দেখা দিলে থমকে যায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রণয়ন ও অনুমোদনের কার্যক্রম। সর্বশেষ সম্মেলনের প্রায় ১১ মাস পর করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় এবং আসন্ন উপজেলা চেয়ারম্যান পদের উপ নির্বাচনকে সামনে রেখে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে ৮ সেপ্টেম্বর প্রণয়নকৃত প্রস্তাবিত তালিকায় স্বাক্ষরের মাধ্যমে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্নাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের আবেদন জানিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন মুজিবর রহমান ও মনিরুজ্জামান মনি।

এদিকে প্রস্তাবিত কমিটির তালিকা প্রকাশের পর নুতন করে প্রানচাঞ্চল্য ফিরেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে। ৭১ সদস্য বিশিষ্ট প্রস্তাবিত ওই কমিটির তালিকায় অন্যান্য যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন, সহ-সভাপতি বাবু শরৎ চন্দ্র ঘোষ, মোসলেহ উদ্দীন সরদার মুকুল, প্রফেসার আব্দুল কাদের মৃধা, আলহাজ্ব শহিদুল ইসলাম, দুলাল চন্দ্র ঘোষ, মধুসুদন সরকার, শেখ আব্দুর রউফ।

যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক, আজহারুল ইসলাম, শেখ মোনয়েম হোসেন। সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ ফারুক হোসেন রতন, আরশাদ আলী, মনিরুল ইসলাম। আইন বিষয়ক সম্পাদক অজয় কুমার ঘোষ, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক শরিফ বিশ্বাস, তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক প্রধান শিক্ষক আব্দুল জব্বার, দপ্তর সম্পাদক প্রভাষক শেখ শরিফুল ইসলাম, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সামছুদ্দোহা মোল্যা, প্রচার ও

প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রশিদ, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আশুতোষ সরদার, বিজ্ঞান ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সেলিম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা মিসেস রেহেনা আক্তার, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রফিক, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রউফ, শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক প্রভাষক আব্দুল গফ্ফার, শ্রম সম্পাদক হাফিজুর রহমান, সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মিহির কান্তি সরকার, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুল হক ফয়জুল, ত্রাণ ও সমাজ

কল্যান বিষয়ক সম্পাদক নওয়াব আলী, সহ-দপ্তর সম্পাদক ওয়াজেদ আলী, সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু সাইদ, কোষাধ্যক্ষ আনিছুর রহমান।  কমিটির কার্যকরী সদস্যরা হলেন সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ, আসাদুল হক, এ্যাড. ওসমান গনি, আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম, মৃনাল কান্তি হালদার, প্রভাষ চন্দ্র মন্ডল, শংকর অধিকারী, গোলাম রব্বানী, মিজানুর রহমান মিন্নুর, শরিফুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম, শাহিন উল্লাহ, আব্দুল করিম, আব্দুল খালেক পাড়, শম্ভুনাথ মন্ডল, শেখ রফিকুল বারী, আকবর আলী, আনোয়ারা পারভীন, আব্দুল আজিজ, আজমল হোসেন, আকদাস

হোসেন মন্টু, আফজাল হোসেন, বিলকিস পারভীন ময়না, মুক্তিযোদ্ধা ধীরেন সরকার, রবিউল ইসলাম, মোহন কর্মকার, হাসান সরদার। তবে অদ্যবধি উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সম্মেলন সম্পন্ন না হওয়ায় ইউনিয়ন গুলোর ১০জন সভাপতি ও সম্পাদকদের নাম শুণ্য রাখা হয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের বর্ষিয়ান নেতাদের মধ্য থেকে ১৫ জনকে উপদেষ্টা মন্ডলীতে রেখে ওই পূর্নাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

পূর্নাঙ্গ কমিটি প্রস্তাবিত ও সুপারিশকৃত তালিকা অনুমোদনের জন্য প্রেরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী আমরা নির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রস্তাবিত কমিটির তালিকা অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করে জেলায় পাঠিয়েছি, বর্তমানে ওই তালিকাটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।