আরিফুল ইসলাম আশা : সাতক্ষীরা ভোমরা স্থলবন্দর সংলগ্ন লক্ষীদাঁড়ি,গাজীপুর, পদ্মশাঁখরা, সীমান্ত এলাকায় মানব ও মাদক পাচারকারী চক্রগুলো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সীমান্তে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বিজিবির কড়া নজরদারি থাকা সত্ত্বেও সক্রিয় ভাবে মানব ও মাদক পাচার সহ বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মে নিয়োজিত রয়েছে তারা রাতদিন।

খোঁজ নিয়ে জানাযায়, লক্ষীদাঁড়ি বাবু মার্কেটের সামনে গোলাম রসুলের ছেলে জাইদুল, একই এলাকার গফফার এর ছেলে সাত্তার, সুবহানের ছেলে রশিদ,আরিজুল মোল্লার ছেলে রাজু ইসলাম, পদ্মশাঁখরা এলাকার ইবরাহীম, মাহমুদপুরের নাজমুল, শ্রীরামপুরের জিয়া,শাঁখরার মৃত জিয়াদের ছেলে হাবিবুল্লাহ একুই গ্রামের মৃত শহিদ গাজীর ছেলে রবিউল ইসলাম ও পুটে এরা সবাই চিহ্নিত মানব ও মাদক পাচারকারী। এছাড়াও তাদের নামে রয়েছে সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ডের বিস্তার অভিযোগ।

সীমান্তের ভোমার ও লক্ষীদাঁড়ি গ্রামের একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করে বলেন জাইদুল,রাজু,রশিদ পুটে,নাজমুল, নারী শিশুদের চোরাপথে ভারতে পাচার করে আসছে বহুদিন ধরে। এই এলাকার চোরা ঘাটগুলো তাদের দখলে। মাদক সহ বিভিন্ন অবৈধ মালামাল সীমান্ত পারাপার করাটাই তাদের প্রধান পেশা। নারী শিশুদের সীমান্ত পারাপারের সময় ধর্ষণ, শীলতাহানি,জিম্মি করে অর্থ আদায় করার অভিযোগ ও রয়েছে তাদের নামে।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার আঞ্চলিক দৈনিক কালের চিত্র পত্রিকায় “ভোমরা সীমান্তে ভারত থেকে ফেরার সময় পাচারকারীদের হাতে গৃহবধূ ধর্ষণ” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেই সংবাদে উল্লেখ করা হয় তিন মাস ভারতের চিকিৎসা শেষে স্বামী-স্ত্রী দেশে ফেরার সময় খুলনার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের গৃহবধু নারী পাচারকারীদের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

এ ঘটনায় প্রথমে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিলেও পরে পরিবারের মান-সম্মান এর কথা ভেবে মামলা না করার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও বিফল হয় ওই নারী পাচারকারি চক্রটি। সংবাদে আরও প্রকাশিত হয় গত ৬ সেপ্টেম্বর রাত তিনটার দিকে ভারতীয় চোরাঘাট মালিকরা ওই গৃহবধূ ও তার স্বামীকে লক্ষ্মীদাঁড়ী সীমান্তে রাজুর কাছে পাঠিয়ে দেয়।

এসময় রাজু ও তার সহযোগী পাচারকারী পদ্মশাখরা গ্রামের মৃত জিয়াদ আলীর ছেলে হাবিবুল্লাহ, একই গ্রামের মৃত শহীদ গাজীর ছেলে রবিউল ইসলাম, লক্ষ্মীদাড়ি গ্রামের গোলাম রসুলের ছেলে জাইদুল ওই গৃহবধূর স্বামীকে বেদম মারপিট করে গাছের সাথে বেধে রাখে। তারপর ওই গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে তারা। বিষয়টি এলাকার লোকজন দেখে ফেলে কিন্তু তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।

সে সময় এই সংঘবদ্ধচক্র টির বিরুদ্ধে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলেও বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোন পক্ষ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা না নেওয়াই সীমান্ত এলাকায় আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ওই মানব ও মাদক পাচারকারী চক্রটি।