চট্টগ্রাম, ২৫ আশ্বিন (১০ অক্টোবর) : তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, জনগণ বর্তমান সরকারকে টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় বসিয়েছে। কাজেই বর্তমান সরকারকে আর সময় দেওয়া যায়না বলে বিএনপি মহাসচিব যে বক্তব্য দিয়েছেন তা মুখ্য বিষয় নয়।

তিনি বলেন, শুধু আজকে নয়, সরকার গঠনের তিনমাস পর থেকে সরকারকে সময় দেওয়া যাবেনা বলে বিএনপি লাগামহীন কর্থা-বার্তা বলে আসছে। প্রকৃতপক্ষে তাদের বক্তব্যের চেয়ে জনগণ সরকারকে সময় দিচ্ছে কিনা তা-ই আসল বিষয়।

তিনি আজ চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রাম অঞ্চলের কর্মকর্তাদের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি-এপিএ ২০২০-২১ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ নির্যাতন চালিয়েছে। তাদের গুন্ডা বাহিনীর হাত থেকে আট বছর থেকে ষাট বছর বয়স্ক নারীরাও রেহাই পায়নি। কাজেই তাদের এসব লাগামহীন কর্থা-বার্তা মানুষ বিশ^াষ করেনা।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ঘটে যাওয়া সব ধর্ষণ নির্যাতনের বিচার করেছে। বর্তমানের আলোচিত ধর্ষন নির্যাতনেরও সুষ্ঠু ও উপযুক্ত বিচার হবে। ইতোমধ্যে নির্যাতনের সাথে জড়িত বেশিরভাগ অপরাধীকে ধরা হয়েছে।

নোয়াখালীর আলোচিত ধর্ষণ নির্যাতনের ঘটনা সামাজিক যোগাগোগের মাধ্যমে সকলের সামনে উম্মুক্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্ষণ নির্যাতনের মতো ঘটনা আগেও ঘটতো। কিন্তু তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রচলন ছিলনা বলে সেসব সামনে আসেনি। অপরাধ প্রকাশ এবং অপরাধী চিহ্নিত করতে এটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভাল দিক বলে তিনি উল্লেখ করেন।

চাকুরি ও বেতনের নিশ্চয়তা বিষয়ে সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমকর্মী আইন এবং সম্প্রচার আইন প্রণয়নের কাজ চলছে। এ আইন পাশ হলে সকল স্তরের গণমাধ্যম কর্মীর চাকুরি ও বেতনের নিশ্চয়তা সুরক্ষিত হবে।

এ আইন প্রণয়নের সাথে অন্যান্য বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ জড়িত উল্লেখ করে তিনি বলেন, যত দ্রæত সম্ভব এ আইন পাশ করা হবে।

এর আগে তিনি বাংলাদেশ বেতারের এপিএ প্রশিক্ষণ কর্মশালা উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী বক্তৃতায় তিনি পাকিস্তানী কর্মকর্তাদের নিষেধ অমান্য করে ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ ধারণ ও প্রচার এবং বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারের মতো বাংলাদেশ বেতারের অতীত গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, জাতীয় দুর্যোগ দূর্বিপাকে এখনো বাংলাদেশ বেতার মানুষের অন্যতম ভরসার স্থল। সরকারি এ গণমাধ্যম থেকে মানুষ গভীর সমুদ্রে বা গহীন অরণ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছাতে পারে।

বাংলাদেশ বেতারের কৃষিভিত্তিক অনুষ্ঠানের ব্যাপক চাহিদার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাস্তব প্রয়োজনভিত্তিক মানসম্মত অনুষ্ঠান নির্মাণ ও প্রচার করতে হবে। মেধা মনন ও সৃষ্টিশীলতার বিকাশ ঘটানোর পাশাপাশি তরুন প্রজন্ম আশাবাদী হতে পারে এমন অনুষ্ঠান প্রচার করতে হবে। তরুন প্রজন্মকে দেশাত্মবোধের চেতনায় জাগ্রত করে – এমন অনুষ্ঠান বানাতে হবে।

বাংলাদেশ বেতারের অনুষ্ঠান বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট এপস ডাউনলোড করে টাইম শেয়ারিং এর মাধ্যমে বিভাগীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠান দেশব্যাপী সম্প্রচারের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ টেলিভিশনেও এ ব্যবস্থা চালু করা হবে। ফলে এক অঞ্চলের অনুষ্ঠান অন্য অঞ্চলের মানুষ দেখতে ও শুনতে পারবে এবং সবাই উপকৃত হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ, বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক হোসনে আরা তালুকদার, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিচালক এস এম আবুল হোসেন বক্তৃতা করেন।

কর্মশালায় বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রাম, কালুরঘাট, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান কেন্দ্রের ৪০ জন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা অংশ নেন।