শেখ আরিফুল ইসলাম আশা : সাতক্ষীরার কলারোয়ায় সংঘটিত কয়েকটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের একটিরও বিচার পায়নি নিহতের স্বজনরা। সর্বশেষ গত ১৪ অক্টোবর গভীর রাতে একই পরিবারের ৪ খুনের ঘটনার বিচার হবে কি হবে না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছে ওই এলাকার সাধারণ মানুষ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০০ সালের ২ মার্চ তারিখে কলারোয়ার এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের কলেজ ভেন্যুতে ৪টি তরতাজা প্রান ঝরে যায়। তদন্তে এ ঘটনাকে দুর্ঘটনা বলা হলেও পরিকল্পিতভাবে এ হত্যার ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে সে সময়।

নিহতদের মধ্যে ছিলেন কলারোয়ার হঠাৎগঞ্জ হাইস্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী কেড়াগাছি গ্রামের শামসুন্নাহার লিপি, যুগিখালী হাইস্কুলের শিক্ষিকা ফজিলাতুন্নেসা এবং সাবেক কলেজ ছাত্র হাবিবুর রহমান ও মামুনুর রশীদ। শেষোক্ত দুইজন তাদের স্বজন পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা হলে পৌছে দিতে এসেছিলেন।

পরীক্ষা চলাকালে কলেজ ক্যাম্পাসের চারপাশে ১৪৪ ধারা জারির কোন নির্দেশ না থাকায় বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থী কেন্দ্রের কলেজ ভেন্যুতে হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ে। এসময় হইহট্টগোলের সৃষ্টি হলে রেলিং বেয়ে ছাদে উঠে পুলিশ হুইসেল দেয়। এরই মধ্যে কে বা কারা নিচের কলাপসিবল গেট আটকে দেয়।

এসময় প্রচন্ড ভীড়ের মধ্যে শিক্ষিকা ও পরীক্ষার্থীর ছাত্রীরা অপমানজনক অবস্থার শিকার হন। ভীড়ের চাপে ৪ জন পদদলিত হয়ে প্রান হারান। এ ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত এ মামলা খারিজ হয়ে যায়। তার আগে পুনঃতদন্তে সিআইডি ১৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করে আদালতে।

এদিকে ২০১৫ সালের ১৫ জুলাই রাতে কলারোয়ার সোনালী ব্যাংকে দুই নৈশপ্রহরীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। দুই নৈশ প্রহরীরা হলেন উপজেলার ঝাঁপাঘাট গ্রামের আব্দুল কাইয়ুমের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন (৩০) ও সদর উপজেলার হরিসপুর গ্রামের আনারুল ইসলামের ছেলে আসাদুজ্জামান রিপন (৩২)।

সে দিনের এ হত্যার ঘটনায় তৎকালীন ব্যাংক ম্যানেজার মনতোস সরকার বাদী হয়ে কলারোয়া থানায় অজ্ঞত ব্যক্তিদের নামে একটি হত্যা মামলা নং (১৮) ১৫/৭/২০১৫ দায়ের করেন। এই জোড়াখুন মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় সিআইডির ওপর। সেটি এখনও শেষ নামেনি।

অন্যদিকে ১৯৬৫ সালে কলারোয়ার বোয়ালিয়া গ্রামে একই পরিবারের গৃহকর্তা মোসলেম উদ্দিন, তার স্ত্রী এবং ছেলেমেয়ে সহ ৫ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ নিহতের বাবা মোহাম্মদ আলী ও মাকে গ্রেফতার করে। পরে তারা ছাড়া পেয়ে যান। এই ৫ খুনেরও বিচার হয়নি এখনও।

সর্বশেষ ১৪ অক্টোবর কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের খলিসা গ্রামে একই পরিবারের স্বামী স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে সহ চার জনকে জবাই করে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। বৃহস্পতিবার ভোররাতে কোন একসময় এই ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- মাছের ঘের ব্যবসায়ী মোঃ শাহীনুর রহমান(৪০) তার স্ত্রী সাবিনা খাতুন(৩০), ছেলে সিয়াম হোসেন মাহী(৯) ও মেয়ে তাসমিন সুলতানা(৬)। খুনীদের কবল থেকে রক্ষা পেয়ে যায় সাড়ে ৪ মাসের শিশু মারিয়া। এই হত্যা মামলায় নিহত শাহীনুরের ভাই রায়হানুলকে সিআইডি পুলিশ ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

এখন পর্যন্ত অন্য কোন আসামী ধরা পড়েনি। এই হত্যারও বিচার হবে কি হবে না তা নিয়ে কৌতুহলী হয়ে উঠেছেন এলাকাবাসীরা।