অনলাইন ডেস্ক : অবৈধ অস্ত্র ও মাদক রাখার দায়ে সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম এবং তার দেহরক্ষী মোহাম্মদ জাহিদকে এক বছর করে কারাদন্ড দিয়েছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা নাগাদ পুরান ঢাকার সোয়ারিঘাটে হাজী সেলিমের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ওই দুজনকে গ্রেফতারের পর এই দন্ড দেয়া হয়।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্ণেল আশিক বিল্লাহ বাসসকে বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই দন্ডের পাশাপাশি দুজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটি মামলা দায়ের করা হবে।

ইরফান ও তার সহযোগীদের হাতে নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা মারধরের শিকার হওয়ার জের ধরে বেলা ১২টার দিকে সোয়ারিঘাটের দেবদাস লেনে হাজী সেলিমের বাড়ি ঘেরাও করে অভিযান শুরু করে র‌্যাব। অভিযানে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমও উপস্থিত ছিলেন।

র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক আশিক বিল্লাহ বলেন, অভিযানে ওই বাড়িন দুই ফ্লোর থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি, একটি এয়ারগান, ৩৭টি ওয়াকিটকি, একটি হাতকড়া এবং বিদেশি মদ ও বিয়ার পাওয়া গেছে। আগ্নেয়াস্ত্রের কোনো লাইসেন্স পাওয়া যায়নি। আর ওয়াকিটকিগুলোও অবৈধ।

রোববার রাতে ধানমন্ডি এলাকায় হাজী সেলিমের গাড়ি থেকে নেমে নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় সোমবার একটি মামলা দায়ের করা হয় রাজধানীর ধানমন্ডি থানায়।

ওই মামলায় ইরফান সেলিম ছাড়াও এবি সিদ্দিক দিপু, মোহাম্মদ জাহিদ ও মিজানুর রহমানের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরও তিনজনকে আসামি করা হয়।

মামলার বাদী নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমেদ খান তাদের বিরুদ্ধে মারধর, জখম ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ এনেছেন।

মামলা হওয়ার পরপরই গাড়ি চালক মিজানুর রহমানকে পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।