জি এম আমিনুল হক : রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে।সবার মনে আজ ইদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় শতভাগ মানুষের ঈদের বাজারসহ নতুন পোশাক কেনাকাটা শেষ। তবে কিছু মানুষের মনে নেই ইদের আনন্দ। প্রয়াত কোটিপতির এতিম শিশু কন্যা হুমায়রা আফিয়া রুহি নামের ১০বছর বয়সী এই শিশু মেয়েটির এবারের ঈদেও জুটলো না নতুন পোশাক, নেই ইদের আনন্দ, হতাশা আর অজানা শংকায় দিন কাটছে এতিম শিশু কন্যা রুহির।

হুমাইরা আফিয়া রুহি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ি ইউনিয়নের প্রয়াত কোটিপতি পিত ও সাবেক এমপি হাবিবুর রহমান হাবিবের ঠিকাদারি পার্টনার এম,এ,কে হেলাল উদ্দিনের একমাত্র মেয়ে‌। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ২০১৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসারত অবস্থায় হুমাইরা আফিয়া রুহির কোটিপতি পিতা মৃত্যুবরণ করেন। তখন রুহির বয়স মাত্র ৫ বছর। পিতার মৃত্যুর আগ থেকেই সাতক্ষীরা শহরের মুঞ্জিতপুর নাজমুল হুদার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন রুহির পরিবার । রুহি বর্তমানে সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী।

রুহির পিতার মৃত্যুর পর থেকে রুহির মা সাহিদা আনসারী রুমি শিশু কন্যা সন্তান কে নিয়ে শ্বশুরবাড়ির অধিকার আদায়ের জন্য পথে পথে ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে তাদের। আজ ২৯শে মার্চ শনিবার সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর বাজারে অবস্থিত বি,ডি,এফ প্রেসক্লাবে সকাল ১১ টার সময় হাজির হন এতিম শিশু সন্তান কে নিয়ে তার মা সাহিদা আনসারী রুমি। স্থানীয় সাংবাদিকদের কে পেয়ে রুহির মা জানান- আমার স্বামীর সাতক্ষীরা ও ঢাকায় বসত বাড়ি আছে। তাছাড়াও গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়ন ফয়জুল্যাপুর গ্রামে বসতভিটা সহ স্বামীর ভাগে ৩৫ বিঘার উপরে সম্পত্তি আছে । এই সমস্ত সম্পত্তি থাকতেও আমাকে ও আমার এতিম শিশুকে পথে পথে ঘুরতে হচ্ছে। আমরা খুব অসহায় ভাবে জীবন যাপন করছি।

আমি এখন যে ভাড়া বাড়িতে থাকি তার প্রতিমাসে ৫২০০/- টাকা ভাড়া দিতে হয়।এই মেয়েটির পড়াশোনার খরচ চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অর্থাভাবে মেয়েটির লেখা পড়া বন্ধ হওয়ার পথে।অথচ তার দেবর এস এম নাসিরউদ্দিন লিটন স্থাবর অস্থাবর সমুদয় সম্পত্তি জোরপূর্বক জবরদখল করে রেখেছে।

তিনি আরও জানান-আমার স্বামী গত ইং ০৪/০২/২০১৯ তারিখে মৃত্যু বরণ করেন। আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে আমার একমাত্র দেবর এস এম নাসিরউদ্দিন লিটন গ্রামের মেম্বার সাইদ মোল্যার যোগসাজশে আমার স্বামীর যাবতীয় স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি জোরপূর্বক জবরদখল করে আমাদেরকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে একের পর এক মিথ্যে মামলা দিয়ে নানাভাবে ষড়যন্ত্র করায় আমার একমাত্র এতিম কন্যাকে নিয়ে অনাহারে ও অর্ধাহারে মানবেতার জীবনযাপন করছি। পৈতৃক সূত্রে আমার স্বামীর প্রাপ্ত সমুদয় সম্পত্তিসহ এম একে হেলালউদ্দিনের ক্রয়কৃত সমূদয় অর্থাৎ প্রায় ৩০থেকে ৩৫ বিঘা জমিসহ যাবতীয় স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আত্মসাৎ করার পায়তারা করে আসছে।

আমার দেবর এসব সম্পত্তি আমাদের না দিয়ে জোরপূর্বক জবরদখল করে রেখেছে। বিষয়টি নিয়ে ফয়জুল্যাপুর গ্রামের বিভিন্ন লোকজন বারবার সমাধান করার চেষ্টা করেও আমার দেবর নাসিরউদ্দিনের ষড়যন্ত্রে সবকিছু ব্যর্থ হয়ে যায়। ফলে আমি আমার এতিম শিশুকন্যাকে নিয়ে বছরের পর বছর ন্যায় বিচারের আশায় আদালতের বারান্দাসহ বিভিন্ন জায়গায় ধর্ণা দিয়ে বেড়াচ্ছি।আমার স্বামী মৃত্যুর আগে অসুস্থ অবস্থায় আমি ও আমার শিশু কন্যাকে গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ আবদুল করিম, মোঃ আব্দুল কাদের মোল্লা,সাবেক মেম্বার শফিকুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজনকে দেখে রাখার জন্য বলে যান

।সেকারণে আমার স্বামীর মৃত্যুর পর আমার সম্পত্তির ভাগ না দেওয়ায় গ্রামের কয়েকজন লোক প্রতিবাদ করলে আমার দেবর নাসির উদ্দিন গ্রামের এসব লোকজনদের বিরুদ্ধে নানান ষড়যন্ত্র করতে থাকে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কেউ আমার পক্ষ নিলে আমার দেবর তাদের নামে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে। তার অব্যাহত একের পর এক মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির কারণে আমরা আজ দিশেহারা হয়ে পড়েছি।

লিটনের ষড়যন্ত্রের শিকার হওয়া অসংখ্য পরিবারে আজ নেই কোন ইদের আনন্দ। আজ কোটিপতি সরকারি প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার ও সাবেক এমপি হাবিবুর রহমান হাবিবের ঠিকাদারি পার্টনার প্রয়াত এম এ কে হেলাল উদ্দিনের একমাত্র এতিম শিশু কন্যা হুমায়রা আফিয়া রুহির এবারের ইদেও একটি নতুন পোষাক পরার সৌভাগ্য হলো না। এটা একজন কোটিপতির বিধবা স্ত্রী ও এতিম কন্যার মায়ের জন্য কতটা কষ্টের তা কেবল একজন ভুক্তভোগী মা জানে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *