বিশেষ প্রতিনিধি : পৌষের হাড়কাঁপানো শীতে প্রকৃতি এখন জবুথবু। উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল হাওয়া যেন ধারালো ছুরির মতো বিঁধছে শরীরে। সাতক্ষীরাসহ সারা দেশেই এখন শীতের তীব্র কামড়। ধোঁয়া ওঠা কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে জনপদ, আর সেই কুয়াশাভেজা ভোরে সবথেকে বেশি বিপন্ন হয়ে পড়েছে শহরের বস্তিবাসী ও ছিন্নমূল মানুষ। শীতের এই নিষ্ঠুর প্রহরে অভাবী মানুষের পাশে উষ্ণতার পরশ নিয়ে দাঁড়িয়েছে এসএসসি-৯২ ব্যাচের বন্ধুদের সংগঠন ‘আস্থা থাকুক বন্ধুতায়’।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) দিনভর বাতাস ছিল বরফশীতল। এমন বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই সাতক্ষীরা জেলা শহরের বিভিন্ন বস্তি ও ফুটপাতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসহায় মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন সংগঠনটির সদস্যরা। ‘আস্থা থাকুক বন্ধুতায়’ ঢাকা ইউনিটের অ্যাডমিন আব্দুল্লাহ আল মামুন ও অ্যাডমিন প্যানেলের সুচারু ব্যবস্থাপনায় এই মানবিক উদ্যোগ সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

বিগত কয়েকদিন ধরেই সাতক্ষীরার তাপমাত্রা নিম্নমুখী। খোলা আকাশের নিচে বা জীর্ণ কুটিরে যাঁদের বাস, তাঁদের জন্য এই রাতগুলো হয়ে দাঁড়িয়েছে এক একটি দুঃস্বপ্ন। সেই দুঃস্বপ্ন তাড়াতেই মাঠে নেমেছেন এসএসসি-৯২ ব্যাচের বন্ধুরা। সাতক্ষীরায় এই বিতরণ কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নেন অধ্যাপক তপন কুমার শীল, অধ্যাপক আল মামুন রেজা ও আব্দুল মাজেদ। কম্বল হাতে পেয়ে ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধা আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, “বাপরে, আইজ রাইতে মনে হয় একটু শান্তিতে ঘুমাইতে পারমু। বাতাসে হাড় কাইপ্যা যাচ্ছিল।”

আয়োজকরা জানান, এসএসসি-৯২ ব্যাচের এই বন্ধুরা বিশ্বাস করেনÑসম্পর্কের নামই যদি হয় ‘বন্ধুত্ব’, তবে সেই বন্ধুত্বের হাত শুধু নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ছড়িয়ে দিতে হবে আর্তমানবতার সেবায়। “আস্থা থাকুক বন্ধুতায়” কেবল একটি স্লোগান নয়, বরং বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক অঙ্গীকার। ঢাকা থেকে আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, দেশের এই তীব্র শৈত্যপ্রবাহে ছিন্নমূল মানুষের কষ্ট লাঘব করতে তাঁদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। বন্ধুরা মিলে সমাজের প্রতি নিজেদের দায়বদ্ধতা থেকেই এই উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রকৃতির বৈরিতা হয়তো আরও কদিন থাকবে, কিন্তু মানুষের প্রতি মানুষের এই যে মমত্ববোধ—তা সাতক্ষীরার এই হিমেল হাওয়ায় এক চিলতে বসন্তের উষ্ণতা ছড়িয়ে দিয়ে গেল।##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *