নিজস্ব প্রতিনিধি : জেলার নবাগত পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম বলেছেন- সাতক্ষীরার উন্নয়নে পুলিশ-পাবলিক-প্রেস এই তিনের সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই তিনের সমন্বয় ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। পুলিশ জনগণের জন্য কাজ করে আর প্রেস পুলিশ ও জনগণের মাঝে সেতুবন্ধন তৈরি করে। সমাজ থেকে অপরাধ দূর করতে এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও সাংবাদিকদের মধ্যে সুসম্পর্ক ও সমন্বয় থাকা জরুরি।

শনিবার (১৬ মে) সকালে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের আয়োজনে পুলিশ লাইন্সের ড্রিলশেডে অনুষ্ঠিত নবাগত পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম জেলার কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভায় উপরোক্ত কথা বলেন।

পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম বলেন- সাংবাদিকদের চোখে আমরা পৃথিবী দেখি। তাই পুলিশ-পাবলিক-প্রেস এই তিনটি স্তম্ভের সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়নে সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশের দরজা সাধারণ মানুষের জন্য সবসময় খোলা থাকবে। আমরা চাই সাতক্ষীরাকে একটি নিরাপদ, শান্তিময় ও অপরাধমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে। সাতক্ষীরার ২৩ লাখ মানুষের শান্তির মঞ্জিল হিসেবে এই জেলাকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।

পুলিশ সুপার বলেন, আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে নাগরিকদের নির্বিঘ্ন, নিরাপদ, আরামদায়ক ও স্বস্তিদায়কভাবে ঈদ উদযাপন নিশ্চিত করতে সাতক্ষীরা পুলিশ বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সাদা পোশাকে বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা মাঠে কাজ করবেন এবং জেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি বাড়ানো হবে।

নবাগত আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম বলেন, অপরাধীর কোনো পরিচয় নেই। পুলিশ বিভাগের কেউ অপরাধে জড়ালেও পোশাক দেখে নয়, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সমাজে যেন কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে না পারে, কোনো চাঁদাবাজ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেটি নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চভাবে কাজ করবে।

তরুণ ও শিশুদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘আজকের শিশুরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তারা যদি বিপথে যায়, সেটি শুধু পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্য অশনিসংকেত। আমিও একজন মানুষ। এখানে যতদিন দায়িত্বে থাকবো, ততদিন এই জেলার মানুষের নিরাপত্তা ও শান্তির জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের অগ্রাধিকার। সমাজে কোনো বিশৃঙ্খলা, চাঁদাবাজি কিংবা অপরাধ সংঘটিত না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে।

সভায় সাংবাদিকরা সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরার নানা সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, অনলাইন জুয়া, চুরি, ডাকাতি, খুন, নারী ও শিশু পাচার, কাউন্টার মামলা, হয়রানিমূলক মামলা, মামলার তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতা, তদন্তে দুর্বলতা, পুলিশের কাছ থেকে সময়মতো তথ্য না পাওয়া, থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া, জেল পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়া, ভূমিদস্যু, বনদস্যু, সীমান্তে পাচার ও পাচারকারীদের আইনের আওতায় না আসা এবং ট্রাফিক সেবার দুর্বলতাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত সাতক্ষীরা জেলা।

সাংবাদিকরা এসব সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর সমাধানের দাবি জানান। পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের বক্তব্য মনোযোগসহকারে শোনেন এবং সকলের সহযোগিতায় সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন।

সভায় মূলত তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়- ১. জেলার ট্রাফিক ব্যবস্থা ও নাগরিক জীবনে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি, ২. সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় টহল জোরদার ও দ্রুত অপরাধী শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা ও ৩. প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে একটি প্রগতিশীল জেলা গড়ে তোলা।

সভায় বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, আবুল কাশেম, আসাদুজ্জামান, মমতাজ আহমেদ বাপি, এম কামরুজ্জামান, আশেক ই এলাহী, আব্দুল ওয়ারেশ খান চৌধুরী, রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী, বরুণ ব্যানার্জি, আবু তালেব, আবুল কালাম, গাজী ফরহাদ, আব্দুস সামাদ, এসএম বিপ্লব হোসেন ও আবু সাইদ প্রমুখ। এ সময় জেলায় কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকাল ১০টায় সাংবাদিকদের অপর একটি পক্ষের সাথেও মতবিনিময় করেন পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম। এ মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এস এম রাজু আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মিথুন সরকার, ডিআই-১ আব্দুল আলিম, সিনিয়র সাংবাদিক জি এম মনিরুল ইসলাম মিনি, আবু সাইদ বিশ্বাস, জিলুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জ্বল, মো. আমিরুজ্জামান বাবু, কালিদাস রায় ও হাসানুর রহমান প্রমুখ।

সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, অনলাইন জুয়া, নারী ও শিশু পাচার, সাইবার অপরাধ, ভূমিদস্যুতা ও বনদস্যুতা প্রতিরোধ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ঈদ নিরাপত্তা ও জনগণের আস্থা অর্জনে পুলিশি কার্যক্রমসহ সাংবাদিকদের সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় উঠে আসে।

সভা শেষে নবাগত পুলিশ সুপার জেলার সকল গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানান এবং আগামী দিনে সাতক্ষীরার উন্নয়ন, শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *