গাজী হাবিব : সাতক্ষীরায় জেলা ক্রীড়া সংস্থার নবগঠিত অ্যাডহক কমিটিকে সংবর্ধনা এবং জেলার বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন ও ক্লাব প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বক্তারা জেলার ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়ন, খেলাধুলার বিস্তার এবং তরুণ প্রজন্মকে মাঠমুখী করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে তরুণদের দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। এজন্য ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন, ক্রীড়া সংগঠক এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের একযোগে কাজ করতে হবে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ১১টায় সাতক্ষীরা জেলা স্টেডিয়ামের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি মিজ কাউসার আজিজ। এসময় তিনি বলেন, একটি জেলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশে খেলাধুলার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে নিয়মিত ক্রীড়া চর্চা নিশ্চিত করতে হবে। জেলার ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও প্রাণবন্ত করে তোলার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
সভায় সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব। তিনি বলেন, সাতক্ষীরায় খেলাধুলার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন। জেলার প্রতিটি উপজেলায় ক্রীড়া কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে তাদের প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহবায়ক এইচ এম রহমাতুল্লাহ পলাশ বলেন, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি একটি সুস্থ সমাজ গঠনের অন্যতম হাতিয়ার। তরুণদের মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার চর্চা বাড়ানোর বিকল্প নেই। এজন্য জেলার ক্রীড়া সংগঠনগুলোকে আরও সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু বলেন, নবগঠিত অ্যাডহক কমিটি জেলার ক্রীড়াঙ্গনকে গতিশীল করতে কাজ করবে। দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মাঠ, প্রশিক্ষণ সুবিধা ও খেলোয়াড়দের উন্নয়নে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণের কথাও জানান তিনি।
সভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক এস এম রফিকুল ইসলাম এবং সহকারী কমিশনার সাহেদ হোসেন। বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণদের মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাপনের কারণে মাঠভিত্তিক কর্মকাণ্ড কমে যাচ্ছে। এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আনতে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং নিয়মিত প্রতিযোগিতার আয়োজন প্রয়োজন।
মতবিনিময় পর্বে জেলার বিভিন্ন ক্লাব ও ক্রীড়া সংগঠনের প্রতিনিধিরা মাঠের সংকট, প্রশিক্ষণের অভাব, ক্রীড়া সামগ্রীর স্বল্পতা, প্রতিযোগিতা আয়োজনের সীমাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি জেলার ক্রীড়া উন্নয়নে সম্ভাবনা ও করণীয় সম্পর্কেও তারা মতামত দেন। বক্তারা স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত টুর্নামেন্ট আয়োজন, স্কুল-কলেজভিত্তিক ক্রীড়া কার্যক্রম জোরদার এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানান।
নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির সদস্যরা জেলার ক্রীড়া উন্নয়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তারা বলেন, ক্রীড়াঙ্গনের সকল অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে জেলার খেলাধুলাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা মো. হাবিবুর রহমান হাবিব, মীর তাজুল ইসলাম রিপন, গোলাম ফারুক বাবু, মো. কামরুজ্জামান রাসেল, আ ম আখতারুজ্জামান মুকুল, শফিকুল আলম বাবু, খন্দকার আরিফ হাসান প্রিন্স, ইকবাল কবির খান বাপ্পি, শেখ মাসুদ আলী প্রমুখ।
এ সময় জেলা ক্রীড়া সংস্থার অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন ক্লাব ও ক্রীড়া সংগঠনের প্রতিনিধি, নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির সদস্য, ক্রীড়া সংগঠক, সাবেক খেলোয়াড় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক সঞ্চালনা করেন জেলা ক্রীড়া অফিসার মো. মাহবুবুর রহমান।







