নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় দাবীকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে রাতের অন্ধকারে এলাকাবাসীর চলাচলের রাস্তা ও সংলগ্ন সীমানা প্রাচীর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একদল দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি সাতক্ষীরার রসুলপুর পশ্চিমপাড়া অর্থ্যাৎ সাতক্ষীরা সিটি কলেজের বিপরীতে রসুলপুর এলাকায় ঘটেছে। গত তিন দিন ধরে রাতের আঁধারে ধাপে ধাপে প্রাচীরটি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। বর্তমানে প্রাচীর ভাঙা ইট ও ধ্বংসাবশেষ ফেলে রাস্তাটি বন্ধ করে রাখায় চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রসুলপুর পশ্চিমপাড়ায় প্রবেশের মূল রাস্তাটি আগে ছিল মাত্র ৫ ফুট চওড়া। অপ্রশস্ত হওয়ায় সেখানে অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার সার্ভিসের মতো জরুরি যানবাহন ঢুকতে পারত না। পরবর্তীতে সরকারি নকশা ও রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২১৪ নম্বর দাগের খাস খতিয়ানভুক্ত একটি ৮ ফুট চওড়া রাস্তা সরকারি একটি মুরগির খামারের সীমানা প্রাচীরের ভেতরে পড়েছিল।
এ বিষয়ে তৎকালীন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একাধিকবার আবেদন করেও আশানুরূপ কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।
গত ৫ই আগস্টের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে প্রায় ৩ লাখ টাকা খরচে মুরগির খামারের সীমানা প্রাচীরটি নতুন করে পুনর্নির্মাণ করে ৮ ফুট রাস্তা বের করে নেয়। সে সময় প্রশাসন ও খামার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানও হয় বলে জানান স্থানীয়রা ।
কিন্তু অতি সম্প্রতি স্থানীয় আলমগীরের ছেলে রুহুল আমিনের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এলাকাবাসীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তাদের যুক্তি- রাস্তা প্রশস্ত হওয়ায় এলাকার জমি ও বাড়িঘরের দাম বেড়েছে, তাই চাঁদা দিতে হবে। এলাকাবাসী এই অন্যায্য দাবি প্রত্যাখ্যান করলে তাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও জীবননাশের ভয়ভীতি দেখানো হয়।
চাঁদা না পেয়ে চক্রটি প্রথমে ৪০০ ফুট দীর্ঘ প্রাচীরের ৪টি পয়েন্ট ভেঙে ফেলে। এরপর রাতের আঁধারে পুরো প্রাচীরটি আগাগোড়া ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই চক্রটির পেছনে রানৈতিক দলের কতিপয় পথভ্রষ্ট ব্যক্তির ইন্ধন রয়েছে।
জেলা সরকারি মুরগির খামারের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা অনয় কুমার রায় বলেন, আমি ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি।
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে এবং এলাকাবাসী অবিলম্বে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান দাবি করছেন।
এলাকাবাসী জানান, আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি চাই না। প্রশাসন দ্রুত সরজমিনে তদন্ত করে আমাদের রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করুন।







