নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় এক স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় বাঁধা দেওয়ায় মা’কে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষ। গত সোমবার (৬ অক্টোবর) বিকালে সদরের দহাকুলা গ্রামে এঘটনা ঘটে।

এঘটনায় ওই মেয়ের মা দহাকুলা গ্রামের মীর মাহমুদুল্লাহর স্ত্রী মাছাঃ হালিমা বেগম জানান, পার্শ্ববর্তী এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে শরীফ হাসন (২০) দীর্ঘদিন আমার নাবালিকা মেয়েকে উত্যক্ত করে আসছে। আমার মেয়ে সাতক্ষীরা নবারুন উচ্চবালিকা বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেনীতে লেখাপড়া করে। স্কুলে যাতায়াতের পথে আজেবাজে কথা বলে, প্রেমর সম্পর্ক করে এবং নানা ভাবে কন্যাকে বিরক্ত করে।

এরি ধারাবাহিকতায় গতকাল বিকেলে আমার মেয়ে প্রাইভট পড়তে বাড়ি থেকে বেরহয়ে রাস্তায় আসলে বখাটে শরীফ হাসন ও তার ভাই আল আমিন হাসন তাকে জোরজবরদস্তি করে ইজিবাইকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় আসপাশের লোকজন দেখে তাদের বাঁধাদেয় ও আমার মেয়েকে রক্ষা করে।

এ’খবর শুনে আমি সেখানে উপস্থিত হয়ে মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে যাতে চাইলে ওই বখাটে সন্ত্রাসীরা দহাকুলা চাষাপাড়া এলাকার শহিদুল ইসলামের দুই ছেলে শরীফ হাসন, মাঃ আল আমিন হাসন ও তাদের সঙ্গে থাকা শহিদুল ইসলাম ও তার ছেলে ইমান আলীসহ আরও ৩-৪ জন দেশীয় অস্ত্র বাঁশের লাঠি, লোহার রড, শাবল নিয়ে আমার উপরে অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় তারা লোহার রডদিয়ে আমার মাথায় আঘাত করে এবং শরিরের বিভিন্ন স্থানে লাঠিদিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে। তারা আমার গলায় থাকা ১২ আনা ওজনের একটি সোনার চেইন ছিনিয়ে নিয়েছে।

এসময় মেয়েকে উদ্ধার করা ব্যাক্তিরা আমাকেও তাদের হাত থেকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। আমি মারাত্মক আহত অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছি।

এবিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় আমার মেয়েকে উত্যক্তকারী ও আমার উপর হামলাকারীদের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত এজাহার জমা দিয়েছি। জানতে চাইলে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ শামিনুল হক জানান, এঘটনায় অভিযোগ পাওয়া মাত্র ঘটনাস্থলে পুলিশ যেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। দোষিদের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া হয়েছে। মামলা নং-১৬ তারিখ ৭-১০-২০২৫।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *