নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল জেলার স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম মূল কেন্দ্র। দীর্ঘদিন ধরে এখানে অনিয়ম, দুর্নীতি ও রোগীর অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ শোনা গেছে। এই হাসপাতালকে ঘিরে বিগত দিনে প্রকাশিত সংবাদগুলো প্রমাণ করে যে, স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধির সঙ্গে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা কতটা জরুরি।

সম্প্রতি সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুস সালাম হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক, জরুরি বিভাগ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেবায় অনিয়ম, দালাল এবং স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে রোগী ভাগাভাগি বন্ধ করার পদক্ষেপ নিয়েছেন। এমন পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, কারণ মধ্যস্বত্বভোগী ও অনিয়মজনিত ব্যবস্থাপনা রোগীর সেবা প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত ও ব্যয়বহুল করে তোলে। এটি শুধু রোগীর অধিকার লঙ্ঘন করে না, বরং জনসাধারণের আস্থা হারানোর কারণেও পরিণত হয়।

ডা. আব্দুস সালামের উদ্যোগে হাসপাতাল থেকে অনিয়মকারী ও দায়িত্বহীন কর্মকর্তাদের সরানো হয়েছে, যা একটি সাহসী প্রশাসনিক পদক্ষেপ। পাশাপাশি হাসপাতালের আধুনিকীকরণ সিটি স্ক্যান এবং ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন স্থাপন রোগীর সেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এটি শুধু চিকিৎসা প্রক্রিয়া দ্রুত করবে না, বরং হাসপাতালকে একটি আধুনিক, জনবান্ধব ও নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

তবে এ ধরনের পদক্ষেপ শুধু প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের ওপর নির্ভরশীল হলে পর্যায়ক্রমিক ফলাফল নিশ্চিত করা যায় না। দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজন কৌশলগত পরিকল্পনা, নিয়মিত মনিটরিং, স্বচ্ছতা এবং রোগী-কেন্দ্রিক সংস্কৃতি। সাংবাদিক, নাগরিক এবং প্রশাসনের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা থাকলে হাসপাতালকে দুর্নীতি মুক্ত ও আধুনিকায়িত করা সম্ভব।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল একটি বাস্তব উদাহরণ যে, প্রশাসনিক সততা, সাহসী পদক্ষেপ এবং প্রযুক্তির ব্যবহার মিলিত হলে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করা সম্ভব। জেলার অন্যান্য হাসপাতালকেও এই মডেল অনুসরণ করা উচিত। জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনাই দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি।

স্বাস্থ্যসেবা কোনো কালে একটি প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের উদাহরণ দেখাচ্ছে যখন সাহসী নেতৃত্ব এবং স্বচ্ছ প্রশাসন মিলিত হয়, তখন অনিয়ম দূরীকরণ ও উন্নতমানের স্বাস্থ্যসেবা সম্ভব।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সার্বিক উন্নয়ন ও সেবার মান বৃদ্ধির বিষয়ে সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুস সালাম। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত দুর্নীতি ও অনিয়ম দূরীকরণে ইতিমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকসহ বিভিন্ন বিভাগের অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত মধ্যস্বত্বভোগী ও দালালদের সরানো হয়েছে, যাতে রোগীরা সরাসরি সরকারি সেবা নিতে পারেন।

তিনি আরও জানিয়েছেন, খুব শিগ্রই হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ও ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন স্থাপন করা হবে, যা জেলার সাধারণ মানুষকে আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা সহজলভ্য করবে। সিভিল সার্জন আশা প্রকাশ করেছেন, হাসপাতালটি এখন থেকে একটি দুর্নীতিমুক্ত, জনবান্ধব ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

সিভিল সার্জনের এই পদক্ষেপকে জেলা স্বাস্থ্যকর্মী ও স্থানীয়রা ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন। তারা আশা করছেন, নতুন প্রযুক্তি ও সেবার মান বৃদ্ধির সঙ্গে জনগণের আস্থা আরও শক্ত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *