মোঃ ওসমান গনি শুভ : পৃথিবীতে বর্তমানে যে কয়েকটি বড় যুদ্ধ হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম যুদ্ধ হলো ইসরায়েল- লেবানন যুদ্ধ বা ইসরায়েল- হিজবুল্লাহ যুদ্ধ। তাছাড়া রাশিয়া -ইউক্রেন যুদ্ধ চলছে সুদীর্ঘ তিন বছর ধরে। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন বর্তমানে কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধ বিরতিতে আছে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্র হল লেবানন। লেবাননের রাজধানীর নাম বৈরুত। হিজবুল্লাহ লেবাননের সশস্ত্র সামরিক সংগঠন যেটি লেবানন এবং তার সরকারকে চাপে এবং নিয়ন্ত্রণের রাখার চেষ্টা করে।
দক্ষিণ লেবাননের খিরবেত সাইলেম এখনো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে আছে। ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি তারিখ ইসরাইল লেবননের পাঁচটি সীমান্ত থেকে তাদের সৈন্য প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানায়।হিজবুল্লাহ তাদের সংগঠন পুনর্গঠন করতে মরিয়া হয়ে আছে। ২০২৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলের বিমান হামলায় প্রাণ হারায় হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ। সেই উপলক্ষে ২০২৪ সালের ২৩ শে ফেব্রুয়ারি শোকসভার আয়োজন করে হিজবুল্লাহ। শোকসভায় শিয়া সম্প্রদায় হিজবুল্লাহকে কঠোর সমর্থন জানায়। হিজবুল্লাহর ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক ওয়াফিক সাফা বলেন,হিজবুল্লাহ পূর্বের চেয়ে অনেক শক্তিশালী হয়ে ফিরবে। ১৯৮২ সালে ইসরায়েল লেবাননে আক্রমণ করলে আক্রমণের ক্ষোভ থেকে জন্ম নেয় সামরিক গেরিল সংগঠন হিজবুল্লাহ । ইসরায়েল হিজবুল্লাহকে অনেক বেশি ভয় পায়।
ইসরায়েল সৈন্য ফিরিয়ে নেওয়ার পূর্বে তারা লেবাননের বাড়িঘর সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস এবং পুড়িয়ে দিয়েছে। দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তে অবস্থিত কেফর কেলা শহর ভেঙে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বর্বর সেনাবাহিনী। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল “ফসফরাস বোমা” নিক্ষেপ করেছে যাতে লেবাননবাসীরা কৃষিকাজ এবং ফসল উৎপাদনে নামতে না পারে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দক্ষিণ লেবানন সীমান্তে “অঘোষিত বাফার জোন” এবং “নো ম্যানস ল্যান্ড” তৈরি করার চেষ্টা করছে। ইসরায়েলের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ফলে লেবাননবাসীরা ঘরে ফিরতে ভয় পাচ্ছে।
বাফার জোন এবং সীমান্তের পাঁচটি কৌশলগত পয়েন্ট দখল করে ইসরায়েল ভাবছে এটি হতে পারে গ্যালিলিও সেটেলমেন্টের নিরাপত্তা অঙ্গীকারপত্র। তাছাড়া ইসরায়েল ভাবছে সীমান্তে তাদের উপস্থিতির মানে তারা ইচ্ছামতো চলতে পারবে এবং যা খুশি তাই করতে পারবে এবং যে কাউকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে পারবে। উদাহরণস্বরূপ সাইদায় এলাকায় ইসরায়েল বাহিনী ড্রোন হামলা করে তারা একজন হিজবুল্লাহ পরিচালককে গুপ্তহত্যা করে। আকাশে অল্প উচ্চতায় উড়ে তারা লেবাননের জনগণের মনে উদ্বিগ্ন এবং ভীতি সঞ্চার করেছে।
ইসরায়েলি বাহিনী তাদের এই কাজের জন্য অনুশোচনা অনুভব করছে না বরং তারা যা খুশি তাই করছে।ইসরায়েল গাঁজা সীমান্তে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে এবং কোন সমালোচনার মুখোমুখি হয়নি। সুতরাং লেবানন সীমান্তেও আইন ভাঙার চেষ্টায় রত তারা।শিয়া সম্প্রদায় যে প্রচন্ড লড়াই করতে পারে এ কথা ভুলে যাচ্ছে ইসরায়েল। শিয়াদের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা হয়েছে বিমান হামলার মাধ্যমে। সুতরাং এখনই পুনরায় উত্থান হতে পারে হিজবুল্লাহর। ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে ইসরায়েলি বাহিনীদেরকে হিজবুল্লাহ আক্রমণ করতে পারে যার মাধ্যমে তেল আবিবের জেনারেলের মনে ভীতির সঞ্চার হবে। ইরান বিপ্লবের তিন বছর পর হিজবুল্লাহর উৎপত্তি যখন ইসরায়েল শুরুতে হামলা করে লেবাননে। ইরান বিপ্লবের প্রথম রপ্তানি বলা হয় হিজবুল্লাহর উত্থান। তাই এখনই মোক্ষম সময় হিজবুল্লাহর ইসরায়েলকে ঘায়েল করার।
লেখক- মোঃ ওসমান গনি শুভ
সাবেক শিক্ষার্থী, পালি এন্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।







