বাঁশখালী, চট্টগ্রাম, ১১ জুলাই ২০২৬: চট্টগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সার্বক্ষণিকভাবে তদারকি করছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তাঁর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় বন্যাকবলিত এলাকায় জরুরি বিদ্যুৎ সেবা সচল রাখার পাশাপাশি উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
আজ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাকে সঙ্গে নিয়ে বাঁশখালী উপজেলার বন্যাদুর্গত পুকুরিয়া, সাধনপুর, কালীপুর ও বাহাড়ছড়া ইউনিয়ন সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরে বাহাড়ছড়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে দুর্গত ২০০ পরিবারের মাঝে জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। প্রতিটি পরিবারকে ৫ কেজি চাল, ১ কেজি চিড়া, আধা কেজি মুড়ি, আধা কেজি গুড়, ৫টি স্যালাইন, ১ লিটার বিশুদ্ধ পানি, ১ কেজি লবণ, ১টি মোমবাতি, ১ প্যাকেট বিস্কুট এবং ১ পাতা প্যারাসিটামল প্রদান করা হয়।
এছাড়া আরও ১০০ জন দুর্গত ব্যক্তির মধ্যে ১০ কেজি করে চাল এবং ২০০ জনের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জেলার বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৬ লাখ ৬২ হাজার মানুষের সহায়তায় মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর বিশেষ তদারকিতে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৫৪০ মেট্রিক টন চাল এবং ৪৩ লাখ টাকা বরাদ্দ ও বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৭ হাজার ২৫০ প্যাকেট রান্না করা খাবার এবং ৩০ হাজার ৭০০ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
বন্যার কারণে জেলার ১৫টি উপজেলা ও চট্টগ্রাম মহানগরে ৫১৪টি সড়ক এবং ১৭৬টি সেতু-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ অবকাঠামোর যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা দ্রুত সংস্কার করে বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করতে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকৌশলী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন মাননীয় প্রতিমন্ত্রী। এ কাজে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), ফায়ার সার্ভিস এবং জেলা প্রশাসনের সমন্বিত টিম নিরলসভাবে কাজ করছে।
পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় দুর্গত এলাকায় শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিতে জেলা প্রশাসন দিনরাত কাজ করছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
পরিদর্শনকালে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম এবং জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।







