নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (খামারবাড়ি) কমপ্লেক্সে সুন্দরবন অঞ্চলে জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, মৎস্য চাষ, গবাদিপ্রাণি এবং জীবিকার ওপর স্থানীয় পর্যায়ের সমন্বয় ও যৌথ পরিকল্পনা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬) আয়োজিত কর্মশালাটির মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘জলবায়ু-সহনশীল জীবিকায়ন: স্থানীয় পর্যায়ের সমন্বয় ও যৌথ পরিকল্পনা’।

যুক্তরাজ্য সরকারের (UK International Development) অর্থায়নে, কেয়ার বাংলাদেশ (CARE Bangladesh) এর নেতৃত্বে ‘নবপল্লব’ (NABAPALLAB) কনসোর্টিয়ামের উদ্যোগে এবং কর্ডএইড (Cordaid) এর যৌথ আয়োজনে এই কর্মশালাটি বাস্তবায়িত হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সাতক্ষীরার উপপরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এডিশনাল ডিরেক্টর মোঃ রফিকুল ইসলাম।

কেয়ার বাংলাদেশ, ক্লাইমেট স্মার্ট লাইভলীহুড প্রাক্টিসেস এর রিজিওনাল ম্যানেজার লুৎফা পারভীন ও কর্ডএইড এর প্রোজেক্ট কোঅর্ডিনেটর মাসুদ রানার সঞ্চালন এ সময় উপস্থিত ছিলেন গ্রীন ইনোভেশন কেয়ার বাংলাদেশ এর ম্যানেজার আবিদুল কবিরসহ মৎস্য অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর, সমবায় ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় বক্তারা সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় পরিবেশ ও প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ টেকসই সমাধান বা ‘নেচার-বেসড সলিউশনস’ (NbS) এর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সাথে জলবায়ু অভিযোজন এবং স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করতে সরকারি বিভাগ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার এবং উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যকার সমন্বয় সুদৃঢ় করার আহ্বান জানানো হয়। কর্মশালার মূল উদ্দেশ্যসমূহ ছিল:
সহযোগিতা ও সমন্বয় সুদৃঢ়করণ: জলবায়ু অভিযোজন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টাকে জোরদার করতে বিভিন্ন সরকারি বিভাগ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।

জ্ঞান বিনিময় এবং যৌথ কার্যক্রমের প্রসার: কারিগরি সহায়তা ও সম্পদ সঞ্চালনের মাধ্যমে জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, অ্যাকুয়াকালচার ও গবাদিপ্রাণি সংক্রান্ত হস্তক্ষেপ, ইকোসিস্টেম বা বাস্তুতন্ত্রের পুনরুদ্ধার এবং জলবায়ু-স্মার্ট পুনরুৎপাদনশীল কৃষি অনুশীলনের প্রচার।

নীতিগত সামঞ্জস্যতা ও কার্যকর প্রতিশ্রুতি: স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা এবং জীবিকার মানোন্নয়নে নীতিগত সামঞ্জস্যতা রক্ষা, যৌথ পরিকল্পনা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার জন্য অগ্রাধিকারসমূহ চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।কনসোর্টিয়ামের সহযোগী অংশীদার হিসেবে এই প্রকল্পের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে সিএনআরএস (CNRS), সি৩ইআর (C3ER), ডিএসকে (DSK), ফ্রেন্ডশিপ (FRIENDSHIP) সহ বেশ কিছু উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা। উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু-স্মার্ট পুনরুৎপাদনশীল কৃষি,গবাদিপ্রাণি ও আধুনিক মৎস্য চাষের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে কর্মশালাটি সমাপ্ত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *